Tuesday, June 30, 2020

অত্যান্ত জনপ্রিয় সেরা ১০টি বাংলা ডাবিং ইসলামিক সিরিয়াল।

অত্যান্ত জনপ্রিয় সেরা ১০টি বাংলা ডাবিং ইসলামিক সিরিয়াল।

সেরা ১০টি বাংলা ডাবিং ইসলামিক সিরিয়ালঃ 

ইসলাম ধর্ম নিয়ে অসংখ্য ডকুমেন্টরি নির্মাণ হয়েছে। বিভিন্ন দেশে টেলিভিশন সিরিয়াল নির্মাণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ধর্ম নিয়ে নির্মিত সিরিয়ালগুলোর বেশ কদর রয়েছে। এসব সিনেমা অন্যান্য দেশে ডাবিং করে বিপুল অর্থও আয় করা হয়। সিরিয়ালগুলো নির্মাণও হয় অনেক বড় বাজেটে। এসব সিরিয়ালের বিষয়বস্তু এবং সংলাপের মধ্যে ইসলামী ভাবধারা এবং মুসলমান শাসকদের ইতিহাসের কিছু বিষয় আছে। মধ্যপ্রাচ্যে তো মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে আর বাংলাদেশেরও অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক নৈকট্য তারা বোধ করে। সেটা থেকে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়। চলুন এমনই রোমাঞ্চকর সেরা ১০টি  বাংলা ডাবিং ইসলামিক সিরিয়াল নিয়ে আজকের আয়োজন। আশা করি ভিডিও টি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। তো ভিডিও সম্পূর্ণ দেখুন।

১। আসহাবে কাহাফঃ   

আসহাবে কাহাফ হল ১৯৯৭ সালের একটি ইরানি টিভি ধারাবাহিক যা পরিচালনা করেছেন ফারাজুল্লাহ সালাহশুর। এ সিরিজে আসহাবে কাহাফের ঘটনা ইসলামিক বর্ণনা অনু্যায়ী দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের এসএ টিভি ২০১৭ এর এপ্রিল হতে সিরিজটি বাংলায় সম্প্রচার করা শুরু করে। জনাকয়েক পলাতক যুবক, একটি গুহা আর তিন শতাব্দীর নিদ্রা- আসহাবে কাহাফের মূল কাহিনী। আসহাবে কাহাফ কেবল মুসলিমদের কাছেই প্রবল জনপ্রিয় একটি ঘটনা নয়, বরং খ্রিস্টানদের কাছেও ছিল খুব জনপ্রিয় ও অলৌকিক ঘটনা।

২। সুলতান সুলেমানঃ 

সুলতান সুলেমান একটি তুর্কি ধারাবাহিক টেলিভিশন নাটক যা পরিচালনা করেছেন মেরাল ওকেয় ও ইয়িলমায শাহিন।  প্রাথমিকভাবে তুরস্কের "শো" টিভিতে নাটকটির সম্প্রচার শুরু হলেও পরবর্তীকালে তুরস্কের "স্টার" টিভিতে এর সম্প্রচার স্থানান্তর করা হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি চ্যানেল "দীপ্ত" টিভি ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকটি বাংলা ভাষায় সম্প্রচার শুরু করে। নাটকটি নির্মিত হয়েছে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়কালব্যাপী রাজত্ব বিস্তারকারী উসমানীয় সম্রাট প্রথম সুলাইমান এবং তার স্ত্রী হুররেম সুলতানের জীবনীর উপর ভিত্তি করে, যিনি সুলায়মানের কৃতদাসী হয়েও পরবর্তীকালে তার প্রধান স্ত্রী বা সুলতানা হিসেবে সম্মানিত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।

৩। ইউসুফ জুলেখাঃ 

ইউসুফ জুলেখা একটি ইরানি সিরিয়াল যা ফারজুল্লাহ সালানশুর পরিচালিত ২০০৮ সালের একটি ইরানি টিভি চলচ্চিত্র, যেখানে নবী ইউসুফ(আঃ)-এর ঘটনা কুরআন এবং ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল এসএ টিভি ধারাবাহিকটি বাংলা ভাষায় ডাবিং এর মাধ্যমে ২০১৬ সাল থেকে ইউসুফ জুলেখা নামে এই ধারাবাহিকটি সম্প্রচার করে আসছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই দুই চরিত্র নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিকটি বাংলাদেশ ছাড়াও ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় প্রচারিত হয়েছে।

৪। আলিফ লায়লাঃ 

আলিফ লায়লা হল আরব্য রজনীর গল্প অবলম্বনে নির্মিত একটি ভারতীয় টেলিভিশন ধারাবাহিক। সাগর ফিল্মস এটি নির্মাণ করে। দুটি আলাদা মৌসুমে টেলিভিশন ধারাবাহিকটি নির্মাণ হয়। প্রথম মৌসুমটি ডিডি ন্যাশনাল (দুরদর্শন ন্যাশনাল) চ্যানেলে প্রচারিত হয় এবং দ্বিতীয় মৌসুমটির প্রচার হয় পাকিস্তানের এ.আর.ওয়াই. ডিজিটাল চ্যানেলে। ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে পরবর্তীতে ধারাবাহিকটির বাংলাদেশেও বাংলা ভাষায় ডাব করে সম্প্রচার শুরু হয় বিটিভি এবং একুশে টেলিভিশনে। যা রীতিমত দর্শক সাফল্য পায়। ২০১২ সালে ভারতীয় চ্যানেল ধামাল টিভি এর পঞ্চম সম্প্রচার শুরু করে। বর্তমানে বেসরকারী টিভি চ্যানেল গাজী টিভি নিয়মিতভাবে প্রতি শনিবার থেকে বুধবার রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে এবং প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ৭ টা ৪৫ মিনিটে এই ধারাবাহিকটি বাংলায় প্রচার করছে।


৫। দিরিলিস: আরতুগ্রুলঃ  

দিরিলিস আরতুগ্রুল হল মেহমেত বোজদাগ ও কেমাল তেকদেন কর্তৃক নির্মিত একটি তুর্কি ঐতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চার টেলিভিশন ধারাবাহিক নাটক, যার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এনজিন আলতান দোজায়তান। ইস্তাম্বুলের বেয়কোয জেলার রিভা গ্রামে এর চিত্রধারণ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ১০ই ডিসেম্বর তুরস্কের টি আরটি ১ টেলিভিশনে প্রথম সম্প্রচারিত করা হয়। ২০১৬ সালের ১৪ই নভেম্বর থেকে বাংলাদেশের একুশে টেলিভিশনে সিরিজটির বাংলা সম্প্রচার শুরু করে "সীমান্তের সুলতান" নামে এবং একই বছর ২৩শে ডিসেম্বর এর সম্প্রচার স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের মাছরাঙা টিভিতে ২ এপ্রিল ২০১৭ সাল থেকে "দিরিলিস আরতুগ্রুল" নামে পুনরায় এর সম্প্রচার শুরু করে। ওঘুজ তুর্কিদের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে এটি নির্মিত হয়েছে, যা ১৩ শতাব্দীর মধ্যভাগে উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম উসমানের পিতা এরতুগরুল গাজীর জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে। উসমানের জীবদ্দশায় এই সময়কালের প্রাধান্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়কালই তার মৃত্যুর পর পরবর্তী ছয় শতাব্দীর জন্য উসমানের রাজবংশের অধীনে একটি বিশ্বময় সাম্রাজ্য গড়ে তোলার পথকে প্রশস্ত করেছিল। 
 

৬। কারবালা কাহিনীঃ  

কারবালা কাহিনী হল একটি মহাকাব্যিক ও ঐতিহাসিক টেলিভিশন ধারাবাহিক যা পরিচালনা করেছেন দাভুদ মিরবাঘেরি, ধারাবাহিকটি মুখতার আল-সাকাফির জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। ১৪০ এরও বেশি অভিনেতা এতে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের এসএ টিভি ২০১৮ সালে ধারাবাহিকটি বাংলাদেশে আমদানি করে ও বাংলা ভাষায় ডাবিং করে সম্প্রচার করে। বাংলাদেশ ছাড়াও ধারাবাহিকটি আরো কয়েকটি দেশে কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হয়েছে।


৭। জান্নাতঃ 

কোরিয়ান জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘টিয়ার্স অব হ্যাভেন এর কাহিনী অবলম্বনে জান্নাত পরিচালনা করেছেন তুর্কি নির্মাতা সাদুল্লাহ জেলেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সিরিয়ালটি প্রচারিত হয়েছে তুরস্কের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চ্যানেল এটিভি তে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলায় সম্প্রচার শুরু হচ্ছে বাংলায় ডাবিংকৃত এই টিভি সিরিয়ালটি। 

পারিবারিক ও বর্তমান সময়ের গল্প নিয়ে জান্নাত নির্মিত হয়েছে। যেখানে একটি এতিম মেয়ের জীবনসংগ্রামের নানা বিষয় উঠে এসেছে। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া মেয়েটি যখন স্থপতি হয়ে তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান। তখন তিনি ভাবেন তার জীবনের দুঃখ-দুর্দশা হয়তো দূর হতে শুরু করেছে। কিন্তু উল্টো তার জীবনে নতুন করে আরও জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাকে ফেলে যাওয়া মা আবারও ফিরে আসে তার জীবনে। তবে ভালোবাসা নিয়ে নয়, বরং তার প্রতি তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ নিয়ে। অন্যদিকে মেয়েটির জীবনে যে প্রেমএসেছিল সেখানেও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ায় তার বোন।

৮। মহাবীর গাজী সালাউদ্দিনঃ 

সালাহ আল-দিন আল আইয়ুবি বা বাংলায় ক্রুসেড বা মহাবীর গাজী সালাউদ্দিন‎ হল হাতেম আলী পরিচালিত একটি ২০০১ সালের আরব ঐতিহাসিক টেলিভিশন ধারাবাহিক, যাতে হিজরি ৬ষ্ঠ শতকে মিশর ও ল্যাভান্টের নিকটবর্তী এলাকায় ক্রুসেডের ঘটনা সম্পর্কিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূলত ধারাবাহিকটিতে সালাহ উদ্দিন আয়ুবির জীবনী তুলে ধরা হয়েছে, যিনি হাত্তিনের যুদ্ধের দ্বারা বিনা রক্তপাতে জেরুজালেম দখল করতে সমর্থ হন। ৩০ পর্বের এই ধারাবাহিকটি সালাদিনের জন্ম হতে শুরু করে ঐতিহাসিক ক্রমধারায় সকল ঘটনা পর্যায় ক্রমিকভাবে দেখানো হয়েছে। এর ১ বছর পূর্বে সিরিয়ান পরিচালক নাজদাত আঞ্জুর "সার্চিং ফর সালাদিন" নামে একই বিষয়বস্তু নিয়ে একটি টিভি ধারাবাহিক নির্মাণ করেন। এই ঐতিহাসিক সিরিজটি ২০১৭ সালের ২ই জুলাই হতে বাংলাদেশের এসএ টিভি ধারাবাহিকটি বাংলায় সম্প্রচার শুরু করে।


৯। হাতেম তাইঃ  

আরব্য রজনীর সেই অমর চির সবুজ চরিত্র ‘হাতেম’। ৭ টি ধাঁধাঁর দারণ বিপজ্জনক রহস্য ভেদ করে সাধারন মানুষের উপকারকারী হাতেম এর শত্রু এবার ইবলিশ শয়তানের দোসর দাজ্জাল। যে কিনা তার কালো জাদুর রাজ্য বিস্তার করতে চায় পৃথিবীব্যাপী, কিন্তু তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আল্লাহর ন্যায়পরায়ন বান্দা হাতেম।

দাজ্জাল ইবলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তার শয়তানী শক্তির পূর্ণ প্রয়োগ করলেও হাতেম তার ঈমানী শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করে দাজ্জাল এবং তার কালো জাদু দিয়ে তৈরি দুষ্ট সাঙ্গ-পাঙ্গদের!!! ধাঁধাঁর রহস্য ভেদ করতে গিয়ে নানা রকম বিপদের মুখোমুখী হয় হাতেম। কিন্তু সততা আর সাহসিকতা দিয়ে বারবার বিভিন্ন ধরনের শয়তানী শক্তিকে পরাজিত করে সে।

১০। ওমরঃ

ওমর হল একটি ঐতিহাসিক আরব টেলিভিশন ড্রামা সিরিজ যেটি প্রযোজনা এবং সম্প্রচার করেছিল মিডিল ইস্ট ব্রডকাস্টিং সেন্টার। সিরিজটি পরিচালনা করেন সিরিয়ান পরিচালক হাতিম আলী।

৩১ পর্বের এই সিরিজটি ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক-এর জীবনের ১৮ বছর থেকে শুরু করে মৃত্যুকালীন সময়ের মধ্যকার প্রবাহমান প্রাসঙ্গিক ও পারিপার্শীয় সমসাময়িক ঘটনাবলির উপর ভিত্তি করে এই ধারাবাহিকটি নির্মাণ করা হয়। এই ধারাবাহিকটি ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ইউসূফ আল-কারযাভি ও সালমান আল আওদাহ-এর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়, পাশাপাশি পুরো আরব ও ইসলামিক বিশ্বজুড়ে এটি ব্যাপক বিতর্ক এবং আলোচনা ও সমালচনার ঝড় তোলে। মরোক্কোতেই সিরিজটি্র সকল দৃশ্যের শ্যুটিং করা হয় এছাড়াও মারাক্কেশ, তাঞ্জিয়ায়, এল জাদিদা, কাসাব্লাংকা এবং মহাম্মাদিয়ায় এর প্রধান প্রধান দৃশ্যগুলো ধারণ করা হয়। ২০১২ সালের ২০শে জুলাই থেকে অর্থাৎ রমজানের ৩০ দিন ব্যাপী মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে এবং একইসঙ্গে তুরস্কের এটিভি ও ইন্দোনেশিয়ার এমএনসিটিভিতে প্রচারিত হয়। এছাড়াও ইউটিউবে এর পর্বগুলো টেলিভিশনে প্রচারের পরপরই ইংরেজি সাবটাইটেল সহ প্রকাশ করা হয়। এই ধারাবাহিকটি বিশ কোটি সৌদি রিয়াল ব্যয়ে নির্মিত এবং এপর্যন্ত নির্মিত আরবি ভাষার সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিভি ধারাবাহিক হিসেবে অধিক সমাদৃত।

ভিডিও এর মাধ্যমে বিস্তারিত দেখুনঃ

Rea es:
শেয়ার করুন

Author:

আমি একজন অতি সামান্য মানুষ। পেশায় একজন লেখক,ব্লগার এবং ইউটিউবার। লেখালেখি করতে খুব ভালো লাগে। আমার এই সামান্য প্রয়াসের মাধ্যমে মানুষের কিছু শেখাতে পারা ও বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পায়।

0 coment rios: