Showing posts with label বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার. Show all posts
Showing posts with label বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার. Show all posts

Thursday, June 25, 2020

সকালে ঘুম ভাঙার পর ছেলেদের 'ধো'ন বা 'হো'ল বা 'নু'নু খাড়া থাকে কেন?

সকালে ঘুম ভাঙার পর ছেলেদের 'ধো'ন বা 'হো'ল বা 'নু'নু খাড়া থাকে কেন?

সকালে ঘুম ভাঙার পর ছেলেদের 'ধো'ন বা 'হো'ল বা 'নু'নু খাড়া থাকে কেন?

সকালে ঘুম ভাঙার পর ছেলেদের 'ধো'ন বা 'হো'ল বা 'নু'নু খাড়া থাকে। সম্প্রতি এর কারণ বিশ্লেষণ করেছেন একদল গবেষকরা। পুরুষেরা ভোরে যৌ’নতায় আগ্রহী হলেও নারী এ সময় যৌ’নতায় সেই ভাবে আগ্রহী থাকে না। এর মূল কারণ টেস্টোস্টেরন হরমোন বলে মনে করছেন গবেষকরা। এক প্রতিবেদনে বি’ষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। 


সকালে ঘুম ভাঙার পর ছেলেদের 'ধো'ন বা 'হো'ল বা 'নু'নু খাড়া থাকার কারণঃ

রাতে যখন নারী ভালোবাসার পরিপূর্ণ স্বাদ নিতে চান তখন পুরুষরা গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এর মূল কারণ হলো নারী ও পুরুষের হরমোনের পার্থক্য। আর এ পার্থক্যের কারণেই উভয়ের দেহঘড়ি একত্রে চলে না। গবেষকরা এক্ষেত্রে কয়েকটি সময়ের বর্ণনা করেছেন, যে সময়ে নারী-পুরুষের হরমোনের পার্থক্য লক্ষ্যণীয়।

ভোর ৫টায় পুরুষের টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোন সর্বাধিক বেশি থাকে। দিনের অন্য সময়ের তুলনায় ভোর রাত্রে এর মাত্রা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি হয়। এ সময় নারীও টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন করে। তবে তা অতি সামান্য মাত্রায়। 

ঘুম যত লম্বা হয় হরমোনটির প্রভাবও তত বেশি হয়। আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (American Medical Association) জানিয়েছে, পাঁচ ঘণ্টার বেশি ঘুম পুরুষের হরমোনটির মাত্রা ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭ টায়  যদি কোনো পুরুষ ঘুম থেকে উঠে তখন তার দেহে যতখানি টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা থাকে তা সর্বাধিক। কিন্তু একজন নারীর সে সময় সবচেয়ে কম থাকে।
অন্যদিকে দিন শেষে পুরুষের এ হরমোনটির মাত্রা সবচেয়ে কমে যায় আর নারীর সবচেয়ে বেশি থাকে। আর এ কারণেই সকালে ঘুম ভাঙার পর ছেলেদের 'ধো'ন বা 'হো'ল বা 'নু'নু খাড়া থাকে। 

Wednesday, May 13, 2020

দেশের করোনা আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ কি ??

দেশের করোনা আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ কি ??

 করোনা আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ার কারণ কি ?? 

দেশের করোনা আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ কি

এই বিষয়ে কথা বলার আগেই আপনাদের মনে করে দিতে চাই যেখানে ১৪ দিনের মধ্যেই করোনার লক্ষণ দেখা দেয় ,সেই খানে আমরা ৬০দিন লকডাউন দিয়েও রোগি আলাদা করতে কেন পারলাম না। ১৫ দিনেই সম্ভব করোনা মুক্ত করা কিন্তু প্রয়োজন ১০০% কার্যকারি পদক্ষেপ। যদি এই পদক্ষেপ নিতে না পারে , তা হলে ১ বছরেও সম্ভব না করোনা মুক্ত করা। দিন দিন বেড়েই যাবে রোগি ।আর মানুষ অভাবে পরে বাড়ি থেকে বেড় হবে। তাই ঈদের ছুটিই হতে পারে সরকারের জন্য শেষ সুযোগ।লক ডাউনের শুরুর আগেই এই বিষয়ে বলেছিলাম ১৫ দিনের পরিকল্পনা নিলে সম্ভব করোনা মুক্ত হওয়া। না হলে ১ বছরেও করোনা সমস্যা থেকে বেড় হওয়া সম্ভব না।


১। স্থানান্তরঃ 

যখন লকডাউন দেয় তখন ঢাকা থেকে ও জেলা শহর থেকে মানুষ গ্রামে গিয়েছে যার জন্য করোনা সংক্রামণ বেশি হয়েছে ।একটা জেলার দিকে লক্ষ্য করেন- বগুড়া জেলার কথায় চিন্তা করেন ৯০% করোনা রোগী ঢাকা ফেরত এবং তাদের সংস্পর্শে এসে ১০% নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

২। লকডাউন ভুলঃ

লকডাউন নামে মাত্র ছিল। যখন লকডাউন ছিল তখনও আমার দেখা অনেকেই ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে । এমন কি আমি যে বিল্ডিং এ থাকি তার ৫ তলায় একজন এসেছিল লকডাউনের সময়।যদিও তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি ।এমন কি আমার গ্রামের এলাকায় খবর নিয়েছি , সে খানেও অনেকে এসেছে। এইটা শুধু আমাদের কষ্ট বৃদ্ধি করেছে কোন কাজেই দেয়নি। প্রয়োজন ছিল কারফিউ জারি।

৩। করোনা পরীক্ষা সমস্যাঃ

 ২ মাসে করোনা পরীক্ষা তেমন বৃদ্ধি পায়নি। যেখানে উন্নত দেশ ২-৬ লাখ দিনে পরীক্ষা করছে সেখানে আমরা এখনও ১০ হাজারেও যেতে পারি নাই ।

৪।পরিকল্পনায় ভুলঃ 

করোনাকে কি ভাবে মোকাবেলা করবে এমন কোন পরিকল্পনা আমার চোখেই পরে নাই । ২মাস ৮০% মানুষ কে ঘরে বসে রাখলেও , ২০% মানুষ ইচ্ছে মত স্থানান্তর হয়েছে , ফলে এদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত বেশি হয়েছে দেশে । বর্তমানে আবার সেই ৮০% মানুষ কেও ছেড়ে দিচ্ছে , ফলে সহজেই তারা আবার এই ২০% মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছে , আর আক্রান্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে ।শুরুতেই ১০০% মানুষ কে জোর করে নিজের অবস্থানে থাকতে বাধ্য করতে হতো এবং সরকার করোনায় তেমন কোন কঠোর হতে পারে নাই । ফলে যে পরিকল্পনা করেছিল তা ভুল হয়েছে ।

৫।বর্তমানে বড় ভুলঃ 

আক্রান্ত রোগিদের বাসায় রেখে চিকিৎসা। ফলে তার পরিবারে লোক আক্রান্ত হচ্ছে এমনি কি এই ভাবে চলতে থাকলে গ্রামও সম্পূর্ণ আক্রান্ত হয়ে যাবে।

৬। জনগনের অসচেতনতাঃ

 এইটা আমাদের দেশে ছিল আছে এবং থাকবেই। এই জায়গা থেকে আমরা বেড় হতে পারবো না।এই জন্য শুরুতে আমাদের উচিৎ ছিল কঠোর হওয়া। আর একটা টিম গঠন করে প্রতিটা গ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটা বাড়ি পর্যন্ত ১৫-২০ দিন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা।এই জাতিকে সচেতন করার থেকে সহজ নিয়ন্ত্রণ করা।

৭। বর্তমানে প্রয়োজন ১০০% কার্যকারি পদক্ষেপ নেওয়াঃ 

আগে কি ভুল হয়েছে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ১৫-২০ দিনের একটা পরিকল্পনা করেন। যে যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। ১৫ দিনের মধ্যে যেখানে করোনা আক্রান্ত হবে তাদের আলাদা করতে হবে এবং সরকারের অধিনে নিতে হবে। সেই সাথে তাদের পরিবার কেও আলাদা করে রাখতে হবে ১৫দিন । নতুন কেউ আক্তান্ত হয় কি না দেখার জন্য। এক কথায় প্রতিটা বাড়িকে করোনা মুক্ত করতে হবে ১৫-২০ দিনে । কোন ব্যাক্তিকেই ১৫-২০ দিন বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না। একটা টিম থাকবে তারা শুধু মানুষের যা প্রয়োজন তা পৌঁছে দিবে। আর এই টিম শুধু মাত্র একটা অঞ্চলের জন্য বা গ্রামের জন্য থাকবে। উদাহরণঃ আমার গ্রামে একজন করোনা রোগী ধরা পরেছে। তাদের আশে পাশের বাসায় লকডাউন , ফলে বেড় হতে দিচ্ছে না গ্রাম বাসি। তাদের যা প্রয়োজন তা সম্পূর্ণ গ্রামের মানুষের থেকে চাঁদা তুলে দিচ্ছে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে করোনা রোগীদের আলাদা করতে পারলে এবং তাদের পরিবার কে আলাদা করতে পারলে চালানো অসম্ভ কিছুই না।কারণ বর্তমান পর্যন্ত করোনা রোগী দেশের জনগনের তুলনায় অনেক কম কিন্তু যে ভাবে চলছে এই ভাবে চলতে থাকলে সবাই আক্রান্ত হয়ে যাবে। তখন কেউ কাউকে হেল্প করতে পারবে না।

৮। পদক্ষেপ এখনই নিতে হবেঃ 

ঈদের পরে দেশে যদি লাশের মিছিলও হয় সরকারের পক্ষে জনগণকে বাসায় বসে রাখা সম্ভব হবে না । তাই এখনই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। টার্গেট করোনা রোগী আলাদা করা। টেস্ট করতে না পারলেও প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যাদের লক্ষণ দেখা দিবে।

সর্বশেষ আমি বলতে চাই আমি আগেই ৫ টা পরিকল্পনার কথা বলেছিলাম। এই রকম কোন পরীকল্পনা গ্রহণ করতে পারলেই করোনা মুক্ত করা সম্ভব । তা না হলে কত দিন এই ভাবে সরকার দেশের মানুষ কে নিয়ন্ত্রণ করবে বা গরীব মানুষদের সাহয্য দিবে??? এই ভাবে চলতে থাকলে সরকারের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তাই এই সময় ১৫-২০ দিনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে । তা হলেই একমাত্র সম্ভব হবে মক্ত হওয়া।
১৫ দিনের পরিকল্পনা নিম্নরূপঃ (২২ মার্চ এই পোস্ট দিয়েছিলাম। এইটা কার্যকর হলে এতো দিন করোনা মুক্ত দেশ হয়ে যেতো। )
  1. ১৫ দিন পর্যন্ত কারফিউ জারি । কোন ব্যাক্তি ১৫ দিন পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের হতে পারবেনা। যে যেখানে আছে ১৫ দিন সেই খানেই অবস্থান করবে।
  2. প্রতিটা গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষক এবং মসজিদের ইমাম এসব দেখভালের দ্বায়িত্বে থাকবে। ঐ গ্রামের যা কিছু প্রয়োজন তারা একটা টিম করে নিরাপদে বাসায় পাঠিয়ে দিবে।
  3. সেনাবাহিনী , বর্ডার গার্ড , পুলিশ , আনসার সহ সকল বাহিনীর সদস্য প্রতিটা গ্রামে ক্যাম্প করবে যাতে কেউ আইন ভঙ্গ করতে না পারে। এছাড়া তারা বিভিন্ন বিষয়ে তদারকি করবেন। (প্রতিটা গ্রামে গড় ৫০জন সদস্য মোতায়ান করার ক্ষমাতা সরকারের আছে )
  4. জেলা প্রশাসাক সহ টিএনও , ইউএনও , বিসিএস ক্যাডার সহ সকল উচ্চ পদস্থ ব্যক্তির অধীনে একটা করে ইউনিয়ন পরিষদের দ্বায়িত্ব দিতে হবে। তারা সেই ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড পরিচালনা করবে।
  5. যে কোন রোগী বা করোনা আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া মাত্র বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে হাঁসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা এইটা করোনা রোগীদের আলাদা করা। ১৫ দিনে রোগীদের আলাদা করেন তার পরিবারদের আলাদা করেন ।তার পরে শুধু রুগির পরিবার কে আলাদা করে ১৫ দিন দেখেন কোন রোগী পাওয়া গেলে আলাদা করে তাদের আরো ১৫ দিন দেখেন ।আর নতুন রোগী না পাওয়া গেলে সেই অঞ্চল কে করোনা মুক্ত ঘোষণা করেন। বর্তমানে যা হচ্ছে তাতে এই সব হচ্ছে কিন্তু ছড়িয়ে দেওয়ার পরে তাকে আলাদা করা হচ্ছে আর এই জন্য রোগি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আমার লেখায় কোন ভুল হলে।আমার চোখের সামনে যা হচ্ছে তাই শুধু আলোচনা করেছি । আমি কোন মহাজ্ঞানী না সাধারণ মানুষ মাত্র।

করোনা থেকে বাঁচতে হলে ভিডিও টি দেখুনঃ 

Monday, April 6, 2020

করোনায় যে ১০ জেলার মানুষ বেশি হুমকিতে।

করোনায় যে ১০ জেলার মানুষ বেশি হুমকিতে।

করোনায় যে ১০ জেলার মানুষ বেশি হুমকিতে।

দেশের ১০টি জেলায় এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। সনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা এখন ৭০ জন।
মোট ১০ জেলায় বিস্তার ঘটেছে করোনা ভাইরাসের। জেলাগুলো হলোঃ

১। ঢাকা,
২। নারায়ণগঞ্জ
৩। মাদারীপুর
৪। গাজীপুর
৫। কুমিল্লা
৬। কক্সবাজার
৭। গাইবান্ধা
৮। মানিকগঞ্জ
৯। চুয়াডাঙ্গা
১০। চট্টগ্রাম

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটেছে ঢাকায়, এরপরই আছে মাদারীপুর। এই ১০ জেলার সকল মানুষকে খুব সচেতন থাকার আহবান জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে আপনাদের জন্য যা যা করনীয় তা এই ভিডিও তে উল্লেখ করা হবে।

আক্রান্তদের মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যাই বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আইইডিসিআর-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত তথ্য দেয়া রয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তিনি মাদারীপুরের বাসিন্দা। এরপর রোগী শনাক্ত হয় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি বিদেশ ফেরত ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে তা স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ জন বিদেশ ফেরত। মূলত তাদের মাধ্যমে দেশে করোনার সংক্রমণ ঘটেছে। বিদেশ ফেরতদের মধ্যে ইতালির ৬ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ জন, সৌদি আরবের দুজন এবং ভারত, ফ্রান্স, জার্মানি, কুয়েত ও বাহরাইনের একজন করে রয়েছেন।

ভাইরাসের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো:

১. সর্দি
২. গলা ব্যথা
৩. কাশি
৪. মাথা ব্যাথা
৫. জ্বর
৬. হাঁচি
৭. অবসাদ
৮. শ্বাসকষ্ট


করোনা ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে যে ১০ টি কাজ অত্যান্ত জরুরি:

১. ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন
২. গণপরিবহন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন
৩. প্রচুর ফলের রস ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন
৪.প্রতি ২০ মিনিট পরপর  হ্যান্ডওয়াশ কিংবা সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নিন
৫. কিছু খাওয়া কিংবা রান্না করার আগে ভাল করে ধুয়ে নিন
৬. ডিম কিংবা মাংস রান্নার সময় ভাল করে সেদ্ধ করুন
৭. ময়লা কাপড়  দ্রুত ধুয়ে ফেলুন
৮. নিয়মিত থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিষ্কার করুন
৯. অপ্রয়োজনে ঘরের দরজা, জানালা খোলা রাখবেন না
১০. প্রতিদিন গোসলের সময় ১ বালতি পানিতে ২ মুটকি স্যাভলন ব্যবহার করুন।

Wednesday, September 4, 2019

গরুর মাংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা বা করণীয়।

গরুর মাংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা বা করণীয়।

গরুর মাংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা বা করণীয়।

গরুর মাংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা বা করণীয়।

আমরা কি আদৌ স্বাস্থ্যকর গরুর গোশত খায়? মনে হয় কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে সে স্বাস্থ্যকর গরুর মাংশ খায়। কারণ যখন আমাদের মাংশ খাওয়ার প্রয়োজন হয় তখন আমরা বাজার থেকে মাংশ ক্রয় করে নিয়ে আসি।কিন্তু এই ধরণের মাংশ খাইলে আমাদের স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থাকে তাহলে আমরা কি করব মাংশ খাওয়ার জন্য কি আমাদের আস্ত গরু জবাই দিতে হবে। না ভাই সেটাও সম্ভব না কারো একার পক্ষে আস্ত গরু জবাই দিয়ে মাংশ খাওয়া সম্ভবপর নয়। কিন্তু আপনি যদি মাংশ ক্রয়ের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেন সেক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিমাণ অনেক কম।

আর কিছু বিষয় জানা থাকলে স্বাস্থ্যকর গরু বা খাসির মাংশ আপনি খেতে পারবেন। তাহলে আসুন আজকে জানব কিভাবে স্বাস্থ্যকর গরুর মাংশ আমরা বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসবো।গরুর মাংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে কি কি সতর্কতা অবলম্বন করব। এছাড়াও আলোচনা করবো স্বাস্থ্যকর গরুর মাংশ চেনার উপায় ও গরুর মাংশ রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায়।



স্বাস্থ্যকর গরুর মাংশ চেনার উপায়ঃ

  • বেশি চর্বিযুক্ত মাংশ ক্রয় করা যাবে না। কারণ চর্বিযুক্ত মাংশ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • গরুর পেছনের পায়ের ওপরের অংশ ও পিঠের মাংসে আমিষ বেশি কিন্তু চর্বি কম।কাজেই এই সব জায়গার মাংশ কিনতে হবে।
  • আবার কুঁজ, গলা ও সিনার মাংসে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে কাজেই এই সকল জায়গার মাংশ কিনবেন না। অনেকেই সিনার হাড়ের মাংশ পছন্দ করে। 
  • মগজ, পায়া, নেহারি, হাড়ের মজ্জা ইত্যাদিতে চর্বির মাত্রা অনেক বেশি তাই এই ধরণের মাংশ কিনবেন না।
  • লিন মাংশ খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতি ৩ আউন্স মাংসে যদি চর্বির পরিমাণ ১০ গ্রামের কম থাকে তবে সেই মাংসকে লিন মাংশ বলে। পিঠ, দাবনা ও পেছনের পায়ের মাংসে লিন আছে।কাজেই এইসকল স্থান থেকে মাংশ কিনতে হবে।
  • পরিচিত মানুষের কাছ থেকে গরুর মাংশ কিনুন।তবে পরিচিত ভেবে আপনি খেয়াল না করেই মাংশ নিয়ে আসবেন না। কসাইকে বলে দিবেন আমার অমুক অমুক জায়গা থেকে মাংশ দেন। এক দোকান থেকে নিয়মিত মাংশ নিলে পরিচিত হওয়ার খাতিরে সে আপনার কথা রাখবে। 
  • মাংশ কাটার কাছে অনেকটা ভালো মন্দ বিরাজ করে। তাই ভালো কসাইয়ের কাছ থেকে মাংশ কিনবেন। যে মাংশ ভালো করে কাটতে পারে। 




গরুর মাংশ রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায়ঃ 

  • গরুর মাংস রান্নার আগেই মাংসের সঙ্গে লেগে থাকা সাদা চর্বির আস্তরণ ধারালো বঁটি দিয়ে কেটে বাদ দিন। 
  • যতটা সম্ভব মাংশ ছোট ছোট টুকরা করে কাটুন। এতে ভেতরকার চর্বি সহজেই বের হয়ে আসে এবং পরে ফেলে দেওয়া যায়। 
  • মাংস কাটার পর রান্নার আগে ছোট টুকরাগুলো গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন তাহলে জীবাণুমুক্ত হবে।
  • ভুনাজাতীয় রান্না এড়িয়ে চলুন। চর্বি বা তেল ঝোলের সঙ্গে মিশে যায়, এটি অস্বাস্থ্যকর এভাবে রান্না করে খাবেন না।
  • মাংসের ঝোল রান্না করলে ঠান্ডা হওয়ার পর ওপরে যে হলুদ চর্বির আস্তরণ পড়ে, তা চামচ দিয়ে তুলে ফেলে দিতে পারেন।
  • মাংস রান্নায় তেল বেশি ব্যবহার না করে সিরকা বা টক দই দিয়ে মেরিনেট করে নিতে পারেন। অল্প তেল ব্রাশ করে, ওলিভ ওয়েল বা সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করে রান্না করা অধিক স্বাস্থ্যকর।
  • মাংসের নানান মশলা বা গুরুপাক, বিট লবণ, টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করলে তা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগী বা কিডনি জটিলতার রোগীদের জন্য আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।তাই  রান্নায় সিরকা, টক দই, লেবুর রস, কাঁচা পেঁপে, বাটা গোলমরিচ ব্যবহার করতে পারেন।তবে চেষ্টা করবেন তেলের পরিমাণ ঠিক রাখতে। 

সবশেষে বলবো গরুর মাংশ বেশি খাওয়া পরিহার করুন সপ্তাহে একবার দুইবার খেতে পারেন।  মাসে.৪-৬ দিনের বেশি না খাওয়াই ভাল।বেশি বেশি শাকসবজি ও তরিতরকারি খাবেন। সবার দীর্ঘায়ু কামনা করি আর আমার জন্য সকলেই দোয়া করবেন।"আমিন"


টাগঃ গরুর মাংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা বা করণীয়, স্বাস্থ্যকর গরুর মাংশ চেনার উপায়, গরুর মাংশ রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায়, গরুর মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপায়,গরুর মাংসের অপকারিতা,গরুর সিনার মাংস,গরুর মাংসের রেসিপি

Saturday, August 3, 2019

স্তন ক্যান্সারঃ কারণ,লক্ষণ,উপসর্গ,করনীয়,প্রতিকার,প্রতিরোধ ও চিকিৎসা।

স্তন ক্যান্সারঃ কারণ,লক্ষণ,উপসর্গ,করনীয়,প্রতিকার,প্রতিরোধ ও চিকিৎসা।

স্তন ক্যান্সারের কারণ,লক্ষণ,উপসর্গ,প্রতিকার,প্রতিরোধ ও চিকিৎসাঃ 

স্তন ক্যান্সারঃ কারণ,লক্ষণ,উপসর্গ,করনীয়,প্রতিকার,প্রতিরোধ ও চিকিৎসা।

স্তন ক্যান্সার নারীদের একটি পরিচিত রোগ। তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই এ রোগের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তনের ক্যান্সার সারানো যায়। তবে ক্যান্সার যদি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সাধারণত তা সারানো যায় না। কিন্তু এ রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়। পশ্চিমা বিশ্বে নারীদের ক্যান্সারের মধ্যে স্তন ক্যান্সারই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে আমাদের দেশে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের পর স্তন ক্যান্সারের অবস্থান।

সারা বিশ্বে নারীমৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো স্তন ক্যান্সার। প্রতি ১০ জন মহিলার মধ্যে একজনের স্তন ক্যান্সার হতে পারে এবং আক্রান্ত প্রতি ৩৬ জন নারীর মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা একজনের। আমাদের দেশে ক্যান্সারে যত নারীর মৃত্যু হয়, তার অন্যতম কারণও স্তন ক্যান্সার। প্রতি ৬-৭ মিনিটে একজন নারী এতে আক্রান্ত হয় এবং প্রতি ১১-১২ মিনিটে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন নারী মারা যায়।

Breast Cancer: Causes, Symptoms,Remedies, Prevention and Treatment:


কিন্তু এতকিছুর পর ও আমাদের সমাজে স্তন ক্যান্সার নিয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। আর এই সচেতনতার অভাবে অনেকের একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ছে এটি। অথচ ঘরে বসেই সহজে একজন নারী তার স্তন পরীক্ষা করে নিতে পারেন। এতে স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়েই নির্ণয় করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব হলে ক্যান্সারের সাথে লড়াইয়ে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।


আমাদের দেশে ক্যান্সারে যত নারীর মৃত্যু হয়, তার দ্বিতীয় কারণ ব্রেস্ট ক্যান্সার। স্তন ক্যান্সার আসলে এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার, যা স্তনের কোষগুলো থেকে শুরু হয়। স্তন ক্যান্সার এমনই এক ধরনের অসুখ যা প্রতিরোধের সেভাবে কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই।

তাছাড়া এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে একাধিক কারণকে স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে। আসুন জেনে নেই কারণগুলো—

স্তন ক্যান্সারের কারণঃ(Causes of breast cancer) 


স্তন ক্যান্সার হওয়ার সঠিক কারণ নির্ণয় করা এখনো সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হয়নি। কিছু নারীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। নারীদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে।

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হয় খুব ছোট ছোট জীবকোষ দিয়ে। ক্যান্সার এসব জীবকোষের রোগ। স্বাভাবিকভাবে জীবকোষের বিভাজন ঘটে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে। যদি কোনো কারণে এ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে জীবকোষগুলো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিভক্ত হয়ে একটি পিণ্ড সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় টিউমার।

স্তনে দুই ধরনের টিউমার হতে পারে। সেগুলো হচ্ছে-

১.বিনাইন:

 বেশির ভাগ স্তন টিউমার বিনাইন হয়। যা ক্ষতিকর নয়। কিছু বিনাইন টিউমার স্তনক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

২.ম্যালিগন্যান্ট :

ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের মধ্যে এমন ধরনের ক্যান্সার জীবকোষ থাকে, যা চিকিৎসা না করা হলে স্তনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো রক্তপ্রবাহ কিংবা লসিকার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এসব জীবকোষ নতুন স্থানে পৌঁছে নতুন টিউমার সৃষ্টি করতে পারে। এ নতুন টিউমারকে বলা হয় মেটাস্ট্যাটিক টিউমার।

স্তন ক্যান্সারের কারণগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করা হলঃ



  1.  মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের চেয়ে বেশি।
  2.  যত বয়স বৃদ্ধি হতে থাকে, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ততোই বাড়তে থাকে। অল্প বয়সের মহিলাদের চেয়ে বয়স্ক মহিলাদের বিশেষ করে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
  3. পূর্বে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে: যদি কারো পূর্বে একটি স্তনে ক্যান্সার হয়ে থাকে, তবে তার অন্য স্তনেও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  4. পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে: যদি কারও মা, বোন অথবা মেয়ের স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে তবে তার স্তনে ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেক গুণ বেশি। তবে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়েছে, এমন ব্যক্তিদের অধিকাংশরই কোনো পারিবারিক ইতিহাস নেই।
  5.  শিশু অথবা তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক তেজস্ক্রিয়/বিকিরণ রশ্মি দিয়ে চিকিৎসা করলে পরবর্তী জীবনে তার স্তন ক্যান্সারের বিকাশের সম্ভাবনা থাকে।
  6.  মাত্রাতিরিক্ত ওজন (অথবা মোটা) স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। চর্বি ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপাদন করে, যা ক্যান্সারের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
  7. ১২ বছর বয়স হওয়ার আগে ঋতুস্রাব হলে তা স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
  8. দেরিতে মেনোপজ: ৫৫ বছর বয়সের পর যদি মেনোপজ হয়, তা স্তন ক্যান্সারের বিকাশ ঘটাতে পারে।
  9. ৩৫ বছরের পরে যদি কোনো মহিলা প্রথম সন্তান জন্ম দেয় তবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  10. ঋতুজরার লক্ষণ ও উপসর্গ সমূহের জন্য যেসব মহিলা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনে মিলিত হরমোনের চিকিৎসা নেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।
  11. অতিরিক্ত মদ্যপান স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এসকল ঝুঁকি থাকলে নারীদের সতর্ক থাকতে হবে ও নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করতে হবে।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ ঃ(Symptoms of breast cancer)

  1. স্তনের ভেতরে পিণ্ড অথবা স্তন পুরু হয়ে যাওয়া।
  2. স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত নিঃসরিত হওয়া।
  3. স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন হওয়া।
  4. স্তনের উপরের ত্বকের পরিবর্তন হওয়া (যেমন: গর্ত হয়ে যাওয়া)।  
  5. স্তনের বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া। 
  6. স্তনের বোঁটার চামড়া কুচকে যায় অথবা চামড়া ওঠে যাওয়া। 
  7. স্তনের চামড়া লাল হয়ে যাওয়া। 


উপরোক্ত যেকোনো ধরনের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পরবর্তীতে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করতে পারবেন এটি স্তন ক্যান্সার কি না। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে রোগীর সুস্থ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি, তাই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করে দেখতে হবে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ে কি না।


স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করার উপায়ঃ(Ways to Prevent Breast Cancer)



  1. রিক্স ফ্যাক্টর থাকলে সে ক্ষেত্রে মেমোগ্রাফি করুন। যেমন: ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে।
  2. যে সমস্ত নারীরা শিশুদের স্তন্যপান করান, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কম থাকে।
  3. ৩০ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন।
  4. টাটকা শাক-সবজি ও ফল খান।
  5. সন্দেহ হলে ক্যান্সার সার্জনের শরণাপন্ন হন।
  6. ধুমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
  7. যিনি রোজ নিয়ম করে শরীর চর্চা করেন, তার স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।
  8. সমীক্ষা বলছে, সপ্তাহে ৭৫ থেকে ১৫০ মিনিট দ্রুতবেগে হাঁটলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
  9. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিশেষত, স্থূলতার সাথে স্তন ক্যান্সারের একটি যোগসূত্র রয়েছে। 
  10. সবজি জাতীয় খাবার যেমন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ফলমূল ইত্যাদি খাবার বেশি খেতে হবে। এ ধরনের সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
  11. অতিরিক্ত মদ্যপান বা মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে।


স্তন ক্যান্সার কোনো লজ্জার বিষয় নয় বা কোনো গোপন রোগ নয়। প্রতি ৬ মিনিটে একজন নারী যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেটাকে লজ্জার বা গোপন রোগ ভাববার আর কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সকলের সচেতনতাই পারে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে।


স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা:(Breast Cancer Treatment)

সম্ভব হলে সার্জারি করাই উত্তম। তাছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি।


আপনার এই ব্যাপারে কোন মতামত থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

Thursday, August 1, 2019

We have many misconceptions about blood pressure.

We have many misconceptions about blood pressure.

রক্তচাপ সম্পর্কে আমাদের যতসব ভুল ধারণাঃ

We have many misconceptions about blood pressure.

We have many misconceptions about blood pressure.
উচ্চ রক্তচাপের কারণে বড় বড় রোগ যেমন স্ট্রোক, কিডনি রোগ, অন্ধত্ব ইত্যাদির প্রধানতম ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।আমাদের চারপাশে অনেকেই আছেন যার উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন কিন্তু তারা এই বিষয়ে জানেন না বা গুরুত্ব দেন না। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে নানারকম ভুল ধারণাও পোষণ করেন। আসুন জেনে নিই আমাদের ভুল ধারণাগুলো কী কী।

উচ্চ রক্তচাপ কেবল বয়স্কদের সমস্যা?

অনেকের ধারণা, বয়স বেশি না হলে রক্তচাপ মাপার দরকার নেই। কেননা, উচ্চ রক্তচাপ বড়দের হয়। ধারণাটি ভুল। উচ্চ রক্তচাপ অপেক্ষাকৃত কম বয়সেও হতে পারে। এমনকি তরুণ-যুবাদেরও হতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে সবারই রক্তচাপ মাপা উচিত। আবার বয়স বাড়লে রক্তচাপ একটু বাড়তেই পারে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এমনটাও ভাবেন অনেকে। এ ধারণাও ভুল। যেকোনো বয়সেই রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার ওপর যাক না কেন, তার চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

রক্তচাপ বাড়লে ওষুধ খাই:

অনেকেই বলেন, রক্তচাপ যখন বাড়তি থাকে, তখনই কেবল ওষুধ খাই। তারপর স্বাভাবিক হয়ে এলে আর খাই না। এটা বিপজ্জনক। রক্তচাপের ওষুধ সাধারণত নিয়মিত খেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করা বা মাঝেমধ্যে বাদ দেওয়া চলবে না। রক্তচাপ বেশি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের মাত্রা বা ধরন পাল্টানো যায়।

তেঁতুল বা টক খেলে রক্তচাপ কমে যায় একেবারেই ভ্রান্ত ধারণাঃ 

রক্তচাপ বাড়লে তেঁতুল গুলে খান অনেকে, অনেকে লেবু চিপে খান। এতেই নাকি রক্তচাপ কমে যায়। এই বিশ্বাসের কোনো বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। বরং তেঁতুল ও টক-জাতীয় জিনিস লবণসহযোগে খেলে আরও রক্তচাপ বাড়তে পারে।

সমস্যা নেই মানে রক্তচাপ স্বাভাবিক?

মাথা-ঘাড় ব্যথা করে না, মাথা ঘোরে না, ঘুমও ভালো হয়, এসব সমস্যা নেই মানেই আমার উচ্চ রক্তচাপ নেই, এ কথাটাও ভুল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কোনো লক্ষণ নেই। রুটিন চেকআপেই তা ধরা পড়ে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা উচিত।


উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ডিম দুধ খাওয়া নিষেধ?

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর বাড়তি লবণ খাওয়া একেবারেই নিষেধ। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, যেমন আচার, চানাচুর, সসযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারও খাওয়া যাবে না। কিন্তু ডিম, দুধে নিষেধ নেই। তবে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোক এড়াতে চর্বিযুক্ত ও তেলে ভাজা পোড়া খাবার কম খাওয়া উচিত।

এক ওষুধ বেশি দিন খাওয়া ঠিক নয়ঃ

অনেকেই অনেক বছর ধরে কোনো একটি ওষুধ খাচ্ছেন ও তাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে। তারপরও তা বদলে ফেলতে চান। কেননা, এক ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে খাওয়া হয়তো ঠিক নয়। এটাও ভুল ধারণা। কোনো কারণ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন করার দরকার নেই। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণই আসল কথা।

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়, হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ

জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

We have many misconceptions about blood pressure.


Friday, July 19, 2019

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী খাবেন?

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী খাবেন?

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী খাবেন? 

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী খাবেন?

সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাসে রাতের খাবারের পর ঠিক ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা কিছু খেতে পরামর্শ দেন অনেক ডাক্তারগণ। একে বেড টাইম স্ন্যাকস বলা হয়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা কিছু খাদ্য খাওয়ার গুরুত্ব কী, এ সময় কী খাওয়া ভালো সেই সম্পর্কে আলোচনা করব।

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সারা দিনের খাবার ভেঙে ভেঙে পাঁচ বা ছয়বারে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এতে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায় না, অতিরিক্ত খিদেও পায় না। বেশি খাওয়ার প্রবণতা রোধ করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা রাতের খাবারটি সন্ধ্যার পর সেরে ফেলেন, তাঁরা দেরিতে খাওয়া মানুষের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি ওজন কমাতে সক্ষম হন। হজমের সুবিধার্থে ও ওজন কমানোর জন্য রাতের খাবারটি তাই রাত ৮ টার আগেই সেরে ফেলা উচিত। এতে খাবারটি পুরোপুরি হজম ও বিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য শরীরের এনজাইম ও হরমোনগুলো কাজ করার সুযোগ পায়। সে ক্ষেত্রে রাতের খাবারের বেশ খানিকক্ষণ পর ঘুমানোর আগে হালকা খাবার খেয়ে নিতে হবে, যাতে শেষ রাতে খিদে না পায়। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের প্রায়ই শেষ রাতে ব্লাডে শর্করা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এ ছাড়া বেড টাইম স্ন্যাকস ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী খাবেন?

ঘুমানোর আগে খাবার হতে হবে হালকা, কম ক্যালরিযুক্ত ও সহজ পাচ্য যা সহজে হজম হয়। শর্করা কম খাওয়াই ভালো। তেল, চর্বি বা ভাজাপোড়া খাবার খেলে পেটে গ্যাস হবে। এই খাবারে ট্রিপটোফেন (যেমন দুধ) থাকলে ভালো ঘুমের জন্য সাহায্য করে। খাবারের মান ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালরি হলে ভালো। মূলত আমিষ ও সামান্য শর্করার হালকা মিশেলে খাবার বেছে নিন। প্রতিদিন একই খাবার খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আদর্শ বেড টাইম স্ন্যাকস কী হতে পারে? নিচে সেগুলো কিছু তালিকা দেওয়া হলঃ

১।  এক কাপ দুধ বা আধা কাপ টক দই অথবা লেবুর শরবত।

২। এক বাটি সবজির স্যুপ।

৩। বেলের অথবা অন্যান্য ফলের শরবত। অবশ্যই বাসায় ব্লিন্ডারে তৈরি করতে হবে।

৪। একটি কমলালেবু বা একটি নাশপাতি অথবা একটি আপেল।

৫। দুটি বা তিনটি ভালো ব্রান্ডের বিস্কুট বা টোস্ট, সঙ্গে এক টুকরো পনির।

৬।  বাদাম, কিশমিশ ও অন্যান্য শুষ্ক ফলসহযোগে একমুঠো শুকনো খাবার।

৭।দুইটি কলা অথবা ৫ থেকে ১০ টি আঙুর ফল ইত্যাদি।


Wednesday, April 10, 2019

এই নারীর এক পায়ের ওজন ১০০ কেজি মরণ ব্যাধি সবাই সাবধান থাকুন।

এই নারীর এক পায়ের ওজন ১০০ কেজি মরণ ব্যাধি সবাই সাবধান থাকুন।

ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

সিলেটের রেজিয়া বেগম নামের একটি মহিলার পা  অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রেজিয়া বেগমের বয়স ৪০ বছর। এ্যালিফান্টিয়াসিস বা গোদ রোগ নামক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ডান পা প্রায় ১০০ কেজি ওজন হয়েছে। জানা যায় ১৮ বছর আগে তার দ্বিতীয় মেয়ের জন্মের পর থেকেই  তার এই রোগটি দেখা দেয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বিরাট আকার ধারণ করতে থাকে । তবে তিনি এখন কোন কাজই করতে পারেন না তাই সে  তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপর নির্ভরশীল।

রেজিয়া বেগম বলেন, 'আমি অন্য কোন স্বাভাবিক মহিলার মতো ছিলাম কিন্তু এখন আমার দরিদ্র পরিবারের উপর আমি একটা বোঝা। যদিও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে, তবুও দারিদ্রতার কষাঘাতে তার সুচিকিৎসা করা অনেকটাই অনিশ্চিত। কেননা তার সুচিকিৎসার জন্য থেরাপি,অস্ত্রোপচার এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হবে। তার জন্য প্রয়োজন অনেক টাকার। মেডিকেল ডাক্তারগণ বলছেন যে মশার কামড়ের ফলে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করার  ফলে এ ধরণের রোগ হয়। তবে অন্য কোন কারণেও এই রোগটি হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ১২০ মিলিয়ন মানুষ এ্যালফান্টিয়াসিস  রোগ দ্বারা প্রভাবিত করে। এটি লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমে বাধা রোধের কারণে শরীরের একটি অঞ্চলের ব্যাপক বৃদ্ধি হতে থাকে। আসুন আমরা এই রোগ সম্পর্কে জেনে রাখি তাহলে আমরা আগে থেকেই সচেতন থাকতে পারব।

এ্যালিফান্টিয়াসিস রোগ বা ফাইলেরিয়াসিস এক প্রকার পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায়। এটি এক প্রকার সংক্রামক রোগ যা সূতার মতো একজাতের (ফাইলেরিওয়ডিয়া Filarioidea পরিবারভুক্ত নিমাটোড) গোলকৃমি দ্বারা এই রোগ সংঘটিত হয়।

ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসাঃ 

এছাড়াও এক প্রকার উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি নামক জীবাণু দ্বারা  এই রোগের হয়ে থাকে। মূলত কিউলেক্স মশার কামড়ে এই জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে তবে অ্যানোফেলিস ও এডিস মশার কামড়ে ও এই পরজীবীর জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
লক্ষনঃ প্রথমে অল্প মাত্রার জর সেই সাথে লিম্ফ নালী বরাবর ব্যাথা এবং লাল হয়ে যাওয়া। কিছুদিন পরে আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যায় এবং এটা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে যা এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করতে থাকে। সাধারণত পা, অন্ডকোষ, পেট, পিঠসহ অন্যান্য অঙ্গ ও এতে আক্রান্ত হতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তনের চামড়া ফুলে পুরু হয়ে  যায় এবং চামড়া খসখসে হয়ে উঠে। তাই আপনাদের সবসময় মশার কামড় থেকে বিরত থাকবেন।
   

Tuesday, January 29, 2019

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ ৭টি উপায়।

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ ৭টি উপায়।

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ ৭টি উপায়ঃ

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ ৭টি উপায়।

এই গরমে শরীরের ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে অনেকেই বিরক্তি হন। অনেকের আছে বাইরে গেলেই বগল,শরীর ঘামতে থাকে। এই ঘামের কারণে শরীরটাকে অনেক নোংরা দেখাই।ঘামের আসলে নিজস্ব গন্ধ নেই।ত্বকের উপরে লেগে থাকা একধরণের ব্যাকটেরিয়া ঘামের সাথে উৎপত্তি হয় যার ফলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। তাই আপনারা কিভাবে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন তার কিছু কার্যকরী উপায় তুলে ধরা হলঃ

১।যতটা সম্ভব রোদ গরম থেকে এড়িয়ে চলতে হবে।ঘরের মধ্যে বা গুমোট পরিবেশের মধ্যে না থেকে হাওয়া বাতাস,ফ্যান বা এসি আছে এমন যায়গায় কাজ করুন।

২। ঘেমে গেলে কাপড় পরিবর্তন করুন। এই গরমে প্রতিদিনের পোশাক ধুয়ে পরিষ্কার করে পরা উচিত।পায়ের মোজা ও অন্তর্বাস কখনই না ধুয়ে পরবেন না।

৩।এই গরমে টাইট ফিটিং জামা কাপড় পরা বন্ধ করুন। পাতলা সুতির ও ঢিলেঢালা পোশাক পরার চেষ্টা করুন। যাতে শরীরের মধ্যে সহজেই বাতাস প্রবেশ করতে পারে। এতে শরীর ঘামলেও ভিজবে না এবং শরীরটাকে নোংরা দেখাবে না।

৪।মসলাযুক্ত খাবার,অ্যালকোহল,কফি এগুলো শরীরের ঘাম বাড়াবে।তাই গরমে এগুলো না খেলেই ভাল হয়।

৫।মোটা মানুষের সবসময় ঘাম বেশি হয়। তাই আপনার ওজন কমানোর চেষ্টা করুন এবং কম কম খাবার গ্রহণ করুন। কৈশোরের শুরুতে ঘামের দুর্গন্ধ একটু বাড়ে এটি হরমোনের প্রভাবে হয় এ নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই।

৬। যাদের অতিরিক্ত শরীর ঘামে এবং দুর্গন্ধ খুব বেশি করে তারা ভাল ব্র্যান্ডের পারফিউম ব্যবহার করতে পারেন।

৭।এই গরমে প্রতিদিন গোসল করবেন। প্রয়োজন হলে দিনে দুইবার গোসল করতে পারেন। স্যাবলন ও এন্টিসেপ্টিক জাতীয় সাবান ব্যবহার করুন। 

Friday, January 25, 2019

মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি লাগার কারণ এবং দূরীকরণের উপায়

মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি লাগার কারণ এবং দূরীকরণের উপায়

মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি লাগার কারণ এবং দূরীকরণের উপায়ঃ

মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি লাগার কারণ এবং দূরীকরণের উপায়

ক্লান্তি লাগার কারণ ঃ

সারা দিন ক্লান্ত লাগে,অবসন্ন লাগে,কেন কাজ করতে মন চায় না? সারাক্ষণ মনে হয় বিশ্রাম নিই। শরীর ব্যথা করে,ম্যাজম্যাজ করে,সবসময় ঘুম ঘুম ভাব ধরে।আজকাল সব রোগীরা এই ধরণের সমস্যার কথা বলেন। আদিম যুগে মানুষ শিকারি ছিল,বৈরি পরিস্থিতির সংগে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হত। তখন তাকে সাহায্য করত নানা স্ট্রেস হরমোন,যেমন কর্টিসল,এপিনেফ্রিন ইত্যাদি।বর্তমানে মানুষের স্ট্রেস বা মানসিক চাপের ধরণ একেবারেই আলাদা। এখনো প্রচুর স্ট্রেস হরমোন তৈরি হয় তবে তা আগের যুগের মানুষের যেমন খরচ হতো এখন তেমন খরচ হয় না বললেই চলে। এই স্ট্রেস হরমোনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে আমাদের রক্তে শর্করা, রক্তচাপ বাড়ে,হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে,অবসাদ বাড়ে, বিষণ্ণতা বাড়ে, এমনকি ওজনও বাড়ে। এই সকল কারণেই ক্লান্তি শরীরে ক্লান্তি অনুভব হয়।

দূরীকরণের উপায়ঃ 

স্ট্রেস হরমোনের এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে মানসিক চাপ কমাতে হবে। নিয়মিত যোগব্যায়াম করতে হবে, বসে না থেকে পরিশ্রম করতে হবে, সঠিক সময়ে খাবার খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুম দিতে হবে।এছাড়াও মানবসেবায় নিয়জিত হওয়া, গাছপালা ও পশুপাখির পরিচর্যা করা, পরিবার ও বন্ধবান্ধবের সাথে আনন্দময় সময় কাটানো, মাঝে মধ্যে দূরে ঘুরতে বের হওয়া এই সকল কাজ কর্ম করলে মানসিক স্ট্রেস কমে যাবে।ভাবছেন সারাদিন এত পরিশ্রম করি, তারপর আবার ব্যায়াম করার সময় পাব কখন বা পরিশ্রম করলে আবার কি ব্যায়ামের প্রয়োজন হয়? আসলে এই নিত্য দিনের এক ঘেয়েমি কাজে স্ট্রেস হরমোনের খরচ হয় না বরং ক্লান্তি আরও বাড়ে।

স্ট্রেস হরমোন কমানোর জন্য সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন ৪০ মিনিট করে হাটতে হবে।যাতে করে হৃদস্পন্দন বাড়ে,রক্ত চলাচল বাড়ে। যতই কাজ থাকুক না কেন রাতে ৫-৬ ঘণ্টা অবশ্যই ঘুমাতে হবে। ঘুমের সময় ফেসবুক,ইন্টারনেট,টিভি দেখা,গান শোনা ইত্যাদি অভ্যাস পরিহার করতে হবে। থাইরয়েড হরমোন,সেক্স হরমোন, ভিটামিন ডি কমে গেলে অনেকসময় ক্লান্তি ও অবসাদ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস থাকলে ক্লান্তি আসবেই এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আপনাকে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ক্লান্তি ও অবসাদ কমাতে হলে প্রথমেই আপনার হতে হবে এই ব্যাপারে সচেতন। বিভিন্ন খাবারের উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে এবং নিয়ম করে খাবার খেতে হবে। ক্যালরি ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনের মাত্রা বুঝে খাদ্য গ্রহণ করুন। জাঙ্ক ফুড,কমল পানীয়, ভাজা পুঁড়া খাবার একদম পরিহার করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করে স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে ফেলুন। ঘুমের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই, রাতের বেলায় আমাদের ঘুম ধরলেও এটা সেটা করে দেরি করে ফেলি কখনই এটা করা যাবে না। ঘুম ধরলেই সাথে সাথে ঘুমাতে যেতে হবে।কারণ প্রতিদিন ঘুম একিই সময় আসে না এটা অনেকটা পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে।সবসময় স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় জীবনযাপনের জন্য চেষ্টা করুন। এরপরও যদি ক্লান্তি দূর না হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। 

Wednesday, January 23, 2019

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকারঃ

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

 কোন নারীর প্রেগন্যান্ট অবস্থায়,বিশেষ করে বাচ্চা হবার অন্তিম মুহূর্তে কোমর ব্যথা হওয়া প্রতিটি নারীদের জন্য একটা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এই কোমর ব্যথার কারণে চলতে ফিরতে কষ্ট হয়,রাতে ঘুম আসে না,অনেকের সারা রাত মাজায় ও পিঠে মালিশ করতে হয়।এটা আসলে গর্ভবতী মায়ের জন্য বিরাট কষ্টকর ও বিরক্তির ব্যাপার।

কোমর ব্যথা হওয়ার কারণঃ

১।জরায়ু বড় হওয়ার কারণে মায়ের দেহের ভরকেন্দ্র পরিবর্তন হয়,যার ফলে পিঠের উপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ে। এটার কারণে কোমর ব্যথা হতে পারে।
২।প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ওজন বাড়ে,দেহ আগের তুলনায় অনেক ভারী হয়। তাই পেশি ও গ্রন্থির উপর চাপ পড়ে।
৩। প্রসবের কিছুদিন আগে থেকে স্বাভাবিক প্রসবের প্রস্ততিসরুপ রিলাক্সিন হরমোনের প্রভাবে কোমরের জয়েন্টের লিগামেন্টগুলো শিথিল হয়ে যায় যার ফলে কোমরে ব্যথা বাড়ে।
৪।গর্ভাবস্থায় শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ার কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়ঃ

১। ব্যায়াম ও মেডিটেশন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।পিঠে ও কোমরে হালকা উষ্ণ সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করা যেতে পারে।
২। নিচু হয়ে ঝুঁকে মোটেই কোন কাজ করা যাবে না, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করতে হবে,ভারী কিছু বহন করা বা উঠানো যাবে না।
৩।পানি উষ্ণ গরম করে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সেক দিতে পারেন তাহলে অনেকটা আরাম লাগবে।
৪।চিত হয়ে কখনই শুবেন না সবসময় কাত হয়ে শুতে চেষ্টা করবেন।দুই পায়ের মাঝখানে এবং পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমালে মেরুদন্ডের চাপ অনেকটা কমে যাবে।
৫।উঁচু জুতা একেবারেই পরা যাবে না সবসময় সমান জুতা পরতে হবে, তাছাড়াও হালকা উঁচু নরম সেলের জুতা পরতে হবে।
৬।গর্ভাবস্থায় মোটেই শুয়ে বসে থাকবেন না বাড়ির খুটিনাটি কাজ করুন আর হাঁটাহাঁটি করা সবচেয়ে বেশি উত্তম। 

Thursday, August 30, 2018

প্রথম সন্তান কখন নেবেন? সন্তান না হওয়ার কারণ।

প্রথম সন্তান কখন নেবেন? সন্তান না হওয়ার কারণ।

প্রথম সন্তান কখন নেবেন? 

বিয়ের পর যে প্রশ্নটি মেয়েদের অনেকবার শুনতে হয় তা হলো, বয়স তো হয়ে যাচ্ছে,বাচ্চা কবে নেবে? সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা ক্যারিয়ার, পড়াশোনা ,দাম্পত্য , জীবন গুছিয়ে নেওয়া ইত্যাদি হিসাব নিকাশ করে আধুনিক মেয়েরা বা নারীরা সন্তান নিতে চান। কিন্তু সন্তান নেওয়ার একটি আদর্শ সময় আছে । ঠিক ঐ সময়ের মধ্যে সন্তান না নিলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়।

আগে মনে করা হত ২০ বছরের আগে প্রথম সন্তান নেওয়া ভাল। এখন সময় বদলেছে। মেয়েরা ক্যারিয়ারের জন্য কিছুটা দেরিতে বিয়ে করছে।তবে এখনও ডাক্তাররা বলেন, প্রথম সন্তান ২৫ বছরের আগে নিলে ভাল হয়। সমীক্ষা বলে, ৩০ বছর পেরিয়ে গেলে প্রজনন ক্ষমতা প্রায় ৫০% কমে যায়। ৩৫ বছরের পর ডিম্বাণুর পরিমাণ আরও অনেকবেশি কমে যায়। এ ছাড়াও এ বয়সে গর্ভধারণের পরে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, প্রসব পূর্ব রক্তক্ষরণ ও প্রসবকালীন জটিলতা বেড়ে যায়।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হল, জন্মগত ত্রুটিযুক্ত এবং ডাউন সিনড্রোম সন্তান জন্মলাভের হার অনেক বেশি হয়, যদি মায়ের বয়স বেশি থাকে। এসব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসবে হার কমে যায় এবং অস্ত্রোপচারে জন্ম বেশি হয়।

প্রথম সন্তান কখন নেবেন? সন্তান না হওয়ার কারণ।
beautiful baby picture- http://www.topbanglapages.com/
তাছারাও বর্তমানে অনেক নারী ও পুরুষ সন্তান দেরিতে নিতে বেশি পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে দেখা যায় তারা দীর্ঘকাল জন্মবিরতীকরণ ট্যাবলেট ও বিভিন্ন উপায়ে শারীরিক মেলামেশা করে । যার ফলে নারীর সুপ্ত ভ্রন ক্রমশ ধ্বংস হতে থাকে পরবর্তীতে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলে অনেকেরই সন্তান আর হতে চায় না। এছারাও দেখা যায় একটা নারীর অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার পর সেই নারী দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান না নেওয়ার কারণে পরবর্তীতে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

আবার অনেকেই প্রথম  সন্তান নেওয়ার পর ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিতে একটু দীর্ঘ বিরতি নেন। পরে মা হওয়ার জন্য কয়েক মাস চেষ্টা করেও আর বাচ্চা হতে চায় না। তখন তারা একেবারেই নিরাশ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে। তারপর প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হতে হবে। তবে সুস্থ শিশু জন্মদানের জন্য স্বামী ও  স্ত্রী দুজনেরই বয়সের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। নারী ও পুরুষের ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম সন্তান নিয়ে নেওয়া অনেক ভাল। ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে সন্তান নিলে সেই শিশুটি সুস্থ সবল ও শক্তিশালী হয়।

তাছাড়াও আরও কিছু কারণে বাংলাদেশের নারী ও পুরুষের সন্তান না হওয়ার ঝুকি বাড়িয়ে দেয়। সেগুলো হল অনেক নারী ও পুরুষ আছে তারা ফুটপাত থেকে বিভিন্ন সেক্স পাওয়ার ওষুধ সেবন করে। সামান্য কিছু সময়ের পরিতৃপ্তি পাওয়ার জন্য তারা নিজেদের চরম ক্ষতি করছে। এছাড়াও মদ ও নেশা জাতীয় খাবার সেবন করলে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

প্রথম সন্তান কখন নেবেন? সন্তান না হওয়ার কারণ।
beautiful baby picture- http://www.topbanglapages.com/

এসব থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ঃ

১। প্রত্যেক নারীর ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম সন্তান নিতে হবে।
২।২য় বা ৩য় বাচ্চা নেওয়ার জন্য ৪ থেকে ৫ বছরের বেশি বিরতি নেওয়া ভাল নয়।
৩। জন্মবিরতিকরণ পিলের পরিবর্তে কনডম বা প্রাকৃতিক নিয়মে মেলামেশা করা সবচেয়ে উত্তম।
৪। স্বামী অথবা স্ত্রী কাউকেই নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করা যাবে না।
৫। মুড়ি মুড়কির মত যেখান সেখান থেকে ওষুধ সেবন করা যাবে না।

প্রত্যেক নারীর জীবনে সন্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন নারীর যদি সন্তান না হয় তাহলে সে সমাজে বিভিন্নভাবে অপমানিত ও নির্যাতিত হয়।সন্তান দিতে না পারলে সেই নারীর সমাজে কোন মূল্য বা দাম থাকে না। কাজেই প্রত্যেক নারীর উচিত উপর্যুক্ত নিয়ম কানুন মেনে চলা। তবে সন্তান না হওয়ার পেছনে পুরুষেরও অনেক ভূমিকা থাকে তবে পুরুষের ক্ষেত্রে ততটা প্রভাব পড়ে না। এজন্য নারী ও পুরুষের উভয়ের সচেতন থাকতে হবে। আর সন্তান যদি না হয় সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র নারীকে দোষারোপ না করে নারী ও পুরুষের উভয়ের টেস্ট করে নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সিকিতসা নিতে হবে।
প্রথম সন্তান কখন নেবেন? সন্তান না হওয়ার কারণ।
beautiful baby picture- http://www.topbanglapages.com/

Monday, July 30, 2018

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের কারণ ও তার প্রতিকার।

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের কারণ ও তার প্রতিকার।

আমাদের দেশে শিশুর নিউমোনিয়া রোগ কথাটি শুনলেই প্রত্যেক মায়ের বুক কাঁপনই দিয়ে উঠে। কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুবরণ করেন।কিন্তু ভয়ের কোন কারণ নেই যদি আপনারা সন্তান জন্মলাভের পর থেকেই সচেতন হন সেক্ষেত্রে এই রোগ আক্রান্ত করতে পারবে না।আজ আমরা জানব, নিউমোনিয়া রোগ কি? নিউমোনিয়া রোগে কারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় এবং কেন? এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় ও তার প্রতিকার।

নিউমোনিয়া কীঃ

ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের  প্রদাহজনিত রোগ নিউমোনিয়া। সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়।তবে ব্যাকটেরিয়া জনিত নিউমোনিয়া বেশি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুটির শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিকের তুলনায় দিগুণ হয়ে যায় এবং বুক থেকে ঘড়ঘড় শব্দ হতে থাকে। নিউমোনিয়া রোগ নবজাতকের মধ্যে প্রসবের সময় মায়ের কাছ থেকে সংক্রমণ হলে নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হতে পারে।
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের কারণ ও তার প্রতিকার।

কারা সবচেয়ে বেশি নিউমোনিয়া রোগে  আক্রান্ত হয়ঃ 

  1. যে সকল শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে থাকে তারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়।
  2.  যে সকল শিশু জন্মের পরে পুষ্টির অভাব হয়। 
  3.  যে সকল শিশু মায়ের দুধ কম পায়।
  4. যাদের হাম, টিবি, ডিপথেরিয়া, বিশেষ করে নিউমোনিয়ার টিকা দেওয়া হয় নাই তারা আক্রান্ত হয়।
  5. যে সকল বাড়িতে সূর্যের আলো থাকে না বিশেষ করে বাচ্চাদের সূর্যের আলো শরীরে না মাখালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। 
  6. বাচ্ছাদের সামনে ধূমপান করলে।

নিউমোনিয়ার রোগের লক্ষণঃ

 নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো হলো-
  1. শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত নেওয়া, শ্বাস গ্রহণের সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া।
  2. শিশুর চঞ্চলতা কমে যাওয়া বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া।
  3.  খেতে না চাওয়া বা খেতে না পারা।
  4. শ্বাসকষ্টের সময় কাশির পরিমাণ বাড়ে এবং অতিমাত্রায় জ্বর হওয়া।
  5. বমি, পেট ব্যথা করা।
  6. ঠোট ও আঙুলের নখ ধূসর অথবা নীলাভ রং ধারণ করা

নিউমোনিয়া চিকিৎসা বা প্রতিরোধের উপায়ঃ

  1. প্রথম কথা হলো, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
  2. নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু খাবার ও পানি যেন পরিপূর্ণভাবে পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 
  3. যারা বুকের দুধ খায়, তাদের বুকের দুধ কোনোমতেই বন্ধ করা যাবে না।
  4. নিউমোনিয়ার কিছু ভ্যাকসিন বের হয়েছে। এই ভ্যাকসিনগুলো যদি সময়মতো নেওয়া যায়, তাহলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যায়।
  5. শিশুকে সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পোশাকে রাখতে হবে এবং কোন রকম আদ্র বা ভেজা কাপড়ে রাখা যাবে না।
  6. শিশুকে উষ্ণ পানি দ্বারা শরীর মুছে দিতে হবে। কোন রকম ঠাণ্ডা পানি দ্বারা গোসল করানো যাবে না ।
  7. সকালে সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ বাচ্ছাকে রাখতে হবে।
  8. যতবার পারেন আপনার বুকের শাল দুধ খাওয়ান।
 উপরিউক্ত বিষয়গুলো আপনারা যদি মেনে চলেন তাহলে আপনার বাচ্ছাকে নিউমোনিয়া স্পর্শ করতে পারবে না। তাই আপনারা বাচ্ছা জন্মের সাথে সাথে উক্ত বিষয়ে সচেতন থাকবেন।

                                               লেখকঃ মোঃ সাজেদুর রহমান

                                                            


Thursday, March 9, 2017

গর্ভকালীন ৫ সাধারণ সমস্যা।

গর্ভকালীন ৫ সাধারণ সমস্যা।

গর্ভকালীন ৫ সাধারণ সমস্যা।

সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় একটা নারীর দেহ ও মনে ঘটে নানা রকম স্বাভাবিক পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া।অধিকাংশ নারীর এমন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যা সহজে মানিয়ে নেওয়ার  জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্ন। চলুন আমরা জেনে নিই এমন পাঁচটি সাধারন পরিচিত সমস্যার কথা।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পরই প্রচণ্ড বমি ভাব, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা ইত্যাদি উপসর্গের নাম মর্নিং সিকনেস। প্রথম সন্তান গর্ভ ধারণের সময় এই সমস্যা বেশি দেখা দেই এবং  প্রথম ও দ্বিতীয় মাসেই, অথবা তিন মাসের পর সাধারণত এ সমস্যা সেরে যায়। ২৫ শতাংশ নারীর এই সমস্যা একেবারে নাও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় রক্তে কিছু হরমোনের পরিমাণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা দেখা দেই।

মর্নিং সিকনেস থেকে রক্ষার উপায়-
  • সকালে একবারে বেশি কিছু না খেয়ে অল্প অল্প করে শুকনো খাবার, যেমন টোস্ট বিস্কুট ও আমিষসমৃদ্ধ খাবার খান।
  • তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, যে খাবার দেখলে বা খেলে বমির উদ্রেক হয় তাও এড়িয়ে চলুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতে পারেন।
  • অতিরিক্ত বমি হলে বা পানিশূন্যতা বা লবণশূন্যতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
পায়ে পানি আসা-
গর্ভাবস্থায় পায়ে অল্প পানি জমাটা স্বাভাবিক। এ জন্য আতঙ্কিত হওয়ার বা চিকিৎসা নেওয়ারও কিছু নেই।

  • ১. বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকবেন না, পায়ের নিচে মোড়া বা টুল দিন।
  • ২. খাবারে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন।
  • ৩. বিশ্রাম বা ঘুমের সময় পায়ের নিচে বালিশ দিতে পারেন।
  • ৪. পা অনেক বেশি ফুলে গেলে, যদি দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, মাথা ব্যথা হয় বা রক্তচাপ বেড়ে যায় তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
কোমর ব্যথা-
৫০ শতাংশ মেয়ে কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হয়। ওজন বৃদ্ধি ও অস্থিসন্ধির শিথিলতা এর জন্য দায়ী। তবে উঁচু হিলের জুতা পরা, প্রস্রাবে সংক্রমণ বা কোষ্ঠকাঠিন্যও এর কারণ হতে পারে। পা উঁচু করে বিশ্রাম নিলে কিছুটা আরাম পাবেন। সঠিক ভঙ্গিতে শোয়া বা বসা, শক্ত বিছানা ব্যবহার করা, কোমরে মালিশ বা সেঁক এবং বেশি ব্যথা হলে পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন।
ঘন ঘন প্রস্রাব
৮ থেকে ১২ সপ্তাহে এই বিরক্তিকর সমস্যা দেখা দেয়। জরায়ুর আকার বড় হওয়ার কারণে মূত্রথলিতে চাপ দেয় বলে এমন ঘটে। ১২ সপ্তাহের পর সেরে গেলেও শেষ দিকে শিশুর মাথা নিচে নামতে শুরু করলে মূত্রথলিতে চাপ দিলে আবার দেখা দেয়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা তলপেটে ব্যথা না থাকলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
পেট শক্ত হয়ে আসা

মাঝেমধ্যে পেশির সংকোচনের জন্য পেট শক্ত হয়ে আসে। সাধারণত ব্যথা থাকে না এবং একটু পর নিজেই চলে যায়। তবে ব্যথা যদি থাকে ও তীব্রতা বাড়তে থাকে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবে সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা করুন।
ডা. উম্মে রুমান
 বারডেম হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারি ০২, ২০১৩
ট্যাগস: উম্মে রুমান • জরায়ু • শিশু • সন্তান


Wednesday, March 8, 2017

প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারণ, লক্ষণ ও আরও কিছু আলোচনা।

প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারণ, লক্ষণ ও আরও কিছু আলোচনা।

প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারণ, লক্ষণ ও আরও কিছু আলোচনা।

যদি আপনার বয়স ৪৫ বছরের নিচে থাকে  তাহলে আপনার প্রস্রাবে ইনফেকশনের সম্ভাবনা একেবারেই কম। এ ক্ষেত্রে সাধারণত এক কোর্স ওষুধ খেলে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। কখনও কখনও মূত্রথালি, প্রোস্টেট কিংবা কিডনি দেখার জন্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়, বিশেষ করে তিন মাসের মধ্যে যদি দু’বার বা তার বেশি বার ইনফেকশন হয়, অথবা যদি কিডনি সংক্রমিক হয়। এই লেখাটিতে আমি শুধু পুরুষদের প্রস্রাবে ইনফেকশনের কথা উল্লেখ করছি। যেসব যৌনবাহিত রোগে যেমন ক্লামাইডিয়ার কারণে মূত্রনালী সংক্রামিত হয় এবং যার কারণে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়- সেসব এখানে আমি উল্লেখ করছি।



প্রস্রাব বা মূত্রপথ সম্পর্কে ধারণাঃ
পেটের দু’পাশে দুটো কিডনি থাকে। এরা প্রস্রাব তৈরি করে। এই প্রস্রাব মূত্রথলিতে জমা থাকে এবং আমরা যখন টয়লেটে যাই তখন প্রস্রাব মূত্রথলি থেকে মূত্রনালী পথে বের হয়ে আসে।

প্রস্রাবে ইনফেকশন কী এবং তার কারণগুলো কী?
বেশির ভাগ প্রস্রাবে ইনফেকশন ঘটায় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু। এই ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুগুলো আসে আপনার নিজস্ব অন্ত্র থেকে। অন্ত্রে এগুলো কোনো ক্ষতি করে না, কিন্তু শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে এরা গেলে তখন ক্ষতি করে। কিছু ব্যাকটেরিয়া আপনার পায়ুপথে অবস্থান করে (মলত্যাগের পর এটা হয়)। এসব ব্যাকটেরিয়া কখনও কখনও আপনার মূত্রনালী দিয়ে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে। কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের মধ্যে বলিষ্ঠ হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে ইনফেকশন ঘটায়। ঘন ঘন ইনফেকশন হয় মূত্রথলিতে। একে বলে সিস্টাইটিস বা মূত্রথলির প্রদাহ। কখনও কখনও এই ইনফেকশন একটি বা দুটো কিডনিতেই ছড়িয়ে যায়। প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে চিকিৎসকরা সচরাচর তাকে বলেন ‘মূত্রপথের সংক্রমণ বা ইউটিআই’।



প্রস্রাবে ইনফেকশন কাদের বেশি হয়?
৫০ বছরের কম বয়সী পুরুষদের প্রস্রাবে ইনফেকশন খুব কম হয়। অধিক বয়সী পুরুষদের এটা অতি সাধারণ। ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৩ জনের এবং ৮০ বছর বয়সী পুরুষদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জনের প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়। (প্রস্রাবে ইনফেকশন সবচেয়ে বেশি হয় মহিলাদের। এর কারণ হলো মহিলাদের মূত্রনালী অনেক ছোট এবং তা মলদ্বারের কাছে থাকে)।

কেন কিছু পুরুষের প্রস্রাবের ইনফেকশন হয়?
অনেক ক্ষেত্রে প্রসাবে ইনফেকশনের সুস্পষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। মূত্রথলি, কিডনি, প্রোস্টেট কিংবা শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারও কোনো সমস্যা পাওয়া যায় না। এটা স্রেফ ‘উপরোক্ত বিষয়গুলোর একটি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিচের যেকোনো একটি সমস্যা প্রস্রাবে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। সমস্যাগুলো হচ্ছেঃ

প্রোস্টেট বড় হওয়া-
এটা মূত্রথলি ঠিকমতো খালি হতে বাধা দেয়। তখন কিছু প্রস্রাব মূত্রথলিতে থেকে যেতে পারে। এই জমা থাকা প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং ইনফেকশন ঘটায়। ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে বড় প্রোস্টেট একটি সাধারণ সমস্যা।

মূত্রথলি বা কিডনির সমস্যা-
মূত্রথলি ও কিডনির সমস্যাগুলো আরও বেশি ইনফেকশন ঘটাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাব ঠিকমতো বের হতে পারে না।

অরক্ষিত পায়ুসঙ্গম-
এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। যারা এটা করে তাদের ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

যাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল, তাদের যেকোনো ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি থাকে, এর মধ্যে প্রস্রাবের ইনফেকশনও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার এইডস থাকে কিংবা কেমোথেরাপি নেন তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রস্রাবের ইনফেকশনের লক্ষণগুলো কী?
মূত্রথলিতে ইনফেকশন (সিস্টাইটিস) এক্ষেত্রে সাধারণত প্রস্রাব করার সময় ব্যথা করে। ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। আপনার তলপেটে ব্যথা হতে পারে, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে পারে এবং জ্বর থাকতে পারে।

কিডনিতে ইনফেকশনঃ
এ ক্ষেত্রে কোমরের পশ্চাদ্ভাগে (কিডনির উপর পেটের পাশে) ব্যথা হতে পারে। বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা হতে পারে, সার্বিকভাবে আপনি অসুস্থ বোধ করতে পারেন।

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন এবং মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ।
চেম্বার : কমপ্যাথ লিমিটেড, ১৩৬ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৬২৮৮৮৫৫।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০০৯

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার।

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার।

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার।

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া হলো অণ্ডথলি অস্বাভাবিক বড় হওয়া। আর অণ্ডথলি হলো এমন একটা থলি যার মধ্যে অণ্ডকোষ থাকে। যেকোনো বয়সী পুরুষের অণ্ডথলি ফুলে যেতে পারে। এর সাথে ব্যথা থাকতে পারে, আবার না-ও থাকতে পারে। এটা অণ্ডথলির এক পাশে অথবা দু’পাশেই হতে পারে। অণ্ডকোষ এবং পুরুষাঙ্গ জড়িত থাকতে পারে, অথবা না-ও থাকতে পারে।

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার কারণ-
  • আঘাত
  • হার্নিয়া
  • কনজেসটিভ হার্ট ফেইলিওর
  • হাইড্রোসিল
  • অণ্ডকোষের প্রদাহ
  • অণ্ডকোষে প্যাঁচ খাওয়া
  • ভ্যারিকোসিল বা অণ্ডথলির শিরার স্ফীতি
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ
  • যৌনাঙ্গ এলাকায় শল্য চিকিৎসা
অণ্ডকোষে প্যাঁচ খাওয়া একটি মারাত্মক জরুরি অবস্থা। এ ক্ষেত্রে অণ্ডথলির মধ্যে অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যায় এবং এর ফলে অণ্ডকোষে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যদি দ্রুত প্যাঁচ খোলা না যায় তাহলে অণ্ডকোষ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ঘরোয়া চিকিৎসা-
  • প্রথম ২৪ ঘণ্টা অণ্ডথলিতে বরফের সেক দিতে হবে। এরপর সিজবাথ নিলে ফোলা কমবে।
  • যদি ব্যথা তীব্রহয় তাহলে একটি তোয়ালে পাকিয়ে অণ্ডকোষের ঠিক নিচে দু’পায়ের মাঝে রাখতে হবে। এতে ব্যথা ও ফোলা দুটোই কমবে।
  • দৈনন্দিন কাজ করার পর ঢিলেঢালা অ্যাথলেটিক সাপোর্টার পরা যেতে পারে। ফোলা কমে যাওয়া না পর্যন্ত কাজকর্ম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন-
যদি আপনার অণ্ডথলি ফুলে যায়, যদি ফোলাটা ব্যথাযুক্ত হয়, কিংবা যদি অণ্ডকোষে চাকা অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

চিকিৎসক যা করবেন-
চিকিৎসক আপনাকে শারীরিক পরীক্ষা করবেন ও রোগের ইতিহাস নেবেন। তিনি আপনাকে নিচের প্রশ্নগুলো উত্তর জানতে চাইতে পারেন।

চিকিৎসক যে প্রশ্নগুলো করবেন-
  • কখন ফোলা শুরু হয়?
  • এটা হঠাৎ করে হয়েছে?
  • অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে?
  • ফোলাটা কত বড়?
  • ফোলাটায় কি পানি জমেছে?
  • ফোলা কি অণ্ডথলির এক দিকে, নাকি সমগ্র অণ্ডথলিতে?
  • দু’পাশের ফোলা কি একই ধরনের? (কখনো কখনো অণ্ডথলির ফোলা প্রকৃতপক্ষে বড় অণ্ডকোষ, অণ্ডকোষে চাকা অথবা শুক্রবাহী নালির ফুলে যাওয়ার কারণে হয়।)
  • আপনার যৌনাঙ্গ এলাকায় কোনো অপারেশন হয়েছে?
  • আপনার যৌনাঙ্গ এলাকায় কি কোনো আঘাত পেয়েছেন?
  • আপনার যৌনাঙ্গ এলাকায় কি সম্প্রতি কোনো সংক্রমণ হয়েছে?
  • আপনি বিছানায় বিশ্রাম নিলে কি ফোলা চলে যায়?
  • আপনার অণ্ডথলিতে কি কোনো ব্যথা আছে?
চিকিৎসক যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিতে পারেন।

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন এবং মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ। চেম্বার : কমপ্যাথ লিমিটেড, ১৩৬ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৬২৮৮৮৫৫।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, অক্টোবর ২৬, ২০০৯
ওজন কমাতে সহজ কিছু উপায় এবং আপনার করনীয়।

ওজন কমাতে সহজ কিছু উপায় এবং আপনার করনীয়।

ওজন কমাতে সহজ কিছু উপায় এবং আপনার করনীয়।

শরীরে বাড়তি ওজন সৃষ্টিতে শর্করাজাতীয় খাবার বেশি প্রভাব বিস্তার করে।তাই আমরা মনে করি, শর্করাজাতীয় খাবার বর্জন ওজন কমানোর চাবিকাঠি। কারণ, শকর্রাবর্জিত খাবার দিনের পর দিন খেতে থাকলে শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। হয়তো দু-চার দিন এ ধরনের খাবার গ্রহণ করা যায়, দিনের পর দিন নয়। যেমন—মাছ, মাংস, ডিম, তেল, ঘি, মাখন এগুলো একেবারেই শর্করাবর্জিত খাবার। ভাবুন তো, এসব খাবার খেয়ে কি জীবন কাটাতে পারবেন? আসলে সবই খেতে হবে, তবে তা হওয়া উচিত পরিমিত।

শর্করাজাতীয় খাবার কতটুকু খাওয়া যাবে বা যাবে না সে ব্যাপারে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান আখতারুন নাহার বলেন, শর্করা শক্তির অন্যতম উৎস। পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, মানুষের প্রতিদিনের খাবারে মোট ক্যালরির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ শর্করা থাকা উচিত। তবে যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে শর্করার অংশটি ভাত-রুটি ইত্যাদি মিলে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ হলেই ভালো হয়।
আখতারুন নাহারের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে তাদের খাবারে অবশ্যই শরীর গঠনকারী উপাদান বা দুধ থাকতেই হবে। যদিও দুধে আছে পর্যাপ্ত শর্করা। খাবারের মধ্যে শর্করা থাকে বিভিন্ন রূপে। যেমন—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ, সুক্রোজ, মল্টোজ। আমাদের দেহের কার্যপ্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ প্রয়োজনীয় উপাদান। ফ্রুক্টোজ হলো ফলের চিনি। সুক্রোজ প্রায় সব উদ্ভিদেই কমবেশি থাকে। তবে আখ ও বিটে থাকে উচ্চমাত্রায়। এ জন্য এই দুটো দিয়ে সহজেই চিনি তৈরি করা যায়। ল্যাক্টোজ হলো দুধের চিনি। অঙ্কুরিত শস্যের মধ্যে মল্টোজ থাকে। গ্লুকোজ একাই স্নায়ুতন্ত্রের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এ কারণে শর্করাজাতীয় খাবারের অভাবে শরীরে দহন ক্রিয়া থেমে যায়। এর ফলে কিটোন বডি নামে শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ উৎপন্ন হয়। শর্করা বাদ দেওয়া যেমন খারাপ, তেমনি অতিরিক্ত শর্করা খাওয়াও ক্ষতিকর। কেননা অতিরিক্ত শর্করা শরীরে চর্বি তৈরি করে। ফলে ওজন বেড়ে যায় ও অন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এ জন্য শর্করা খেতে হবে সীমিত পরিমাণে, তবে একেবারে বর্জন নয়।
শিশু, কিশোর ও বয়স্কদের বেলায় একইভাবে জাঙ্ক ফুড অর্থাৎ পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, কোমলপানীয় বন্ধ করে সুষম খাবার গ্রহণ করা উচিত। কারণ, জাঙ্ক ফুডে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। সুষম খাবার গ্রহণ করতে গেলে খাবারের সব কয়টি উপাদান যেমন—আমিষ, শর্করা, চর্বি যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু খেতে হবে।

মোট কথা হলো, কোনোটাই বাদ দেওয়া যাবে না আবার কোনোটাই অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। কাজেই আমাদের সকল খাবার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ম মেনেই খেতে হবে। তাহলে আমরা আমাদের শরীরকে সুস্থ সাবলীল রাখতে সক্ষম হব।

গ্রন্থনা: মো. শরিফুল ইসলাম
জানুয়ারি ০৮, ২০১৪
মডেল: মাহা। ছবি: অধুনা
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো