Showing posts with label বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী. Show all posts
Showing posts with label বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী. Show all posts

Wednesday, August 1, 2018

বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ  পল এন্থনি স্যামুয়েলসনের জীবনী।

বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ পল এন্থনি স্যামুয়েলসনের জীবনী।

বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ  পল এন্থনি স্যামুয়েলসনের জীবনী। 

পল এন্থনি স্যামুয়েলসন (15 মে, 1915 - 13 ডিসেম্বর ২009) একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং অর্থনীতি বিজ্ঞান বিভাগে নোবেল মেমোরিয়াল পুরষ্কার জেতার প্রথম আমেরিকান ছিলেন। সুইডিশ রয়েল একাডেমী বলেন, 1970 সালে পুরস্কার প্রদান করে, তিনি "অর্থনৈতিক তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাত্রা বাড়াতে যে কোন সমসাময়িক অর্থনীতিবিদের চেয়ে আরও বেশি কিছু করেছেন"। পার্কার তাকে "মডার্ন ইকোনোমিকের পিতা" বলে সম্বোধন করেছেন, [5] এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস তাকে "বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ অর্থনীতিবিদ" বলে মনে করে। [6]

স্যামুয়েলসন সম্ভবত ২0 তম শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ ছিলেন। [7] 1996 সালে, যখন তিনি আমেরিকা এর শীর্ষ বিজ্ঞান-সম্মান বলে বিবেচিত জাতীয় মেডেল অব সাইন্স, রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন স্যামুয়েলসনকে "অর্থনৈতিক বিজ্ঞানের মৌলিক অবদান" -এর জন্য 60 বছরেরও বেশী প্রশংসা করেন। [4] স্যামুয়েলসন গণিতবিদদের অর্থনীতিবিদদের জন্য "প্রাকৃতিক ভাষা" বলে মনে করতেন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ফাউন্ডেশনের বইয়ের সাথে অর্থনীতির গাণিতিক ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। [8] তিনি সর্বকালের সেরা বিক্রয় অর্থনীতি পাঠ্যপুস্তক লেখক ছিলেন: অর্থনীতি: একটি পরিচায়ক বিশ্লেষণ, প্রথম প্রকাশিত হয় 1948 সালে। [9] এটি দ্বিতীয় আমেরিকান পাঠ্যপুস্তক ছিল যা কেনিসিয়ান অর্থনীতির মূলনীতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিল এটি এখন তার 19 তম সংস্করণে 40 টি ভাষায় 4 মিলিয়ন কপি বিক্রি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ান, ফ্রেঞ্চ, গ্রিক, স্লোভাক, চীনা, পর্তুগিজ, জার্মান, স্প্যানিশ, পোলিশ, জাপানীজ, চেক, ভিয়েতনামিজ, হাঙ্গেরিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, সুইডিশ, ক্রোয়েশীয় , ডাচ, তুর্কি, হিব্রু, ইতালীয় এবং আরবি। [10] এমআইটি এর অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান জেমস পটারবারা তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে স্যামুয়েলসন "একজন গবেষক ও একজন শিক্ষকের মতো বিশাল এক ঐতিহ্যকে রেখেছেন, যেহেতু প্রতি সমসাময়িক অর্থনীতিবিদদের কাঁধে থাকা এক দৈত্যদের মধ্যে একজন"। [4]
বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ  পল এন্থনি স্যামুয়েলসনের জীবনী
Paul Samuelson -http://www.topbanglapages.com
তিনি 16 বছর বয়সে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে মহামন্দার গভীরতার সময় প্রবেশ করেন এবং হার্ভার্ডের অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করেন। স্নাতক হওয়ার পর, তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) এর অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হয়েছিলেন, যখন তিনি ২5 বছর বয়সে এবং 32 বছর বয়সে পূর্ণ অধ্যাপক ছিলেন। 1966 সালে, তিনি এমআইটি এর সর্বোচ্চ অনুষদ সম্মানিত ছিলেন। [4] তিনি এমআইটিতে তার কর্মজীবন কাটিয়ে ওঠেন, যেখানে তিনি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের রবার্ট এম সোলো, ফ্রাঙ্কো মোডিগলিয়ানি, রবার্ট সি মর্টন, জোসেফ ই। স্টিগ্লিটজ , এবং পল ক্রুডম্যান, যাদের সবাই নোবেল পুরস্কার জিতেছিল।স্যামুয়েলসন এছাড়াও একটি প্রভাবশালী নীতির পাঠ্যপুস্তক, অর্থনীতি, লেখক (এবং 1985 থেকে সহ - লেখক) প্রথম 1948 সালে প্রকাশিত, এখন তার 19 তম সংস্করণে। বইটি চল্লিশ-এক ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে এবং চার মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে; এটি ইতিহাসের সেরা বিক্রি অর্থনীতি পাঠ্যপুস্তক বলে মনে করা হয়। [উদ্ধৃতি প্রয়োজন] স্যামুয়েলসন একবার বলেছিলেন, "যদি আমি তার পাঠ্যবইগুলি লিখতে পারি তবে দেশের আইনগুলি লিখতে দিন।" [২9] গ্রেটের ছায়ায় লিখিত বিষণ্ণতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, এটি জন মায়নার্ড কেইনসের অন্তর্দৃষ্টিকে জনপ্রিয় করার জন্য সাহায্য করেছিল। একটি প্রধান ফোকাস ছিল কিভাবে এড়ানোর জন্য, বা অন্তত কম, অর্থনৈতিক কার্যকলাপ মধ্যে।

স্যামুয়েলসন লিখেছেন: "এই মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা [গ্রেট ডিপ্রেশন] যথাযথভাবে পূরণের জন্য বিশ্বের ব্যর্থতা থেকে কোনও ক্ষুদ্র পরিমাপের মধ্যে একনায়কত্বের ব্যাপক সৃষ্টি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপক সৃষ্টি বলে দাবি করা খুব কঠিন নয়।" [30] এটি যুদ্ধের অর্থনৈতিক কারণ এবং শান্তি উন্নয়নে অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্ব দিয়ে কেইন নিজেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে। [31]

স্যামুয়েলসনের প্রভাবশালী পাঠ্যবইটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে তুলনামূলক বৃদ্ধি হার সহকারে সমালোচিত হয়েছে, যা ঐতিহাসিক জিএনপি পার্থক্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। [32] 1 9 77 সংস্করণটি 1977 থেকে 1995 সালের মধ্যে সোভিয়েত / মার্কিন বাস্তব জিএনপি প্যারিটির সম্ভাবনাকে সম্প্রসারিত করে। প্রতিটি পরবর্তী সংস্করণটি ভবিষ্যতে আরও একটি তারিখ পরিসর বিস্তৃত করা না হওয়া পর্যন্ত 1985 সালের সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হয় না। [33]

1989 সালে স্যামুয়েলসন, সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতি এবং মার্কসবাদ সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন: "অনেক সন্দেহভাজনরা আগে বিশ্বাস করেছিল যে, সোভিয়েত অর্থনীতিই প্রমাণ করে যে ... একজন সমাজতান্ত্রিক, কমান্ড অর্থনীতি কাজ করতে পারে এবং এমনকি সফলও হতে পারে।" [34] 1989 সালের বিপ্লব একই বছরে ঘটেছে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের দুই বছর পর এটি ভেঙ্গে যায়।

স্যামুয়েলসনের বইটি দ্বিতীয়টি ছিল যা ব্যাপক দর্শকদের কানেসিয়ান অর্থনীতিতে প্রবর্তন করার চেষ্টা করেছিল, তবে সবচেয়ে সফল এক দ্বারা এখনও পর্যন্ত। কানাডার অর্থনীতিবিদ লরি টারশিস, যিনি 1 9 30 সালে হার্ভার্ডে কেইনসের বক্তৃতাতে যোগদানকারী ছাত্র ছিলেন, তিনি 1947 সালে প্রকাশিত একটি প্রারম্ভিক পাঠ্যপুস্তকে তার তরীশীষের বক্তৃতা নোটগুলি অন্তর্ভুক্ত করেন, যা দ্য এলিমেন্টস অব ইকোনমিক্স নামে পরিচিত। [35] এটি একটি "সমাজতান্ত্রিক বৈধর্ম্য" প্রচার হিসাবে আমেরিকান কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় যাও ট্রাস্টি, এবং দাতাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। [21] উইলিয়াম এফ। বক্লি জুনিয়র "কমিউনিস্ট অনুপ্রাণিত" হিসাবে তরীশী বিশ্লেষণের উপর আক্রমণ করে। [3

তিনি প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এবং লিনডন বি জনসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি, বাজেট ব্যুরো এবং অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের কাউন্সিল ছিলেন। স্যামুয়েলসন শিকাগো স্কুল অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যানের সাথে নিউজউইক ম্যাগাজিনের জন্য একটি সাপ্তাহিক কলাম লিখেছিলেন, যেখানে তারা বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব করেছিল: স্যামুয়েলসন, যেমন "স্বয়ং ক্যাফেটেরিয় কিসেসিয়ান" বর্ণনা করেছেন [7] কেনিসিয়ান দৃষ্টিকোণ থেকে দাবি করেছেন কিন্তু তিনি যা অনুভব করেছিলেন তা গ্রহণ করতে পেরেছিলেন। এটা। [7] বিপরীতভাবে, ফ্রাইডম্যান মেনডারার দৃষ্টিকোণকে প্রতিনিধিত্ব করেন। [11] স্যামুয়েলসন 13 ডিসেম্বর ২009 তারিখে 94 বছর বয়সে মারা যান।
বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ  পল এন্থনি স্যামুয়েলসনের জীবনী
Paul Samuelson -http://www.topbanglapages.com


Wednesday, May 2, 2018

বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনী।

বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনী।

 বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনীঃ

 ১.পাবলো পিকাসোঃ

বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনী,পাবলো পিকাসোর জীবনী

১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে অক্টোবর স্পেনের শহর মালাগায় জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম ছিল মারিয়া পিকাসো ই লোপেজ এবং পিতার নাম খোসে রুইজ ব্লাস্কো। কথিত আছে পিকাসো ভুমিষ্ট হওয়ার পর ধাত্রী ভেবেছিলেন মৃতশিশুর জন্ম হয়েছে। এই কারণে ধাত্রী শিশুটিকে একটি টেবিলের উপর রেখে তার মায়ের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় পিকাসোর চাচা এগিয়ে এসে মুখে থাকা সিগারেটের ধোঁয়া শিশুটির মুখে নিক্ষেপ করেন। এরপর পিকাসো নড়েচড়ে উঠেন। পিকাসোর ছবি আঁকায় হাতে খড়ি হয় তাঁর পিতার কাছে। উল্লেখ্য তাঁর পিতা ছিলেন স্থানীয় চিত্রকলা বিদ্যায়তনের প্রশিক্ষক। শিক্ষানবীশকালে তাঁর আঁকা প্রথম ছবিটি হলো "The picador"। এই ছবিটি তিনি এঁকেছিলেন ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে। 

পিকাসো ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ইউরোপের শিল্প-সাংস্কৃতিক রাজধানী প্যারিসে এলেন। তিনি তাঁর প্যারিসের একজন বন্ধু ম্যাক্স জেকব-এর সাথে দেখা করলেন। জ্যাকব ছিলেন সাংবাদিক এবং কবি। এই বন্ধুর কাছে তিনি ফরাসি ভাষা এবং সাহিত্যের সাথে পরিচিত হলেন। একসময় তাঁরা একত্রে একটি বাসা নিলেন। অর্থের সাশ্রয়ের জন্য একটি বাসা ভাগাভাগি করে তাঁরা বাস করতেন। জেকব রাতে ঘুমাতেন আর দিনে কাজ করতেন। অন্যদিকে পিকাসো রাতে কাজ করতেন, আর দিনে ঘুমাতেন। এই সময় উভয়ের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, পিকাসোর অনেক কাজ আগুনে পোড়াতেন ঘর গরম রাখার জন্য। এর ভিতরে যে চিত্রকর্মগুলো টিকে গিয়েছিল, তার সংখ্যাও কম নয়। ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর ভিতরে যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। সেখান থেকে পুরো বেরিয়ে আসতে পারেন নি এই বৎসরে। এই সময় পিকাসো কিছু অভিব্যক্তিবাদী ছবি এঁকেছেন। এই জাতীয় ছবিকে চিত্র-সমালোচকরা নাম দিয়েছেন অন্তর্মুদ্রাবাদী-উত্তর চিত্র। এই জাতীয় ছবির সাথে তিনি প্রতীকধর্মী মাত্রা যুক্ত করার কাজ করেছেন এই বৎসরেই। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই এপ্রিল ৯১ বছর বয়সে ফ্রান্সের মুগী শহরে তিনি মৃতুবরণ করেন।

২.লিওনার্দো দা ভিঞ্চিঃ 

 লিওনার্দো দা ভিঞ্চির জীবনী,বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনী

ইতালিতে ফ্লোরেন্স শহরের কাছে ভিঞ্চি বলে একটি গ্রাম আছে । সেই গ্রামে ১৪৫২ খ্ৰীষ্টাব্দে লিওনার্দোর জন্ম হয়। তার নামের সঙ্গে ওই ছোট গ্রামটির নামও জগৎ-বিখ্যাত হয়ে রয়েছে। এতটুকু বয়স থেকেই নানা দিকে তাঁর প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যেতে লাগল। কোনো একটা বিষয় নিয়ে পড়লে তিনি কিছুদিনের মধ্যেই তাতে রীতিমতো পারদর্শী হয়ে উঠতেন। কিন্তু তার পরেই তিনি সে বিষয়টিকে ছেড়ে দিয়ে অন্য আর এক বিষয়ের চর্চা শুরু করতেন। কেবল সারা জীবন ধরে তিনি একটি বিষয় সম্বন্ধে একনিষ্ট উৎসাহের পরিচয় দিয়ে গিয়েছেন — সেটি হল চিত্ৰকলা। ইতালিতে তখন ভেরোচ্চিও বলে একজন চিত্রকর ছিলেন। খুব তার নামডাক। বালক লিওনার্দো তাঁরই কাছে শিক্ষানবিশি করেছিলেন। গুরুদেব ভাবলেন, বালক লিঅনার্দেকে একটুখানি সুযোগ দেওয়া যাক। লিওনার্দোকে বললেন, ওই বড়ো ছবির এক জায়গায় একটি পরী আঁকতে। তার পরীটি আঁকা যেদিন শেষ হল, সেদিন সকলে একেবারে স্তম্ভিত। ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কারুরই আর যেন নিঃশ্বাস পড়ে না, এমন অপরূপ। ভেরোচ্চিও দেখলেন, অতটুকু ছেলে যে রকম ছবি এঁকেছে তা তিনি নিজে কোনোদিনই আঁকতে পারবেন না। তাই তারপর তিনি জীবনে আর কখনো তুলি বুরুশ হাতে নেন নি। লিওনার্দোর সবচেয়ে বিখ্যাত ছবিটির নাম কে না জানে। মোনালিসা। মাপ জোকের দিক থেকে ছবিটি খুব বড় নয়। তিন ফুট উঁচু আর দু ফুট চার ইঞ্চি চওড়া। একটি মহিলার ছবি — তাঁর মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। এ হাসির মানে যে ছিল কী, তা ভাবতে ভাবতে সকলেই বিস্মিত হয়ে যায়। পটভূমিতে এক টুকরো প্রাকৃতিক দৃশ্য। কিন্তু তার পুরোটাই হল ছবির মহিলাটির মনের ভাবটিকে ফুটিয়ে তোলবার জন্যে।

হৈ চৈ পড়ে গেল সারা ইতালিতে। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি! আবির্ভাব হয়েছে এক আশ্চর্য শিল্পীর। মিলান শহর থেকে আমন্ত্ৰণ এল। সেইখানে তিনি তার “লাস্ট সাপার” বলে বিখ্যাত ছবিটি এঁকেছিলেন। কিন্তু তড়িঘড়িতে ছবি এঁকে ফেলা তার ধাতে ছিল না। মিলান-এ গিয়ে তিনি খান দান, ঘুরে বেড়ান। একদিন যেখানকার ডিউক তঁকে বললেন, ব্যাপার কী — অনর্থক সময় নষ্ট করছেন কেন? জবাবে লিওনার্দো শান্ত গলায় বললেন, ছবিটি শুরু করার আগে ছবির প্রত্যেকটি মুখ স্পষ্টভাবে ভেবে নেওয়া দরকার। কিন্তু জুডাস এর মতো একটা মুখ ভেবে ঠিক করা বড় কঠিন। প্রভূ যীশুর কাছ থেকে অত সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও যে লোক শেষ পর্যন্ত যীশুর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তার মুখটা ভাবতে পারা তো সহজ কথা নয়। তবে আপনার সময় বাঁচাবার জন্য ভাবছি, স্থানীয় প্রধান পুরোহিতের মুখটিকেই জুডাসের মুখ হিসাবে ব্যবহার করে ছবিটা শুরু করে ফেলি। এই শান্ত বিদ্রুপের দরুণ ডিউকের মুখ একেবারে চুন। বুঝলেন কাজ নেই ঘাঁটিয়ে। যখন খুশি ছবি আঁকলেই হবে। সমঝদাররা বলেন, এইখানেই লিওনার্দোর প্রতিভার আসল পরিচয়। বাইরের পৃথিবীর চেয়ে মানবজগতের খবর দেওয়াই তার ছবির আসল উদ্দেশ্য। আর, মানুষের মন যে কী অপরূপ, কী বিচিত্র যে সম্বন্ধে আমরা চমকে সচেতন হই মোনালিসার ছবি দেখতে দেখতে।এই মহান চিত্রশিল্পী ১৫১৯ সালে ২রা মে  ফ্রান্সে মৃত্যুবরণ করেন।

৩.ভিনসেন্ট ভ্যান গগঃ

বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনী,ভিনসেন্ট ভ্যান গগের জীবনী

ভিনসেন্ট উইলিয়াম ভ্যান গখ  ৩০ মার্চ ১৮৫৩ সালে নেদারল্যান্ডের বেরাইড শহরের কাছে গ্রুট জুন্ডার্থ নামে একটি ছোট গ্রামেরে একটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের পর পিতামহের নামে তার নাম করা করা হয়। সেই সময়ে পূর্বপুরুষদের নামের নবজাতকের নামকরনের প্রচলন ছিল। শৈশবে তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন। ১৮৬০ সালে তিনি জুন্ডার্থ গ্রামের একটি স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলে মাত্র একজন ক্যাথলিক শিক্ষক ২০০ জন ছাত্রকে লেখাপড়া করাতেন। একজন প্রধান পোস্ট-ইমপ্রেশনিজ্‌মবাদী ওলন্দাজ চিত্রশিল্পী। রুক্ষ সৌন্দর্যের এবং আবেগময় সততার প্রকাশ, সপ্রতিভ রং এর ব্যবহারের কারণে তাঁর কাজ বিখ্যাত ছিল যা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলায় সুদূরপ্রসারি প্রভাব রেখেছিলো। তিনি ছোট বয়স থেকেই আঁকাআঁকি শুরু করেন। কিন্তু মধ্য বিশের পরে তিনি চিত্রকর্ম আঁকা শুরু করেন অসংখ্য বিখ্যাত চিত্রকর্ম তাঁর জীবনের শেষ দুই বছরে আঁকা। প্রতিকৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, সূর্যমুখী ফুল, গমের ক্ষেত ইত্যাদি তাঁর আঁকার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল। ১৮৭৯ সাল থেকে তিনি বেলজিয়ামের একটি খনির অঞ্চলে একজন ধর্মপ্রচারক হিসেবে কাজ করেন যেখানে তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষের স্কেচ করতে শুরু করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি তাঁর প্রথম প্রধান কাজ আলু খাদক আঁকেন। তাঁর তখনকার কাজগুলো প্রধানত গুরুগম্ভীর ছিলো এবং কোনো প্রগাঢ় রঙের চিহ্ন ছিলো না যা তাঁর পরবর্তী কাজগুলো থেকে আলাদা। মাত্র এক দশকে তিনি ২,১০০-এর বেশি চিত্রকর্ম আঁকেন, যার মাঝে ৮৬০টি তৈলচিত্র এবং ১,৩০০-এর বেশি জল রং, অঙ্কন, নকশা এবং চিত্র ছিলো। কুৎসিত মুখাকৃতির ও জীবনের প্রতি প্রবল হতাশায় ভুগে ১৮৯০ সালের ২৯ জুলাই মাত্র ৩৭ বছর বয়সে রিভলভার দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

৪.সালভাদর দালিঃ

 সালভাদর দালির জীবনী,বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনী

সালভাদর দালি পরাবাস্তববাদী ধারার জগদ্বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। পুরো নাম সালভাদর দোমিঙ্গো ফেলিপ জ্যাকিন্তো দালি ই দোমেনেক। ১৯০৪ সালের ১১ মে স্পেনে জন্ম। ১৯২২ সালে দালি মাদ্রিদের রেসিডেন্স দ্য স্টুডেন্টের ফাইন আর্টস বিভাগে যোগ দেন। এখানেই তাঁর পরিচয় ঘটে স্পেনের বিখ্যাত কবি ও নাট্যকার ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা ও চলচ্চিত্রকার লুই বুনুয়েলের সঙ্গে। দালি-বুনুয়েল মিলে তৈরি করেন দুটি সুররিয়ালিস্ট চলচ্চিত্র। ১৯২৫ সালে দালির প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী হয় বার্সেলোনায়। সেখান থেকেই শুরু সাফল্যের যাত্রা। পরে প্যারিসে গিয়ে তিনি দাদাইজম ও সুররিয়ালিস্ট ধারার কাজের সঙ্গে পরিচিত হন। এ সময় পাবলো পিকাসোর কাজ দ্বারাও প্রভাবিত হন দালি। জলরং, তেলরং, ড্রইং, লিথোগ্রাম, কোলাজ, কাচ ও ক্রিস্টাল পাথর প্রভৃতির মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। স্বপ্ন, কল্পনা, নির্মোহ বাস্তবতা ও মানুষের মনোজগৎ বিশ্লেষণে দালির ছবি আজও জগদ্বিখ্যাত। তাঁর নবিলিটি অব টাইম, প্রোফাইল অব টাইম, পারসিসটেন্স অব মেমোরিকে বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুররিয়ালিস্ট ছবির তালিকায় রাখা হয়। 'দ্য পারসিসটেন্স অব মেমোরি' তিনি আঁকেন ১৯৩১ সালে। দালির জীবনে তাঁর স্ত্রী গালার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দালি হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালের ২৩ জানুয়ারি এই মহান শিল্পী মারা যান।

৫.ফ্রান্সিস্কো গোয়াঃ

বিশ্ব বিখ্যাত ৫ জন চিত্রশিল্পীর জীবনী,ফ্রান্সিস্কো গোয়ার জীবনী

ফ্রান্সিস্কো হোসে দে গোয়া ই লুসিয়েন্তেস ৩০ মার্চ ১৭৪৬ সালে স্পেনের এরাগন শহরে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম জোসে বেনিটো ডি গয়া ফ্র্যঙ্ক এবং মাতার নাম গ্রাসিয়া ডি লুসিয়েন্টেস সালভেদর। গয়ার পিতা ছিলেন একজন স্পেনিয় আদিবাসী। ফ্রান্সিসকো গয়া ছিলেন একজন স্প্যানিশ রোমান্টিক চিত্রকর ও প্রিন্টপ্রস্তুতকারক। চিত্রকলার ওল্ড মাস্টার যুগের শেষ ও আধুনিক যুগের প্রথম চিত্রকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি স্প্যানিশ রাজার দরবারের একজন রাজচিত্রকর ছিলেন। তার চিত্রগুলোর ভিতর দিয়ে একইসঙ্গে তার যুগের ঘটনাবলী ও সেসব ঘটনার বিশ্লেষণ ফুটে উঠে। তার শিল্পচর্চার রীতিবিরুদ্ধ কল্পনাপ্রয়াসী উপাদান ও একই সঙ্গে রং-এর সাহসী ব্যবহার পরবর্তী প্রজন্মের চিত্রকর যেমন এদুয়ার মানে, পাবলো পিকাসো, ও ফ্রান্সিস বেকনের নিকট আদর্শ হিসেবে কাজ করেছে। ১৭৮৩ সালে স্পেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তার পোর্টেট তৈরী করার জন্য গয়াকে নিয়োগ করেন। সেই সময় ক্রাইন প্রিন্স ডন লুই এর সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৭৮৬ সালে রাজা তাকে বেতনভোগী রাজচিত্রকর হিসাবে নিয়োগ দেন। রাজা চতুর্থ চার্লসের সময়ে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সম্মানজনক অবস্থানে পৌছান। ১৮০৮ সারে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী নেপোলিয়নের ভ্রাতা প্রথম জোসেফের নের্তৃত্বে স্পেন আক্রমণ করলে পেনিনসুলা যুদ্ধ শুরু হয়। গোয়া নতুন রজার দরবারেও তার স্থান করে নেন। ১৮১৪ সালে স্পেনের রাজা সপ্তম ফার্ডিনান্ড পুনরায় সিংহাসন ফিরে পেলে গোয়া ফ্রান্সদের সাথে কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। ১৮১২ সালে তার স্ত্রী জোসেফা মারা যান। ফ্রান্সিসকো গয়া ১৬ এপ্রিল ১৮২৮ (৮২ বছর)বয়সে বোর্দেক্স, ফ্রান্সে মারা যান।

 বিস্তারিত ভিডিও টির মাধ্যমে দেখুনঃ

        

Friday, April 27, 2018

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনীঃ  

পৃথিবী সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে অনেক পন্ডিত, গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী,দার্শনিকের জন্ম হয়েছে। তবে আজকে পৃথিবীর বিখ্যাত ৭ জন গনিতবিদের জীবনী সংক্ষিপ্ত  আকারে মূল বিষয়বস্তু গুলো তুলে ধরব। 

১.আল খারিজমিঃ

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

 আল খারিজমিকে বীজগণিতের জনক বলা হয়। ৭৮০ থেকে৮৫০ মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।  তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তার পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খারিজমি। তার জন্ম সোভিয়েত রাশিয়ার আরব সাগরে পতিত আমু দরিয়া নদীর একটি দ্বীপের নিকটে অবস্থিত খোয়ারিজম নামক শহরে। এই শহরটি প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র ছিল যার তত্কালীন নাম ছিল উরগেঞ্চ। তার জন্ম তারিখ বা শৈশব ও কৈশোর সম্বন্ধে কিছু জানা যায়নি। তবে আনুমানিক ৭৮০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।আল খারিজমি খলিফা আল মামুনের বায়তুল হিকমাহ সংলগ্ন গ্রন্থাগারে গ্রন্থাগারিকের চাকুরি করতেন। খলিফা মামুনের মৃত্যুর পরও তিনি জীবিত ছিলেন এবং পরবর্তী খলিফা আল ওয়াতহিকের শাসনকালের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পাটিগণিত, বীজগণিত, ভূগোল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্রভূত অবদান রাখেন। তবে মূলত বীজগণিতের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশী আলোচিত হন।এজন্যই তাকে বীজগণিতের জনক বলা হয়। খলিফা আল মামুনের মৃত্যুর ১৪ বছর পর (আনুমানিক ৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে) আল খারিজমির মৃত্যু হয়।

২.আর্যভট্টঃ

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

 আর্যভট্টকে পাটিগনিতের জনক বলা হয়। প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত গণিতবিদদের মধ্যে একজন। আর্যভট্টের কাজ থেকে তাঁর জন্মসাল সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেলেও তাঁর জন্মস্থান নিয়ে সুবিশেষ কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি বর্তমান কেরলের লোক। আর্যভট্টের অন্যতম ভাষ্যকার ভাস্কর(প্রথম) এর ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম হয়েছিল অশ্মকা নামের একটি জায়গায়। প্রাচীন বৌদ্ধ এবং হিন্দু রীতিতে এই জায়গাটিকে নর্মদা এবং গোদাবরী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে দক্ষিণ গুজরাট এবং উত্তর মহারাষ্ট্রের আশেপাশের একটি জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিছু তথ্যমতে জানা যায় যে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কুসুমপুরায় গিয়েছিলেন। তিনি কুসুমপুরাই বসবাস করতেন, তার ভাষ্যকার ভাস্কর(প্রথম) যে স্থানকে পাটালিপুত্র বলে অভিহিত করেছেন সেটি বর্তমান ভারতে পাটনা নামে পরিচিত। তিনি কুসুমপুরের আর্যভ নামে খ্যাত ছিলেন। ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম তার নামে “আর্যভট্ট” রাখা হয়েছে।

৩.ইউক্লিডঃ

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

প্রাচীন গ্রিক গণিতবিদ ইউক্লিড। তিনি জ্যামিতি শাস্ত্রের জনক হিসেবে পরিচিত। তাঁর জন্ম ও জীবন সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৩৬৫ সালের কাছাকাছি সময়ে তাঁর জন্ম হয়। বেঁচে ছিলেন প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সাল পর্যন্ত। তিনি প্লেটোর ছাত্র ছিলেন। প্লেটোর স্কুলে পড়াশোনা করেছেন বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা। গণিতের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর লেখা গ্রন্থগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটির সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে বিখ্যাত বই এলিমেন্টস। বইটি প্রকাশিত হয় মোট ১৩ খণ্ডে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সালে রচিত বইটিতে রয়েছে সংজ্ঞা, স্বতঃসিদ্ধ, সূত্র ও অনুসিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন প্রস্তাবনার গাণিতিক প্রমাণ। ১৩টি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইউক্লিডীয় জ্যামিতি এবং প্রাথমিক সংখ্যাতত্ত্ব। ছাপাখানা আবিষ্কারের (১৪৮২) পর সর্বপ্রথম মূদ্রিত বইগুলোর মধ্যে এলিমেন্টস অন্যতম। এক হাজারেরও বেশিসংখ্যকবার মুদ্রিত হওয়ার জন্য মুদ্রণ সংখ্যার দিক থেকে বাইবেলের পরেই এর অবস্থান। বইটি প্রভাবিত করেছে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি, নিকোলাস কোপারনিকাস, জোহানেস কেপলার ও বিশেষভাবে আইজাক নিউটনকে। 

৪.সামোসের পিথাগোরাসঃ

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

পিথাগোরাসকে সংখ্যাতত্ত্বের জনক বলা হয়। সামোসের পিথাগোরাস খ্রিস্টপূর্ব ৫৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন একজন আয়োনীয় গ্রিক দার্শনিক, গণিতবিদ এবং পিথাগোরাসবাদী ভ্রাতৃত্বের জনক যার প্রকৃতি ধর্মীয় হলেও তা এমন সব নীতির উদ্ভব ঘটিয়েছিল যা পরবর্তীতে প্লেটো এবং এরিস্টটলের মত দার্শনিকদের প্রভাবিত করেছে। তিনি বর্তমান তুরস্কের কাছাকাছি অবস্থিত সামোস দ্বীপে জন্মেছিলেন। বলা হয়ে থাকে তিনিই প্রথম যে নিজেকে দার্শনিক বা প্রজ্ঞার প্রেমিক হিসেবে দাবী করেছিলেন। বিভিন্ন সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে তিনি খুব আগ্রহী ছিলেন যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ পিথাগোরাসের উপপাদ্য। আর এর কারনেই তিনি বিশ্বে একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে আজও সকলের মাঝে বেচেঁ আছেন । তিনি ৪৯৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ (৭৫ বছরের কম বয়সে) দক্ষিণ ইতালির মেতাপোন্তুম এ মৃত্যুবরণ করেন ।

৫.আইজাক নিউটনঃ

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

আইজাক নিউটনকে ক্যালকুলাসের জনক বলা হয়।বিজ্ঞানী নিউটন জন্মগ্রহণ করেন ১৬৪২ সালে ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ারের গ্রানথামের নিকটবর্তী উল্স্থর্প নামক গ্রামে। তার পিতার নামও ছিল আইজাক নিউটন। নিউটনের জন্মের কয়েক মাস আগেই পিতার মৃত্যু হয়। তার মা হ্যানা নিউটন, স্বামীর স্মৃতি হিসেবে পুত্রের নাম রেখেছিলেন আইজাক নিউটন।ছাত্রাবস্থা থেকেই নিউটন বিজ্ঞান ও অঙ্কে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৬৬৫ সালে নিউটন স্নাতক ডিগ্রি লাভ করলেন। কলেজে ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় তিনি কিছু জটিল তথ্যের আবিষ্কার করেন - বাইনমিয়াল থিওরেম, ফ্লাক্সসনস যা বর্তমানে ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস নামে পরিচিত। এ ছাড়াও তিনি আবিষ্কার করেন কঠিন পদার্থের ঘনত্ব। ১৬৬৬ সালে ফ্লাক্সসনস পদ্ধতি উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছেন। অবাক করা বিষয়, এ সময় নিউটনের বয়স তখন মাত্র ২৪ বছর।

৬.জন নেপিয়ারঃ

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

 জন নেপিয়ারকে লগারিদমের জনক বলা হয়। স্কটল্যান্ডের নেপিয়ার বংশের জমিদারি, বংশমর্যাদা, সামাজিক প্রতিপত্তির শত বছরের শাসনের ইতিহাসের মাঝে তাঁর জন্ম। যে কেউ এমন ছেলেকে ভবিষ্যতের জমিদার বলবেই। কিন্তু ছেলেটি পৃথিবীর ইতিহাসে জমিদার কিংবা শাসক হিসেবে সম্মাননা পাননি, একজন গণিতবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের গণিতের ভুবনে। ষোলো শতকের বিখ্যাত গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, পদার্থবিজ্ঞানী জন নেপিয়ার ১৫৫০ সালে এডিনবরাতে জন্মগ্রহণ করেন। শৌখিন গণিতবিদ জন নেপিয়ার লগারিদম ছাড়াও সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন।বর্তমানে বীজগণিতনির্ভর লগারিদমের প্রচলন থাকলেও জন নেপিয়ারের সময় বীজগণিত উন্নত ছিল না। তিনি জ্যামিতিক প্রকাশের মাধ্যমে লগারিদমের উদ্ভাবন করেন। ইংরেজ গণিতবিদ হেনরি ব্রিগসের সহায়তায় তিনি গাণিতিক ধ্রুবক e-এর মান সংশোধন করেন। গণিতের ভুবনে জন নেপিয়ারের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তড়িৎ প্রকৌশলবিদ্যায় শব্দ মাত্রার একক ডেসিবলের পরিবর্তে ‘নেপার’ রাখা হয়েছে। চাঁদের একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের নামকরণও করা হয়েছে নেপার নামে। ১৬১৭ সালে গণিতবিদ জন নেপিয়ার মৃত্যুবরণ করেন।

৭.ফিলিপ ক্যান্টরঃ

বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনী। Famous 7 Biography of Mathematicians.

ফিলিপ ক্যান্টরকে সেটতত্ত্বের জনক বলা হয়। ফিলিপ ক্যান্টর ১৮৪৫ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটারসবারগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অসীম সেটের ধারণা প্রাদান করে গণিত শাস্ত্রে আলোড়ন সৃষ্টি করেন এবং তার সেটের ধারণা সেট তত্ত্ব নামে পরিচিত। সেট তত্ত্বটি গাণিতিক লজিকের একটি শাখা যা সেট করে আলোচনা করে। বাস্তব বা চিন্তা জগতের সু-সাংজ্ঞাইয়িত বস্তুর সমাবেশ বা সংগ্রহকে সেট বলে। যেমন বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে তিনটি পাঠ্যাবইয়ের সেট, প্রথম দশটি বিজোড় সংখ্যার সেট, পূণসংখ্যার সেট, বাস্তব সংখ্যার সেট ইত্যাদি। প্রায় সব গাণিতিক বস্তুর সংজ্ঞাতে সেট তত্ত্বের ভাষা ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মহান বিজ্ঞানী ১৯১৮ সালে ৬ জানুয়ারী জার্মানির হালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও টি দেখুনঃ

           

Thursday, April 26, 2018

বিখ্যাত ৩ জন অর্থনীতিবিদের জীবনী।Biography of the famous 3 Economists.

বিখ্যাত ৩ জন অর্থনীতিবিদের জীবনী।Biography of the famous 3 Economists.

বিখ্যাত ৩ জন অর্থনীতিবিদের জীবনীঃ

অ্যাডাম স্মিথঃ

বিখ্যাত ৩ জন অর্থনীতিবিদের জীবনী।Biography of the famous 3 Economists.
Adam smith-http://www.topbanglapages.com/
অ্যাডাম স্মিথ  আধুনিক অর্থশাস্ত্রের জনক হিসেবে পরিচিত৷ তিনি ১৭৭৬ সালে T"he Wealth of Nations" নামক গ্রন্থ লিখে অর্থনীতির মূল বিষয়গুলি সম্পর্কে ধারণা দেন৷অ্যাডাম স্মিথ স্কটল্যান্ডের ফিফের ক্রিকক্যাল্ডি শহরের একজন রাজস্ব নিয়ন্ত্রকের পুত্র ছিলেন। স্মিথের সঠিক জন্মতারিখ অজানা, কিন্তু তিনি ১৭২৩ সালের ৫ই জুন ক্রিকক্যাল্ডি শহরে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। ৪ বছর বয়সে একদল ইহুদী তাঁকে অপহরণ করে। কিন্তু তিনি তাঁর চাচার সহযোগিতায় দ্রুত মুক্ত হন এবং মায়ের কাছে ফেরত যান।

১৪ বছর বয়সে স্মিথ গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, সেখানে তিনি ফ্রান্সিস হাচিসনের অধীনে দর্শনশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ও তাঁর সহকর্মী স্কটল্যান্ডের জন স্নেল কর্তৃক চালু হওয়া বৃত্তি প্রাপ্ত প্রথম ছাত্র ছিলেন। এই গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপনাকালীন সময়ে তিনি "The Theory of Moral Sentiments" রচনা করেন। পরবরতী জীবনে তিনি সমগ্র ইউরোপ পরিভ্রমণ করেন এবং এসময়ে তিনি তৎকালীন সময়ের বুদ্ধিজীবী নেতাদের সান্নিধ্য লাভ করেন। স্মিথ তাঁর নিজের সময়ে বিতর্কিত ছিলেন। তাঁর সাধারণ লিখন পদ্ধতি ও শৈলীর কারণে তিনি প্রায়ই উইলিয়াম হোগার্থ কর্তৃক সমালোচিত হয়েছেন। তবে, ২০০৫ সালে অ্যাডাম স্মিথ রচিত "The Wealth of Nations" বইটি সর্বকালের সেরা ১০০ স্কটিশ বইয়ের তালিকায় স্থান পায়। বলা হয়ে থাকে,সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার স্মিথের লিখা এই বই সর্বদা হাত ব্যাগে বহন করতেন। এই মহান অর্থনীতিবিদ ১৭ জুলাই ১৭৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

পল অ্যান্থনি স্যামুয়েলসনঃ

বিখ্যাত ৩ জন অর্থনীতিবিদের জীবনী।Biography of the famous 3 Economists.
Paul Samuelson-http://www.topbanglapages.com/
পল অ্যান্থনি স্যামুয়েলসনের জন্ম মে ১৫, ১৯১৫ সালে গ্যারি, ইন্ডিয়ানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।স্যামুয়েলসন ১৯৩৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৬ সালে স্নাতকোত্তর ও ১৯৪১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৪০ সালে ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৪ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৪৭ সালে পূর্ণ অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। প্রেসিডেন্ট কেনেডি এবং প্রেসিডেন্ট জনসন এর অর্থৈনতিক উপদেষ্টা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত ফাউন্ডেশন্‌স অভ ইকোনমিক অ্যানালিসিস "Foundations of Economic Analysis" নামের গ্রন্থটি তাঁর জীবনের সেরা কাজ।বিখ্যাত এই মার্কিন অর্থনীতিবিদ ১৯৭০ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয় লাভ করে। এই মহান অর্থনীতিবিদ ১৫ই ডিসেম্বর ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

জন মেনার্ড কেইনসঃ

বিখ্যাত ৩ জন অর্থনীতিবিদের জীবনী।Biography of the famous 3 Economists.
John Maynard Keynes-http://www.topbanglapages.com/
জন মেনার্ড কেইনস  ছিলেন একজন প্রখ্যাত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ। তিনি  ৫ জুন ১৮৮৩ সালে লন্ডনের ক্যামব্রিজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।তার মতবাদ আধুনিক সামষ্টিক অর্থনীতির তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধনের পাশাপাশি সরকারি অর্থনৈতিক নীতিগুলিতেও গভীর প্রভাব বিস্তার করে। তিনি ব্যবসায়িক চক্রের  অনুঘটকসমূহের ওপর পূর্বের কাজগুলোর প্রভূত উন্নতিসাধন করেন। তিনি অর্থনৈতিক মন্দার ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য বাজার ব্যবস্থা ও মুদ্রাব্যবস্থার প্রয়োগের পক্ষে মত দেন।

১৯৩০ এর দশকে কেইনস অর্থনৈতিক চিন্তাধারায় এক বিপ্লবের সূত্রপাত করেন, যা অর্থনীতির পুরোনো ধারণাগুলোকে খন্ডন করে, যেখানে মনে করা হতো যে মুক্ত বাজারব্যবস্থা স্বল্প থেকে মাঝারি মেয়াদে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণকর্মসংস্থান প্রদান করবে,  শ্রমিকরা যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মজুরির ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকবে।

কেইনস'কে আধুনিক সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যতম একজন জনক ও বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ১৯৯৯ সালে টাইম ম্যাগাজিন কেইনস কে বিংশ শতাব্দীর ১০০ সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যাক্তির তালিকায় স্থান দেয় । এই মহান অর্থনীতিবিদ ২১ শে এপ্রিল ১৯৪৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

বিস্তারিত ভিডিও টির মাধ্যমে দেখুনঃ

    প