Showing posts with label ফিচার. Show all posts
Showing posts with label ফিচার. Show all posts

Thursday, March 9, 2017

গর্ভকালীন ৫ সাধারণ সমস্যা।

গর্ভকালীন ৫ সাধারণ সমস্যা।

গর্ভকালীন ৫ সাধারণ সমস্যা।

সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় একটা নারীর দেহ ও মনে ঘটে নানা রকম স্বাভাবিক পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া।অধিকাংশ নারীর এমন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যা সহজে মানিয়ে নেওয়ার  জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্ন। চলুন আমরা জেনে নিই এমন পাঁচটি সাধারন পরিচিত সমস্যার কথা।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পরই প্রচণ্ড বমি ভাব, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা ইত্যাদি উপসর্গের নাম মর্নিং সিকনেস। প্রথম সন্তান গর্ভ ধারণের সময় এই সমস্যা বেশি দেখা দেই এবং  প্রথম ও দ্বিতীয় মাসেই, অথবা তিন মাসের পর সাধারণত এ সমস্যা সেরে যায়। ২৫ শতাংশ নারীর এই সমস্যা একেবারে নাও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় রক্তে কিছু হরমোনের পরিমাণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা দেখা দেই।

মর্নিং সিকনেস থেকে রক্ষার উপায়-
  • সকালে একবারে বেশি কিছু না খেয়ে অল্প অল্প করে শুকনো খাবার, যেমন টোস্ট বিস্কুট ও আমিষসমৃদ্ধ খাবার খান।
  • তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, যে খাবার দেখলে বা খেলে বমির উদ্রেক হয় তাও এড়িয়ে চলুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতে পারেন।
  • অতিরিক্ত বমি হলে বা পানিশূন্যতা বা লবণশূন্যতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
পায়ে পানি আসা-
গর্ভাবস্থায় পায়ে অল্প পানি জমাটা স্বাভাবিক। এ জন্য আতঙ্কিত হওয়ার বা চিকিৎসা নেওয়ারও কিছু নেই।

  • ১. বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকবেন না, পায়ের নিচে মোড়া বা টুল দিন।
  • ২. খাবারে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন।
  • ৩. বিশ্রাম বা ঘুমের সময় পায়ের নিচে বালিশ দিতে পারেন।
  • ৪. পা অনেক বেশি ফুলে গেলে, যদি দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, মাথা ব্যথা হয় বা রক্তচাপ বেড়ে যায় তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
কোমর ব্যথা-
৫০ শতাংশ মেয়ে কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হয়। ওজন বৃদ্ধি ও অস্থিসন্ধির শিথিলতা এর জন্য দায়ী। তবে উঁচু হিলের জুতা পরা, প্রস্রাবে সংক্রমণ বা কোষ্ঠকাঠিন্যও এর কারণ হতে পারে। পা উঁচু করে বিশ্রাম নিলে কিছুটা আরাম পাবেন। সঠিক ভঙ্গিতে শোয়া বা বসা, শক্ত বিছানা ব্যবহার করা, কোমরে মালিশ বা সেঁক এবং বেশি ব্যথা হলে পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন।
ঘন ঘন প্রস্রাব
৮ থেকে ১২ সপ্তাহে এই বিরক্তিকর সমস্যা দেখা দেয়। জরায়ুর আকার বড় হওয়ার কারণে মূত্রথলিতে চাপ দেয় বলে এমন ঘটে। ১২ সপ্তাহের পর সেরে গেলেও শেষ দিকে শিশুর মাথা নিচে নামতে শুরু করলে মূত্রথলিতে চাপ দিলে আবার দেখা দেয়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা তলপেটে ব্যথা না থাকলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
পেট শক্ত হয়ে আসা

মাঝেমধ্যে পেশির সংকোচনের জন্য পেট শক্ত হয়ে আসে। সাধারণত ব্যথা থাকে না এবং একটু পর নিজেই চলে যায়। তবে ব্যথা যদি থাকে ও তীব্রতা বাড়তে থাকে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবে সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা করুন।
ডা. উম্মে রুমান
 বারডেম হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারি ০২, ২০১৩
ট্যাগস: উম্মে রুমান • জরায়ু • শিশু • সন্তান


Wednesday, March 8, 2017

ওজন কমাতে সহজ কিছু উপায় এবং আপনার করনীয়।

ওজন কমাতে সহজ কিছু উপায় এবং আপনার করনীয়।

ওজন কমাতে সহজ কিছু উপায় এবং আপনার করনীয়।

শরীরে বাড়তি ওজন সৃষ্টিতে শর্করাজাতীয় খাবার বেশি প্রভাব বিস্তার করে।তাই আমরা মনে করি, শর্করাজাতীয় খাবার বর্জন ওজন কমানোর চাবিকাঠি। কারণ, শকর্রাবর্জিত খাবার দিনের পর দিন খেতে থাকলে শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। হয়তো দু-চার দিন এ ধরনের খাবার গ্রহণ করা যায়, দিনের পর দিন নয়। যেমন—মাছ, মাংস, ডিম, তেল, ঘি, মাখন এগুলো একেবারেই শর্করাবর্জিত খাবার। ভাবুন তো, এসব খাবার খেয়ে কি জীবন কাটাতে পারবেন? আসলে সবই খেতে হবে, তবে তা হওয়া উচিত পরিমিত।

শর্করাজাতীয় খাবার কতটুকু খাওয়া যাবে বা যাবে না সে ব্যাপারে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান আখতারুন নাহার বলেন, শর্করা শক্তির অন্যতম উৎস। পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, মানুষের প্রতিদিনের খাবারে মোট ক্যালরির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ শর্করা থাকা উচিত। তবে যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে শর্করার অংশটি ভাত-রুটি ইত্যাদি মিলে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ হলেই ভালো হয়।
আখতারুন নাহারের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে তাদের খাবারে অবশ্যই শরীর গঠনকারী উপাদান বা দুধ থাকতেই হবে। যদিও দুধে আছে পর্যাপ্ত শর্করা। খাবারের মধ্যে শর্করা থাকে বিভিন্ন রূপে। যেমন—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ, সুক্রোজ, মল্টোজ। আমাদের দেহের কার্যপ্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ প্রয়োজনীয় উপাদান। ফ্রুক্টোজ হলো ফলের চিনি। সুক্রোজ প্রায় সব উদ্ভিদেই কমবেশি থাকে। তবে আখ ও বিটে থাকে উচ্চমাত্রায়। এ জন্য এই দুটো দিয়ে সহজেই চিনি তৈরি করা যায়। ল্যাক্টোজ হলো দুধের চিনি। অঙ্কুরিত শস্যের মধ্যে মল্টোজ থাকে। গ্লুকোজ একাই স্নায়ুতন্ত্রের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এ কারণে শর্করাজাতীয় খাবারের অভাবে শরীরে দহন ক্রিয়া থেমে যায়। এর ফলে কিটোন বডি নামে শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ উৎপন্ন হয়। শর্করা বাদ দেওয়া যেমন খারাপ, তেমনি অতিরিক্ত শর্করা খাওয়াও ক্ষতিকর। কেননা অতিরিক্ত শর্করা শরীরে চর্বি তৈরি করে। ফলে ওজন বেড়ে যায় ও অন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এ জন্য শর্করা খেতে হবে সীমিত পরিমাণে, তবে একেবারে বর্জন নয়।
শিশু, কিশোর ও বয়স্কদের বেলায় একইভাবে জাঙ্ক ফুড অর্থাৎ পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, কোমলপানীয় বন্ধ করে সুষম খাবার গ্রহণ করা উচিত। কারণ, জাঙ্ক ফুডে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। সুষম খাবার গ্রহণ করতে গেলে খাবারের সব কয়টি উপাদান যেমন—আমিষ, শর্করা, চর্বি যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু খেতে হবে।

মোট কথা হলো, কোনোটাই বাদ দেওয়া যাবে না আবার কোনোটাই অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। কাজেই আমাদের সকল খাবার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ম মেনেই খেতে হবে। তাহলে আমরা আমাদের শরীরকে সুস্থ সাবলীল রাখতে সক্ষম হব।

গ্রন্থনা: মো. শরিফুল ইসলাম
জানুয়ারি ০৮, ২০১৪
মডেল: মাহা। ছবি: অধুনা
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে যা যা করনীয়।

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে যা যা করনীয়।

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে যা যা করনীয়।

“ব্যায়াম করার সময় পাই না” স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনায় বসলে এই কথা শোনা যাবেই। ব্যস্ত জীবনে কথাটি পুরোপুরি মিথ্যাও নয়, তবে অভ্যাসে তৈরি করতে দরকার চর্চা।

আর পুরোটাই নির্ভর করে আপনার উপর। তাই ব্যস্ত জীবন থেকে শরীরচর্চার জন্য একটু সময় বের করে নিতে হবে, নিজের স্বার্থেই। উপায় জানাচ্ছে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইট।

বাড়তি নড়াচড়া: প্রতিদিনের রুটিন যাই হোক না কেনো, আলসভাব ঝেড়ে ফেলে নড়াচড়ায় মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে। এতে শরীর এবং বিপাক প্রক্রিয়া কর্মঠ ও সচল থাকবে। মাঝে মধ্যে অফিসে ওঠার সময় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন।
হাঁটাহাঁটি: গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিক্সা, বাস যে যানবাহনেই অফিস যান না কেনো অফিসের গেইট থেকে একটু দূরে নেমে হেঁটে অফিস যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রয়োজনে গেইট থেকে সবচাই দূরের পার্কিংয়ের স্থানে গাড়ি বা মোটরসাইকেল রাখতে হবে।

এক জায়গায় জগিং: অফিস কিংবা বাসায় একস্থানে দাঁড়িযে জগিং করতে পারেন। এসময় হালকা পড়াশোনা বা অফিসের ফাইলপত্রে চোখ বুলিয়েও নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে অফিসের কারও যেন বিরক্তির কারণ না হন।

ভার উত্তোলন: ওজন ওঠানো মানে ব্যায়ামাগারে গিয়ে ভারী ডাম্বেল ওঠানো নয়। বাজারের ব্যাগ বয়ে আনা, ঘর পরিষ্কারের সময় সোফা, খাট ইত্যাদি নড়ানো বা ওঠানো ইত্যাদি গৃহস্থালী খুঁটিনাটি কাজে সেচ্ছায় হাত লাগান। কিংবা টিভি দেখা বা ফোনে কথা বলার সময় এক হাতে হালকা কোনো ওজন ওঠাতেও ক্ষতি নেই।
বাইরে কাজ: ঘরের বাইরের খুঁটিনাটি কাজগুলো স্বাস্থ্যবান থাকার একটি ভালো উপায়। পোর্কে হেঁটে আসা, দোকান থেকে কিছু কিনে আনা, প্রতিবেশির সন্তানের সঙ্গে হালকা খেলাধুলা ইত্যাদি। ইচ্ছা থাকলে আরও অনেক উপায় বের হবে আপনার মাথা থেকেই।

দলে যোগ দেওয়া: আপনার মতোই সুস্থ-সুঠামদেহ চায় এমন দলে যোগ দিন। এতে অনুপ্রেরণা পাবেন, পাশাপাশি বেরিয়ে আসবে সুস্থ থাকার আরও অনেক উপায়।

ছবিঃ রয়টার্স।
সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশকালঃ ২০১৬-১০-০৮