Wednesday, June 10, 2020

'দিন দ্য ডে' অসাধারণ এক নতুন ধাঁচের মুভি।

'দিন দ্য ডে' অসাধারণ এক নতুন ধাঁচের মুভি।

'দিন দ্য ডে' অসাধারণ এক নতুন ধাঁচের মুভি।

ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটি অনন্ত জলিল ও বর্ষা অভিনীত অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী সিনেমা ‘দিন – দ্য ডে’র ট্রেলার প্রকাশিত হলো। দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দায় এই জুটির ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন দর্শকরা। এবার বলিউডের সমতুল্য দুর্দান্ত অ্যাকশন ও বিজিএম নিয়ে ট্রেলারেই চমকে দিয়েছেন সুপারস্টার অনন্ত জলিল। 

এবার দেশি সিনেমা দেখে দর্শকরা গর্ব করতেই পারবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অ্যাকশনের কাছে দেশি সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যগুলো সবসময় পিছিয়ে ছিল। পিছিয়ে ছিল প্রযুক্তি ব্যবহারেও ক্ষেত্রেও। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বেশ তৎপর ঢালিউড সিনেমাপাড়া। আর সেই প্রচেষ্টার সবশেষ চমক দেখালেন অনন্ত জলিল তার ‘দিন – দ্য ডে’ সিনেমায়। 

রোববার (১৫ মার্চ) অনন্ত জলিলের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয় ‘দিন – দ্য ডে’ সিনেমার ট্রেলার। ২ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ট্রেলারে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন এই অভিনেতা ও প্রযোজক। 

সিনেমাটি ইরান ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে। ইরানের মুর্তুজা আতাশ জমজম এবং বাংলাদেশের প্রযোজক অনন্ত জলিলের ‘এজে’ ব্যানারে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।  

ট্রেলারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় অনন্ত জলিল জানিয়েছেন, এখন ইরানে সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, তুরস্ক ও আফগানিস্তানে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে বলে জানান এই জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অননত জলিল। মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সিনেমার মতো একটা অনুভব আনতেই ‘দিন-দ্য ডে’ টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে এই সিনেমাটি। 


অনন্ত জলিল বলেন কোরবানীর ঈদেই ছবিটি মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। সেই ভাবেই সব কাজ গুছিয়ে নিচ্ছি।” 

বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায় এ চলচ্চিত্রে অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তার স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা আফিয়া নুসরাত বর্ষা। এতে একজন চৌকস সোয়াট সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করছেন অনন্ত জলিল; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তা-ই তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে জানান এ অভিনেতা।

অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটির বাংলাদেশ অংশের প্রযোজনার দায়িত্বে আছেন তিনি। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন ছটকু আহমেদ।

সবশেষ ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছে এ অভিনেতার চলচ্চিত্র‘মোস্ট ওয়েলকাম-২’।২০১০ সালে ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে অভিষেক হওয়ার পর ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘দ্য স্পিড’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’, ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন অনন্ত জলিল।

Tuesday, May 19, 2020

অসহায়দের ২৫ লক্ষ টাকা দেবেন অনন্ত জলিল এখনই আবেদন করুন।

অসহায়দের ২৫ লক্ষ টাকা দেবেন অনন্ত জলিল এখনই আবেদন করুন।

অসহায়দের ২৫ লক্ষ টাকা দেবেন অনন্ত জলিল

অসহায়দের ২৫ লক্ষ টাকা দেবেন অনন্ত জলিল এখনই আবেদন করুন।

পর্দায় তিনি একজন নায়ক। অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলায় তার একমাত্র কাজ। পর্দার বাইরেও তিনি একজন মানবিক মানুষ। বিপদে আপদে ছুটে যান দরিদ্র অসহায় মানুষদের পাশে।

এবার নিজের ভক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এই অভিনেতা-প্রযোজক। সমগ্র বাংলাদেশে অসহায়দের ২৫ লক্ষ টাকা দেবেন অনন্ত জলিল।

আগামী ২০ মে (২৬ রোজায়) অনন্ত তার যাকাত ফান্ড থেকে এই অর্থ প্রদান করবেন বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বার্তাটি প্রেরণ করেছেন। বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে অনন্ত জলিল বলেন, 'আমার ফ্যানদের জন্য সুখবর। তিনি প্রথমে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। আমার যাকাত ফান্ড থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে ৫০০ জনকে। তাতেই মানুষ হুড়মুড় খেয়ে এপ্লিকেশন করতে থাকে ।

তারপরে তিনি আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন। 
আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া অ্যাপ্লিকেশনের সংখ্যা
গতকালকে ৫০০০+ ছিল।

আমি গত রাতে ঘুমাতে পারিনি, সবাই আশা নিয়ে আমার কাছে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন ।
আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা,এবং আজকে ১১ হাজার + অ্যাপ্লিকেশন দেখার পরে আমি ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষনা দিয়েছি । এ যাবৎ আমার কাছে ১৪০০০+অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে।

আমি এই ২৫ লাখ টাকা দিয়ে ১২৫০ জনকে ২০০০ টাকা করে পাঠাতে পারবো ‌।
আজ দুপুর থেকে আমার ফ্যাক্টরিতে আমি ১০ জনের একটি স্পেশাল টিম গঠন করে দিয়েছে , যারা সব অ্যাপ্লিকেশনগুলো যাচাই-বাছাই করছেন।
আমি মন থেকে চাইছি যে যতজনই আমাকে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন, তাদের সবাইকেই আমি সাহায্য করি। কিন্তু এই মুহূর্তে তা আমার সামর্থের বাইরে। আপনারা সবাই জানেন যে আমি শুধুমাত্র গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। আমার দ্বিতীয় কোনো ইনকাম সোর্স নেই।

বিগত দুই মাস ধরে সারা বিশ্বের করোনার এই মহামারীতে অনেক শিপমেন্ট ক্যান্সেল হয়ে গেছে।
এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হয়েছে। আমি আমার জায়গা থেকে নিঃস্বার্থভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি মানুষকে সহযোগিতা করার। তাই আপনারা আমাকে মন থেকে ক্ষমা করে দিবেন, আমি সত্যিই অনেক কষ্ট পাচ্ছি আপনাদের সবাইকে সহযোগিতা করতে না পারার জন্য।

ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকবেন আমার জন্য আমার পরিবারের জন্য, আমার ফ্যাক্টরির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দোয়া করবেন ।
বিস্তারিত জানতে ১৭ মে নিজের ফেসবুক পেজ এবং বর্ষার ফ্যান গ্রুপে যুক্ত হবার জন্য ভক্তদের অনুরোধ করেছেন এই ব্যবসায়ী অভিনেতা।

এদিকে সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে অনন্ত জলিলের সিনেমা ‘দিন-দ্য ডে’ সিনেমা। এটি নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায়। হলিউডি একশন ধাঁচের এ সিনেমায় তার সঙ্গে দেখা যাবে বর্ষাসহ ইরান-বাংলাদেশের অনেক শিল্পীদের৷

আপনি যদি অসহায় ও দরিদ্র হয়ে থাকেন তাহলে নিচে এপ্লিকেশন ফর্মের লিঙ্ক দেওয়া হল। সরাসরি ওখান থেকে আপনারা এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করে ঝটপট জমা দিয়ে দিন।

   শুধুমাত্র অসচ্ছলদের জন্য এখনই আবেদন করুন
          নিচের লিঙ্ক থেকে ফর্ম পূরণ করুনঃ 
                             https://forms.gle/ULvoXrNjAcZyX6XEA

Monday, May 18, 2020

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ যারা মাংস ও পোকামাকড় খায়।

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ যারা মাংস ও পোকামাকড় খায়।

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদঃ 

আমাদের পৃথিবীতে প্রায় ২,৯৮,০০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এতোগুলো প্রজাতির মধ্যে কিছু গাছ সুন্দর ও সুগন্ধী ফুল উৎপন্ন করে, কিছু গাছ মাজাদার পুষ্টি-সমৃদ্ধ ফল উৎপন্ন করে, কিছু গাছে আছে ঔষধি গুনাবলী এবং আবার এদের মধ্যে কিছু কিছু উদ্ভিদের রয়েছে পুরোপুরি অদ্ভুত চেহারা ও বৈশিষ্ট্য। চলুন বিশ্বের এরকম সবচেয়ে ১০ অদ্ভুত উদ্ভিদ সম্পর্কে জানা যাক। পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ যারা মাংস ও পোকামাকড় খায়।


১. বাওবাব প্লান্ট

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

‘বাওবাব’ আজব এক গাছ । এগুলোর গোড়া হয় প্রকান্ড ড্রামের মত গোল আর মোটাও। উচ্চতা খুব বেশি নয়। ‘লাউ’ এর মতো দেখতে বাওবাব গাছের ফল খুব মজাদার যা বানরদের খুব প্রিয় খাবার। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আফ্রিকায় । তবে এই গাছের এক প্রজাতি অস্ট্রেলিয়াতেও পাওয়া যায়।বাওবাব গাছের কান্ড দেখতে অনেকটা বোতলের মত হওয়াতে একে ‘বোতল গাছ’ নামেও ডাকা হয়।


 2. লজ্জাবতী উদ্ভিদ

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

লাজুক প্রকৃতির উদ্ভিদটি খুব পরিচিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে। এটি আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখতে পাওয়া যায় ।উদ্ভিদটির স্নায়ুতন্ত্র খুবেই সংবেদশীল প্রকৃতির হওয়ার কারণে পাতাগুলি স্পর্শ করার সাথে সাথে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে। তাছাড়া গাছের ফুলগুলিও খুব সুন্দর।


3. রাফালেসিয়া আনারোলি (Rafflesia Arnoldii)

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

‘রাফালেসিয়া’ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল। এক একটি ফুলের আকার প্রায় তিন ফুট পর্যন্ত বড় হয়। এটি প্রধানত ‘সুমাত্রা’র বনে পাওয়া যায়। তবে ফুলটির গন্ধ খুবই অপ্রীতিকর ও বাজে।

4. বেসবল প্লান্ট

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

‘ইউফির্বিয়া ওবেসা’ বৈজ্ঞানিক নামের গাছটির দেখতে ও আকৃতিতে ঠিক যেন ‘বেসবল’ এর মতো। এটি সাধারণত দক্ষিণ আফ্রিকার কারু মরুভূমিতে দেখতে পাওয়া যায়। তবে বেসবল গাছটি রয়েছে বেশ কিছু বিষাক্ত উপাদান যা শরীরের চামড়ায় তীব্র জ্বালার সৃষ্টি করে।

5. ক্যাকটাস

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

পাতা নেই, শুধু গা-ভর্তি কাঁটা। এমন উদ্ভিদের নাম ক্যাকটাস। উদ্ভিদটির কথা বললে হয়তো অনেকেই মনে করবেন, দুনিয়ার এত গাছ থাকতে কাঁটায় ভরা এই অপ্রয়োজনীয় গাছের কথা কেন? কিন্তু ক্যাকটাস আসলে অপ্রয়োজনীয় কোনো গাছ নয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ক্যাকটাসের রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা।

6. হোয়াইট বেনবেরি প্লান্ট

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

হোয়াইট বেনবেরি (White Baneberry) নামের উদ্ভিদটির সুন্দর ফল দেখে যদি খেতে চান তাহলে তা মোটেও করবেন না। কারণ এতে রয়েছে মানব দেহের পক্ষে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান ।ফলগুলো দেখতে পুতুলের চোখের মতো হওয়াতে এর বিকল্প নাম ‘পুতুলের চোখ। উদ্ভিদটি পূর্ব উত্তর আমেরিকা, পূর্ব কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যর বনভূমিতে পাওয়া যায়

7. সানডিউ প্লান্ট

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

সানভিট প্লান্টের (sundew plant) লম্বা পাতা প্রচুর ঘন গ্রন্থিযুক্ত রোমে আবৃত। কোনো মাছি যদি এর আঠালো রোমে কোনোভাবে আটকে যায় তাহলে উদ্ভিদটি ধীরে ধীরে এনজাইম নিঃসরণের মাধ্যমে মাছিটিকে হজম করে ফেলে।


8. জায়ান্ট সিকোয়াইয়া 

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

আকারের দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ আকৃতির উদ্ভিদ। এর বৃহৎকায় আকারের জন্য একে দৈত্য গাছও বলা হয়। এই উদ্ভিদগুলোর আয়ুষ্কাল প্রায় ৩০০০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

9. ভিনাস ফ্লাইট্রেপ

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

এটিও কলস উদ্ভিদের মতো মাংসাশী এবং খাদ্য হিসেবে ক্ষুদ্র পোকা-মাকড় ও কীটপতঙ্গ খেয়ে থাকে। এটি খুব দ্রুত নিজের শিকারকে ফাঁদে আটকে দেয়। এর ডাইজেস্টিভ এনজাইম দশদিনের মধ্যে পোকা-মাকড় হজম করতে সাহায্য করে।


10. কলস উদ্ভিদ

পৃথিবীর অদ্ভুত ১০ উদ্ভিদ

কলসের মতো দেখতে অদ্ভুত উদ্ভিদটি  আসলে মাংসাশী উদ্ভিদ। মানুষ খেঁকো না হলেও এটি ছোট ছোট পোকা-মাকড় ও কীটপতঙ্গ শিকার করে জীবন ধারন করে। বিশেষ তরল দিয়ে ভরা গভীর গহ্বর শিকার ধরতে সাহায্য করে।

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও টি দেখুনঃ 
পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী যারা বেঁচে থাকে হাজার হাজার বছর।

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী যারা বেঁচে থাকে হাজার হাজার বছর।

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী:

রহস্যময় এই পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাজারো রকমের প্রাণী। একেক প্রাণীর বৈশিষ্ট্য একেক রকম৷ কেউবা দেখতে সুন্দর, কেউ বেশ উপকারী, কেউ বেশ হিংস্র, কেউ আবার স্বল্প আয়ুর প্রাণী হিসেবেও পরিচিত। ঠিক তেমনি পৃথিবীতে দীর্ঘজীবী অনেক প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে। যারা কিনা হাজার হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে এই পৃথিবীতে। আজকে আমরা ঠিক সেরকমই কিছু প্রাণী সম্পর্কে জানবো। যাদেরকে সৃষ্টিকর্তা দীর্ঘদিন যাবৎ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার মতো আয়ু দিয়েছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী যারা বেঁচে থাকে হাজার হাজার বছর।

১। টারডিগ্রেডঃ

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী


টারডিগ্রেড হচ্ছে অমেরুদণ্ডী প্রাণী। টারডিগ্রেড সাধারণত পানিতে বসবাস করে। তবে তাদের সমুদ্রের ৪০ হাজার ফুট গভীরতায় এমনকি হিমালয়ের ২০ হাজার ফুট উচুতেও তাদের বসবাস করতে দেখা যায়। তাদের রয়েছে ৪ জোড়া অর্থাৎ ৮ টি পা। আর এই টারডিগ্রেডের পায়ে ভালুকের মত থাবা ও নখ রয়েছে একারনে টারডিগ্রেডকে ওয়াটার বিয়ারও বলা হয়ে থাকে। তবে এদের ব্যাপারে সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা হল এরা জন্মের পর থেকে আর কখনই মরে না। আপনি মনে চমকে গেলেন এমনটাই দাবি করছেন একদল গবেষকরা। কারণ এরা জন্মের পর থেকে হাজার হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারে।

২।  জেলিফিশ 

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী

চিরযৌবন ধরে রাখতে সক্ষম জেলিফিশ । চলতে চলতে একবা পরিণত বয়সে চলে যায় আবার ফিরে আসে শৈশবে । শরীরের এক অংশ ঝেড়ে ফেলে চলে যায় আরেক অংশে । সুতরাং জেলিফিশের বেলায় নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না তার আয়ু কত । সম্ভবত মৃত্যুকে এড়িয়ে যাওয়ার এক বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছে জেলিফিশ । সাগরে এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েই চলেছে । মনে হচ্ছে যেন সারা পৃথিবীতে জেলিফিশ এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে ।

৩। কচ্ছপ

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী


পৃথিবীর দীর্ঘজীবী প্রাণীদের তালিকায় কচ্ছপ সেরা পাঁচের মধ্যে রয়েছে। কচ্ছপ এমন একটি প্রাণী যাদের চোয়াল আছে কিন্তু দাঁত নেই । শক্ত খোলসে ঢাকা পিঠ । চাইলে এ খোলরেস মধ্যে এরা হাত পা মুখ সব গুটিয়ে রাখতে পারে । আপদকালীন একমাস না খেয়ে, পানিতে না নেমেও বাঁচতে পারে । ঘাস লতাপাতা ফলমূল পোকামাকড় ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে । গ্যালাপাগোস জায়ান্ট কচ্ছপ পৃথিবীর বৃহত্তম কচ্ছপের জাত। সাধারণত এই প্রজাতির কচ্ছপ গড়ে ১৯০ বছর বাঁচে। পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত কচ্ছপটির বয়স ১৮৪ বছর। এই কচ্ছপটির নাম জনাথন, যার জন্ম উনবিংশ শতাব্দীতে। দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে গভর্নরের বাসভবনে এর বাস।

৪। গ্রীনল্যান্ড হাঙ্গর  

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী

মেরুদন্ডী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয়ু পায় এই গ্রীনল্যান্ড হাঙ্গর। এরা সাধারণত উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বাস করে। এই গ্রীনল্যান্ড হাঙরদের উপর ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের একটি গবেষণা চালানো হয়। এই গবেষণায় ২৮ টি হাঙ্গরের বয়স নির্ধারণ করা হয় কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে। যদিও কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে একদম নিখুঁত বয়স বের করা যায় না। তবুও এই সময় গবেষণা করে ৪০০ বছর বয়স্ক একটি মেয়ে হাঙ্গরের খোঁজ পান বিজ্ঞানীরা। গ্রীনল্যান্ড হাঙর সাধারণত ১৫০ বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। বিজ্ঞানীদের মতে এদের এতদিন বাঁচার কারণ হলো এরা খুব ধীরে ধীরে বাড়ে। অর্থাৎ প্রতি বছরে এরা প্রায় ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায় এবং প্রায় ১০০ বছর বয়সে তারা পরিপূর্ণ আকৃতিতে পৌঁছায়।

৫।  হ্যানাকো কই

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী


দেখে মনে হবে যেন রঙবেরঙের গহনা পরে আছে, যাদের অ্যাকুরিয়ামে রেখে পালন করা যায় । এদের কিছু কিছু প্রজাতি ২০০ বছরের বেশি বাঁচে । পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী কেইয়ের নাম ছিল হ্যানাকো । ৭ জুলাই ১৯৭৭ সালে এটি মারা যায় । মৃত্যুকালে এর বয়স হয়েছিল ২২৬ বছর ।


৬।  আর্কটিক তিমি 

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী

পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির তিমি আছে । নীল তিমি, ব্যালেন তিমি, হ্যামার তিমি, গ্রে তিমি, শুশুক ইত্যাদি । এদের আরেকটি প্রজাতি আছে নাম বো-হেড তিমি । আর্কাটিক সাগরে বাস, তাই বো-হেড তিমিকে আর্কটিক তিমিও বলা হয় । মেরু অন্চলের মানুষ আদিকাল থেকেই জীবনধারণের জন্য শিকারের উপর নির্ভরশীল ।  এরা অস্ত্র নিক্ষেপ করে শিকার ধরত । প্রায় ২০০ বছর আগে এমনই অস্ত্র ছুড়ে মারা শিকারির হাত থেকে বেচেঁ যাওয়া একটি আর্কটিক তিমি সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে যা ওই ছুড়ে মারা অস্ত্র শরীরে নিয়ে এখনও বেচেঁ আছে ।

৭। সাগর কাহগ

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী

এর বৈজ্ঞানিক নাম আর্কটিকা আইল্যান্ডিকা । আঠাঁর মতো লেগে থাকে ।হামাগুড়িঁ দিয়ে চলে । শক্ত খোলসে ঢাকা শরীর । প্রতিবছর এদের খোলসে একটি করে গোলাকার দাগ পড়ে । একে বলা হয় বার্ষিক চিহ্ন । অনেক গাছের গায়েও এমন দাগ দেখে অনুমান করা যায় তার বয়স কত । গবেষকরা এমন কিছু নমুনা সংগ্রহ করে এদের বয়স অনুমান করে দেখেছেন প্রায় ৪০০ বছর ।

৮। অ্যান্টার্কটিক স্পঞ্জ

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী

সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীর কথা শুনতেই মস্তিষ্কে এসে যায় কচ্ছপের নাম। কেননা লোকমুখে শোনা কথা কচ্ছপ অনেক দিন বাঁচে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন এর থেকেও দীর্ঘজীবী কোনো প্রাণী আছে কিনা? হ্যাঁ, এর থেকেও অনেক বেশিদিন বাঁচে এমন প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এটি একটি সামুদ্রিক স্পঞ্জ, যা দীর্ঘ ১১ হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে। এমনটিই দাবি করেছেন একদল প্রাণী গবেষক। ১৫৫০ বছরের পুরনো কিছু স্পঞ্জের সন্ধান পাওয়া গেছে আর্কটিক সাগরে । এই সকল সামুদ্রিক স্পনজ শত শত বছর ধরে নানারকম প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে রয়েছে।

৯। রেড সি আর্চিন

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী


গভীর সাগরে বাস করে রেড সি আর্চিন । প্রথমদিকে এরা বাস করত উত্তর আমেরিকার পশ্চিম তীরে । অগভীর জলাশয় থেকে ৯০ মিটার পযর্ন্ত গভীরে এরা বাস করে । সুঁইয়ের মতো কাঁটার সাহায্যে সাগরের তলদেশে হামাগুড়ি দিয়ে বেড়ায় । এদের কিছু কিছু সদস্য ২৫০ বছরেরও বেশি জীবন পায় ।

১০। তুয়াতারা

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ১০ প্রাণী

আদিম প্রাণী বলতে আমরা বুঝি ডাইনোসরকে, যারা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে বহুকাল আগেই । তারও আগে বাস করত তুয়াতারা । ২০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে তুয়াতারাদের অনেক প্রজাতি ছিল । বর্তমানে মাত্র দুটি প্রজাতি টিকে আছে নিউজিল্যান্ডে । বাকিরা হারিয়ে গেছে প্রকৃতি থেকে । তুয়াতারা পৃথিবীর একটি দীর্ঘজীবী মেরুদন্ডী প্রাণী । বাঁচে প্রায় ২০০ বছর ।

বিস্তারিত জানতে ভিডিও টি দেখুনঃ 

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

 ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান:

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বহু সভ্যতা যেমন গড়ে উঠেছে, তেমনি অনেক সভ্যতা হারিয়ে গেছে কালের অতল গহ্বরে। বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা এসব সভ্যতার মানুষেরা তাদের সীমিত জনশক্তি দিয়ে গড়ে তুলেছিল অসাধারণ কিছু স্থাপনা। যার অকল্পনীয় সৌন্দর্য্য ও অসাধারণ নির্মাণকৌশল আজও মানুষের কাছে বিস্ময়ের বস্তু। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে সেরা স্থানটি বেছে নেওয়া সত্যিই কঠিন। তারপরও আমরা অনলাইন থেকে বিভিন্ন তথ্য ও মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচিত স্থানগুলোকে আপনাদের সামনে পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান তুলে ধরছি। এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেমন আছে, তেমনি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এই স্থানগুলো বিশেষভাবে সমাদৃত।  


১. হারানো শহর মাচুপিচুঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধতম ইনকা সভ্যতার একটি বিস্ময়কর নগরীর নাম মাচুপিচু। মাচুপিচু শব্দের অর্থ হল পুরানো পর্বতের চূড়া, যা মূলত আমেরিকান প্রাচীন জাতি কেচুয়াদের ব্যবহৃত শব্দ। দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে অবস্থিত এই বিধ্বস্ত শহরটি একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। বেশির ভাগ সময়ই মাচুপিচু নগরী মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে। তাই একে বলা হয় মেঘের দেশের নগরী।১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো মাচুপিচু নগরীকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এলাকার অন্তর্ভুক্ত করে এবং ২০০৭ সালে এটি বিশ্বের সাত আশ্চর্যের একটি হয়ে ওঠে।

২. মায়া নগর তিকালঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

মায়া ভাষায় ‘তিকাল’ শব্দের অর্থ কণ্ঠস্বরের স্থান। মধ্য আমেরিকার গুয়েতেমালার গহীন বৃষ্টিবনে গড়ে ওঠা মায়া নগর তিকাল প্রায় ৬ বর্গ মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এটি সুবিশাল মায়া সভ্যতার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন জনপদ। খ্রিস্টীয় ষষ্ট-সপ্তম শতকে তিকাল প্রায় ৩০০ উপাসনালয়, প্রাসাদ, প্রধান চত্বর, বাসগৃহ ও খেলার মাঠ নিয়ে গড়ে উঠেছিল। সে সময় এটি ছিল মায়া সভ্যতার অন্যতম রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র।১৯৭৯ সালে ইউনেস্কো গুয়েতেমালার এই অপূর্ব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে হিউম্যান হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

৩. গিজার পিরামিডঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি হল গিজার পিরামিড। রহস্যময় এই পিরামিডগুলো কায়রো শহরের দক্ষিণ পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে নীলনদ বরাবর অবস্থিত। মিশরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই স্থানটি গিজার কবরস্থান নামেও পরিচিত। পিরামিডগুলো আসলে সে সময়ের রাজাদের সমাধিস্থল। ফারাও রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা হত এই পিরামিডের মধ্যে।সবচেয়ে বড় পিরামিডটি ফারাও রাজা খুফু নির্মাণ করেছিলেন। এটি খুফুর পিরামিড নামেও পরিচিত। ৩০০০ বছরেরও বেশি বয়সের এই পিরামিডগুলো কিভাবে তৈরি হয়েছে এ সম্পর্কে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। প্রতিদিন শত শত পর্যটক রাজাদের জন্য তৈরি করা অসাধারণ নির্মাণকৌশলের এই পিরামিডগুলো পরিদর্শনে আসে।


৪.অ্যাংকর ভাটঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

উত্তর পশ্চিম কম্বোডিয়ার অ্যাংকর শহরে অবস্থিত সুবিশাল এই স্থাপনাটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মন্দির। অ্যাংকর ভাট অর্থ  শহরের মন্দির। ১২শ শতাব্দীতে এই ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা ২য় সূর্যবর্মণ। তিনি এটি তার রাজধানী ও প্রধান উপাসনালয় হিসেবে তৈরি করেন। প্রথমদিকে এটি একটি বিষ্ণু মন্দির ছিল। কিন্তু  পরে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়। অ্যাংকর ভাটের নির্মাণশৈলী খমের সাম্রাজ্যের স্থাপত্য শিল্পকলার অনুপম নিদর্শন। চারদিকে পরিখা বিশিষ্ট শৈল্পিক নৈপূণ্যের নির্দেশক অ্যাংকর ভাটকে আজ ও পৃথিবীর অন্যতম ধর্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৫.পেত্রা নগরীঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

পৃথিবীর অসংখ্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই পাথুরে নগরী পেত্রা। এটি বর্তমান জর্ডানের দক্ষিণ পশ্চিমের গ্রাম ওয়াদি মুসার ঠিক পূর্বে হুর পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। প্রায় দুই হাজার বছরের পুরানো এই নগরী সম্পূর্ণ পাথরের তৈরি। ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এটি ছিল নাবাতাইন রাজ্যের রাজধানী।প্রাচীন আরব নগরী পেত্রার আনাচে কানাচে রয়েছে অনেক গুহা। এই গুহাগুলোই এক কালে মানুষের যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করা হত। পেত্রা নগরীর প্রাচীন দালানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল খাজনেত ফিরাউন মন্দিরটি, যা ফারাওদের ধনভান্ডার নামেও পরিচিত। ১৮১২ সালে জোহান লুডিগ বারখাট নামের একজন সুইস পরিব্রাজক ইতিহাসে বিলীন হয়ে যাওয়া এই নগরী পুনরায় আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো পেত্রা নগরীকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে। 

৬.স্টোনহেঞ্জঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

নব্যপ্রস্তর যুগে নির্মিত স্টোনহেঞ্জ ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারে অবস্থিত একটি প্রাগৈতিহাসিক স্তম্ভ। এটি মূলত বিশাল সমতল ভূমিতে খাড়া পাথরের তৈরি একটি বিস্ময়কর স্থাপনা। অনেকে মনে করেন প্রায় চার হাজার বছর আগে তৈরি এই স্থাপনাটি একটি সমাধিস্থল। আবার অনেকের মতে, জায়গাটি কেবল মন্দির হিসেবে ব্যবহার করা হত।

স্টোনহেঞ্জের সারসন নামে পরিচিত সবচেয়ে বড় পাথরগুলোর ওজন প্রায় ২৫টন এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। ৪ টন ওজনের ছোট পাথরগুলোকে ভাঙলে বা ভেজালে নীলচে আভা দেখা যায়। তাই ছোট পাথরগুলোকে বলা হয় নীল পাথর বা Blue stone। চমৎকার এই প্রাগৈতিহাসিক স্তম্ভটি শুধু ইংল্যান্ডের গৌরব নয়, পুরো পৃথিবীর কাছে এক বিস্ময়। দর্শনার্থীদের কাছে স্টোনহেঞ্জ এক অপার সৌন্দর্যের নাম হলেও, বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি এখনো একটি অমীমাংসিত রহস্য।


৭.কলোসিয়ামঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

ইতালির রোম শহরে অবস্থিত কলোসিয়াম একটি বৃহৎ উপবৃত্তাকার ছাদবিহীন মঞ্চ। রোমান সাম্রাজ্যে নির্মিত অসাধারণ এই গ্যালারিটি গ্লাডিয়েটরসদের মধ্যে লড়াইয়ের প্রতিযোগিতার প্রদর্শনী বা অন্য কোনো প্রদর্শনীর কাজে ব্যবহার করা হত। ৫০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মঞ্চটিকে রোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের এই অনন্য নিদর্শনটি নির্মাণের সময় পাথর এবং কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রায় ৬ একর জমির উপর নির্মিত কলোসিয়ামের দৈর্ঘ্য ১৮৯ মিটার এবং প্রস্থ ১৫৬ মিটার। এতে ছিল ৮০টি প্রবেশদ্বার। রোমান সাম্রাজ্যের সকল নাগরিক বিনামূল্যে কলোসিয়ামে প্রবেশ করতে পারত। ১৯৯০ সালে ইউনেস্কো কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের স্বীকৃতি দেয়। ২০০৭ সালে এটি পৃথিবীতে মানুষের তৈরি আধুনিক সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে নির্বাচিত হয়।

৮.পার্থেননঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

গ্রীসের এথেন্স শহরের মাঝখানে অ্যাক্রোপোলিস পাহাড়ের উপর অবস্থিত পার্থেনন আসলে একটি প্রাচীন মন্দির। দেবী এথিনাকে উৎসর্গ করে এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল ডরিক রীতিতে। এই বিশাল মন্দিরের পুরোটাই মার্বেলের তৈরি।
অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির উপর নির্মিত হওয়ায় ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মন্দিরটি অটুট অবস্থায় দন্ডায়মান ছিল। কিন্তু এর ভেতরের বারুদাগারে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটার ফলে মন্দিরটি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও এথেন্সের চারদিকের বিপুল ধ্বংসলীলার মধ্যে অতীত গৌরবের সাক্ষীরূপে মন্দিরটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।


৯.ইস্টার দ্বীপঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

চিলির উপকূল থেকে ৩৬০০ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপটি পৃথিবীর অন্যতম নিঃসঙ্গ দ্বীপ। প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত জনমানবহীন দ্বীপটির মালিকানা চিলির। ছোট রহস্যময় এই দ্বীপটি ১৭২২ সালে ইস্টার সানডের দিনে আবিষ্কার করা হয় বলে এর নাম দেয়া হয়েছে ইস্টার দ্বীপ। ইউনেস্কো এই দ্বীপটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

১০.তাজমহলঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

পৃথিবীর সাতটি বিস্ময়ের মধ্যে অন্যতম তাজমহল একটি রাজকীয় সমাধি। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজের স্মৃতির উদ্দ্যেশ্যে সৌধটি নির্মাণ করেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত তাজমহল মুঘল সাম্রাজ্যের স্থাপত্যশৈলীর একটি অনুপম নিদর্শন।সামগ্রিকভাবে তাজমহল একটি জটিল অখন্ড স্থাপত্য। যার নির্মাণশৈলীতে আছে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের অপূর্ব মেলবন্ধন। ধারণা করা হয়, তাজমহল নির্মাণের জন্য ভারত, পাকিস্তান, পারস্য ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৮ রকমের মূল্যবান পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো তাজমহলকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অন্তর্ভুক্ত করে। 

১১.আলহাম্বরাঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

আলহাম্বরার পুরো নাম কালাত আলহাম্বরা বা লাল কেল্লা। স্পেনের আন্দালুসিয়ার গ্রানাডাতে অবস্থিত আলহাম্বরা একটি মুসলিম স্থাপত্য। তেরশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে গ্রানাডা আমিরাতের মরিশ শাসকরা এটি নির্মাণ করে।নাসরি রাজবংশের শাসনকালে তৈরি করা এই প্রাসাদটি বাসস্থান ও রাজসভা হিসেবে ব্যবহার করা হত। প্রাচীন এই দূর্গটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৪০ মিটার। ১৯৮৪ সালে ইউনেস্কো আলহাম্বরা কে হিউম্যান হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।


১২.চীনের মহাপ্রাচীরঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে অবস্থিত দ্য গ্রেট ওয়াল অব চায়না মানুষের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থাপনা। চীনের দীর্ঘতম এই প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬৯৫ কিমি এবং উচ্চতা ৪.৫৭ থেকে ৯.২ মিটার বা প্রায় ১৫ থেকে ৩০ ফুট। চওড়ায় প্রাচীরটি প্রায় ৯.৭৫ মিটার বা ৩২ ফুট।চীনা ভাষায় এই মহাপ্রাচীরকে বলা হয় ছাংছং। যার আভিধানিক অর্থ দীর্ঘ দেয়াল। খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীতে এর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজা এই প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ তৈরি করেন।

 ১৩.চিচেন ইতজাঃ

পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের ১৩টি অদ্ভুত ঐতিহাসিক স্থান।

প্রাক কলোম্বিয়ান সময়ে গড়ে ওঠা মায়া সভ্যতার বিখ্যাত পিরামিড চিচেন ইতজা বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি। পৃথিবীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও রহস্যময় এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি পর্যটকদের জন্য একটি অতি আকর্ষণীয় স্থান। বর্তমান মেক্সিকোর উত্তরে ইয়ুকাতান উপদ্বীপে অবস্থিত চিচেন ইতজা মেক্সিকোর একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।  

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও টি দেখুনঃ