বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে যা যা করনীয়।

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে যা যা করনীয়।

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে যা যা করনীয়।

“ব্যায়াম করার সময় পাই না” স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনায় বসলে এই কথা শোনা যাবেই। ব্যস্ত জীবনে কথাটি পুরোপুরি মিথ্যাও নয়, তবে অভ্যাসে তৈরি করতে দরকার চর্চা।

আর পুরোটাই নির্ভর করে আপনার উপর। তাই ব্যস্ত জীবন থেকে শরীরচর্চার জন্য একটু সময় বের করে নিতে হবে, নিজের স্বার্থেই। উপায় জানাচ্ছে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইট।

বাড়তি নড়াচড়া: প্রতিদিনের রুটিন যাই হোক না কেনো, আলসভাব ঝেড়ে ফেলে নড়াচড়ায় মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে। এতে শরীর এবং বিপাক প্রক্রিয়া কর্মঠ ও সচল থাকবে। মাঝে মধ্যে অফিসে ওঠার সময় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন।
হাঁটাহাঁটি: গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিক্সা, বাস যে যানবাহনেই অফিস যান না কেনো অফিসের গেইট থেকে একটু দূরে নেমে হেঁটে অফিস যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রয়োজনে গেইট থেকে সবচাই দূরের পার্কিংয়ের স্থানে গাড়ি বা মোটরসাইকেল রাখতে হবে।

এক জায়গায় জগিং: অফিস কিংবা বাসায় একস্থানে দাঁড়িযে জগিং করতে পারেন। এসময় হালকা পড়াশোনা বা অফিসের ফাইলপত্রে চোখ বুলিয়েও নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে অফিসের কারও যেন বিরক্তির কারণ না হন।

ভার উত্তোলন: ওজন ওঠানো মানে ব্যায়ামাগারে গিয়ে ভারী ডাম্বেল ওঠানো নয়। বাজারের ব্যাগ বয়ে আনা, ঘর পরিষ্কারের সময় সোফা, খাট ইত্যাদি নড়ানো বা ওঠানো ইত্যাদি গৃহস্থালী খুঁটিনাটি কাজে সেচ্ছায় হাত লাগান। কিংবা টিভি দেখা বা ফোনে কথা বলার সময় এক হাতে হালকা কোনো ওজন ওঠাতেও ক্ষতি নেই।
বাইরে কাজ: ঘরের বাইরের খুঁটিনাটি কাজগুলো স্বাস্থ্যবান থাকার একটি ভালো উপায়। পোর্কে হেঁটে আসা, দোকান থেকে কিছু কিনে আনা, প্রতিবেশির সন্তানের সঙ্গে হালকা খেলাধুলা ইত্যাদি। ইচ্ছা থাকলে আরও অনেক উপায় বের হবে আপনার মাথা থেকেই।

দলে যোগ দেওয়া: আপনার মতোই সুস্থ-সুঠামদেহ চায় এমন দলে যোগ দিন। এতে অনুপ্রেরণা পাবেন, পাশাপাশি বেরিয়ে আসবে সুস্থ থাকার আরও অনেক উপায়।

ছবিঃ রয়টার্স।
সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশকালঃ ২০১৬-১০-০৮

মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭

পিত্তথলিতে পাথরের কারণ এবং তার প্রতিকার।

পিত্তথলিতে পাথরের কারণ এবং তার প্রতিকার।

পিত্তথলিতে পাথরের কারণ এবং তার প্রতিকার।

পিত্তথলিতে পাথর হওয়া এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। চারপাশের অনেকেরই কাছ থেকেই  এই  ব্যাপারে ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা শুনতে পারি। আসলে এই পাথর কি ইটের খোয়া নাকি পথে কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি পাথরের মতো? আর কীভাবেই বা আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে আসুন সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ি।

পাথর আসলে কী?
পিত্তথলির পাথর আসলে ছোট ছোট বালুর দানার মতো থেকে শুরু করে মটরের দানা বা তার চেয়েও বড় শক্ত দানাদার বস্তু, যা বিভিন্ন রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে। এটা নির্ভর করে কী পদার্থ দিয়ে পাথরটা তৈরি তার ওপর। কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা ক্যালসিয়াম ইত্যাদি পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি এই পাথরগুলো পিত্তরসের সঙ্গে মেশানো অবস্থায় থাকে এবং হালকা বাদামি, ময়লাটে সাদা বা কুচকুচে কালো রঙেরও হতে পারে। পেটের ডানদিকে যকৃতের পেছনে ও তলার দিকে থাকে পিত্তথলি। পিত্তরস তৈরি করাই এর কাজ। খাবার হজমে, বিশেষ করে চর্বিজাতীয় খাবার হজম করতে পিত্তরস দরকার হয়। নানা কারণে এই পিত্তথলিতে বিভিন্ন পদার্থ অতিরিক্ত জমে গিয়ে পাথরের সৃষ্টি করে।

কাদের হয় বেশি?
স্থূল ও ওজনাধিক্য ব্যক্তিদের পিত্তথলিতে পাথর বেশি হতে দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব বয়স, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাবার অভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কীভাবে বুঝবেন?
পিত্তথলির অবস্থানটা পেটের কোথায় তা আগেই বলা হয়েছে। পিত্তথলিতে পাথর হলে এতে প্রদাহ হয়, যাকে কোলেসিস্টাইটিস বলা হয়। তখন ওপর পেটের ডানদিকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। মিনিট খানেক হতে ঘণ্টা খানেক স্থায়ী হতে পারে এই ব্যথা। পেটের পেছন দিকে, কাঁধে, পেটের মাঝ বরাবর এমনকি বুকের ভেতরও ছড়িয়ে পড়তে পারে ধীরে ধীরে। সেই সঙ্গে বমি ভাব বা বমি, হালকা জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় পাথর পিত্তথলি থেকে বোরোতে গিয়ে পিত্তনালিতে আটকে যায় এবং তখন বিলিরুবিনের বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন জন্ডিসও হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য এই উপসর্গের পাশাপাশি পেটের আলট্রাসনোগ্রামই যথেষ্ট। পাথরের অবস্থান জানতে বা প্রয়োজনে বের করতে ইআরসিপি জাতীয় পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে পেটের আলসার, যকৃতের কোনো সমস্যা বা এমনকি হূদেরাগেও কাছাকাছি ধরনের ব্যথা হতে পারে বলে সেগুলোর অবস্থাও নির্ণয় করে নেওয়া দরকার হয়।

চিকিৎসা কী?
প্রদাহ ও তীব্র ব্যথার সময় কোনো অস্ত্রোপচার করা হয় না। সাধারণত কয়েক দিনের জন্য মুখে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে প্রাথমিক উপশমের চেষ্টা করা হয়। পরে পিত্তথলি ফেলে দেওয়ার অস্ত্রোপচারটি সপ্তাহ দুয়েক পর বা দু-তিন মাস পর করলেও ক্ষতি নেই। পেট কেটে বা ফুটো করে—দুভাবেই এই অস্ত্রোপচার করা যায়। তবে পিত্তনালিতে পাথর আটকে গিয়ে থাকলে ইআরসিপি যন্ত্রের সাহায্যে সেটি বের করে আনা হয়।

ডা. মহিউদ্দিন কাউসার | জানুয়ারি ০৮, ২০১৪ |
সার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো