সর্বশেষ

Saturday, January 23, 2021

চাঁদ সম্পর্কে অজানা ও অবাক করা ৮টি তথ্য।

চাঁদ সম্পর্কে অজানা ও অবাক করা ৮টি তথ্য।

চাঁদ সম্পর্কে অজানা ও অবাক করা ৮টি তথ্য।

চাঁদকে ঘিরে এখনও অনেক রহস্য। পৃথিবীর এই উপগ্রহটি সম্পর্কে শোনা যায় নানা গল্প কথা। চাঁদের অনেক রোমান্টিক নামও আছে যেমন- ব্লু মুন, ক্রিসেন্ট মুন, ফুল মুন ইত্যাদি। 

রাতের আকাশে খালি চোখে দেখা এই উপগ্রহটি সম্পর্কে জানবো অজানা ৮ টি তথ্য। এছাড়াও এই ভিডিও এর মাধ্যমে জানতে পারবেন পারমানবিক বোমা মেরে চাঁদকে ধ্বংস করার জন্য কেন সেদিন পরিকল্পনা করেছিল আমেরিকা।  চাঁদ সম্পর্কে বেশ কিছু মজার ও অদ্ভুত বিষয় জানতে চলেছেন এই আর্টিকেলটির মাধামে। কাজেই আর্টিকেল টি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য সাদর আমন্ত্রন জানিয়ে শুরু করছি।  
  

১. চাঁদ গোলাকার নয়ঃ

চাঁদের আকৃতি আসলে ডিমের মতো। আপনি যখন এর দিকে তাকান তখন কিন্তু এর ছোট দুই প্রান্তের কোন একটিকে দেখতে পান। চাঁদের ভরের কেন্দ্র ঠিক এর জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। এটি জ্যামিতিক কেন্দ্র থেকে ১ দশমিক ২ মাইল দূরে।

২. সবসময় আমরা চাঁদের পুরোটা দেখতে পাই নাঃ

আমরা যখন চাঁদের দিকে তাকাই তখন এর ৫৯ শতাংশ দেখতে পাই। পৃথিবী থেকে চাঁদের বাকি ৪১ শতাংশ কখনোই দেখা যায় না। আপনি যদি এই তথ্য বিশ্বাস না করেন এবং এটা সত্য কিনা সেটা যাচাই করে দেখতে চাঁদের লুকিয়ে থাকা ওই ৪১ শতাংশের উপরে গিয়ে দাঁড়ান তাহলে কিন্তু সেখান থেকে আপনি এই পৃথিবীকে দেখতে পাবেন না।

৩. ব্লু মুন হয়েছে আগ্নেয়গিরি কারণেঃ

ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাতের পর ১৮৮৩ সালে 'ব্লু মুন' পরিভাষার জন্ম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সেসময় অগ্নুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে এতো বেশি ধুলো ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল যে মানুষ যখন পৃথিবী থেকে চাঁদের থেকে তাকিয়েছিল তখন তাকে দেখতে নীল মনে হয়েছিল। আর এ থেকেই তৈরি হয়েছে 'ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন' কথাটি। বিরল কোন ঘটনা বলতে এই বাক্যটি ব্যবহার করা হয়।

৪. ড্রাগনের কারণেই গ্রহণের ঘটনাঃ  

সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝে চাঁদ এসে পড়লে অথবা সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ এসে দাঁড়ালে তখন সূর্য বা চাঁদের আলো সাময়িকভাবে ম্লান হয়ে যায়। একে বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ কিম্বা সূর্যগ্রহণ। একটি প্রাচীন চীনা বিশ্বাস হচ্ছে- একটি ড্রাগন যখন সূর্যকে গিলে খেয়ে ফেলে তখন সূর্যগ্রহণ হয়। তখন চীনারা তাদের পক্ষে যতোটা সম্ভব আওয়াজ সৃষ্টি করতে থাকে যাতে ড্রাগনটি ভয় পেয়ে দূরে চলে যায়।
চীনারা একসময় আরো বিশ্বাস করতো যে চাঁদের গর্তের ভেতরে একটি বিশাল আকৃতির ব্যাঙ বসবাস করতো। চারশো কোটি বছর আগে মহাকাশ থেকে ছুটে যাওয়া একটি পাথর চাঁদকে আঘাত করলে ওই গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল।

৫. চাঁদের কারণে পৃথিবীর গতি ধীর হয়ঃ

চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসে, তখন জোয়ারের সৃষ্টি হয়। নতুন কিম্বা ফুল মুনের পরপরই এরকম হয়ে থাকে।
তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন শক্তিও চাঁদ চুরি করে নেয়। আর সেকারণে পৃথিবীর গতিও প্রতি ১০০ বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলি-সেকেন্ড করে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে।

৬. চাঁদের আলোঃ

সূর্য একটি পূর্ণ চাঁদের চেয়েও ১৪ গুণ মাত্রায় বেশি উজ্জ্বল। সূর্যের মতো সমান উজ্জ্বলতায় জ্বলতে হলে প্রায় চার লাখ পূর্ণ চাঁদের প্রয়োজন। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে চলে যায় তখন চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দেড় ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটও কমে যেতে পারে। 

৭. লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বুঝেছিলেন ক্রিসেন্ট কি জিনিসঃ 

চাঁদকে আমরা যখন ক্রিসেন্টের আকারে বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো দেখি তখন আমরা চাঁদ থেকে ছিটকে আসা সূর্যের আলোকেই দেখতে পাই। চাঁদের বাকি অংশটা খুব অস্পষ্ট দেখা যায়। সেটাও নির্ভর করে আবহাওয়ার উপরে। শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চিই হলেন প্রথম কোন ব্যক্তি যিনি উপলব্ধি করতে পারছিলেন যে চাঁদ আসলে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে না, বরং এর কিছু অংশ লুকানো থাকে।

৮. চাঁদ পনির দিয়ে তৈরিঃ 

চাঁদের আরো অনেক কিছুই আছে যা এখনও আমাদের অজানা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় এনিয়ে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে জরিপে অংশ নেওয়া লোকজনের ১৩ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে চাঁদ চীজ বা পনির দিয়ে তৈরি।

কেন আমেরিকা চাঁদকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল? 

যুক্তরাষ্ট্র একবার সত্যিই সত্যিই চাঁদের উপর পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণের কথা চিন্তা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা। বিশেষ করে রাশিয়াকে ভয় দেখানো। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অত্যন্ত গোপনীয় এই পরিকল্পনার নাম ছিল "এ স্টাডি অফ লুনার রিসার্চ ফ্লাইটস" অথবা "প্রজেক্ট ১১৯।"

Wednesday, January 13, 2021

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ।

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ।

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ।

মাছে ভাতে বাঙালি এ কথা কে না জানে। কারণ মাছ আমাদের অত্যান্ত প্রিয় খাবার। কিন্তু আপনি জানেন কি? এই পৃথিবীতে ৪০ হাজারেরও বেশি প্রজাতি মাছের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু আপনি কত প্রকার মাছ সম্পর্কে জানেন? এই পৃথিবীতে এমনও সুন্দর সুন্দর মাছ আছে যেগুলো আপনি জীবনে হয়তো নামও শোনেননি এমনকি দেখেননি। আজ হিডেন ফক্স ওয়ার্ল্ড চ্যানেলের ভিউয়ারসদের জন্য এমন ১০ অপূর্ব সুন্দর মাছের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব, এই মাছ গুলো দেখার সাথে সাথে আপনার চোখ দুটো বিমোহিত হয়ে যাবে। তাই ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে শুরু করছি।  

১০।  প্যারোটফিশ

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

মাছটি দেখলে মনে হবে কোনও চিত্রশিল্পী হয়তো একে ধরে ইচ্ছেমতো রঙ মেখে দিয়েছেন। এই মাছের সৌন্দর্য তোতাপাখির চেয়ে কোনো দিক দিয়েই কম নয়। সেজন্যই সম্ভবত এর নাম তোতামাছ বা প্যারোট ফিশ হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, পুরুষ মাছ মারা গেলে যেকোনো একটি স্ত্রী-মাছ তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে, রঙ পরিবর্তন করে এবং এটি প্রভাব বিস্তারকারী পুরুষে পরিণত হয়। তোতামাছের আরেকটি মজার বিষয় হলো, এরা নিজেদেরকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখে। প্রতি রাতে এরা এদের মাথার একটি অংশ থেকে নিঃসৃত মিউকাস দিয়ে দেহকে আবৃত করে রাখে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এরা এভাবে এদের দেহের ঘ্রাণকে আড়াল করে রাখে, যাতে নিশাচর শিকারি প্রাণী আক্রমণ করতে না পারে। তোতামাছ এক থেকে চার ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এদের সুখাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পলিনেশিয়ায় এদেরকে কাঁচা খাওয়া হয়। একসময় এ দেশে তোতামাছকে রাজকীয় খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। শুধু রাজাই খেতেন এ মাছ।

৯। অ্যাঞ্জেলফিশ

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

দক্ষিণ আমেরিকাকে এদের আদি বাসস্থান ভাবা হয়। এরা  দৈর্ঘ্যে ১৫ – ২৬ সেমি এবং চওড়ায় ১১ – ১৫ সেমি পর্যন্ত হয়। পায়ুর কাছের পাখা বড় এবং খাড়া। গায়ে সাদা ও কালো রঙের ছোপ। বসবাসের উপযোগী জলের উত্তাপ কমপক্ষে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরা জীবন্ত খাবার বেশি পছন্দ করে, কিন্তু তৈরি খাবারও খায়। এরা শান্তিপ্রিয়,অন্য মাছের সঙ্গে এদের থাকতে কোনও অসুবিধা হয় না। তবে খুব ছোট মাছ বা মাছের বাচ্চা থাকলে খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। এদের স্ত্রী মাছেরা ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পর মাছগুলোকে আলাদা করে রাখাই ভালো। জলের গভীরতা ৪ – ৬ সেমি হওয়া দরকার। খাবার হিসাবে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম প্রাণীকণা বা জুপ্ল্যাঙ্কটন এদের পক্ষে বেশি উপযোগী।

৮। প্রজাপতি মাছ 

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

নয়নাভিরাম সামুদ্রিক মাছের নাম প্রজাপতি মাছ। পৃথিবীর অধিকাংশ সামুদ্রিক এলাকায় এদের দেখা যায়। এরা সমুদ্র তলদেশের শৈলভূমিতে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। কখনও ঝাঁক বেঁধে, কখনও জোড়ায় জোড়ায়। এদের গায়ের রং এদের মূল সৌন্দর্য। তবে কোনো কোনো প্রজাপতি মাছের দেহের রং অনুজ্জ্বল হলেও অধিকাংশের দেহে রয়েছে উজ্জ্বল নীল, লাল, কমলা ও হলদে রঙের বিচিত্র নকশা। ছোট ছোট মাছগুলো ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। দেহ চ্যাপ্টা ও পাতলা, অনেকটা চাকতির মতো। দিনের বেশির ভাগ সময় এরা প্রবালের মধ্যে ঘুরে-ফিরে কাটিয়ে দেয়। কোনো কোনো প্রজাপতি মাছ প্রবাল ছাড়া কিছুই খায় না। রাতে এরা অন্ধকার প্রবালের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে। এ সময় এদের উজ্জ্বল রঙ আর বিচিত্র নকশা প্রবালের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

৭। লিপস্টিক টাং 

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

"লিপস্টিক টাং" নামে একটি মাছের প্রজাতির নাম রাখা সত্যিই একটা মজার ব্যাপার? এই অদ্ভুত প্রকৃতির মাছের ঠোঁটে নারীরা যেভাবে লিপস্টিক লাগায় ঠিক তেমন দেখায়। এজন্য এ মাছের নামকরণ করা হয়েছে লিপস্টিক টাং। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে পাওয়া এই মাছের ঠোঁট হয় হলুদ বা কমলা রঙের। এরা লম্বায় 45 সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়।  এরা সাধারণত রাক্ষুসে টাইপের মাছ। । তাই এদের অন্যান্য মাছের সাথে রাখা হয় না, কারণ তারা এগুলি খেয়ে ফেলে।   


৬। গাপ্পি মাছ 

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

এরা ভেনেজুয়ালা, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশের মাছ। এরা নানা জাতের হয়, বিচিত্র রঙেরও হয়। এদের আকতি-প্রকৃতিও নানা রকম। এদের চোখগুলো বড় বড়, ঠোঁট একটু উপরের দিকে ওঠা। পুরুষদের পাখাগুলো মেয়েদের পাখার চেয়ে বড়। পুরুষের রঙের বাহারও মেয়েদের চেয়ে বেশি। মেয়েরা আকারে বড় (২ – ৬ সেমি ) হয় ছেলেদের (১.৫ – ৩ সেমি ) তুলনায়। এরা সব রকম আবহাওয়ায় বাঁচে। জলাশয়ের উপরের স্তরেই মূলত ঘোরাফেরা করে। ২০ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই এদের বেশি পছন্দ। এরা সব রকম খাবারই খেয়ে থাকে। 

৫।  ম্যান্ডারিন ফিশ

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

ম্যান্ডারিন ফিশ একটি দুর্দান্ত চেহারার মাছ যা দেখে মনে হয় যেন পুরো শরীরে কোন চিত্রশিল্পী পেইন্টিং করেছে। রঙে খুব উজ্জ্বল, অ্যাকোরিয়াম ব্যবসায়ের জন্য বিক্রি হওয়া সবচেয়ে সুন্দর এক মাছ । ম্যান্ডারিন ফিশ মূলত উষ্ণ জলে বসবাস করতে ভালবাসে।  এবং এই মাছ অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।  এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অস্ট্রেলিয়া এবং রিউক্যু দ্বীপপুঞ্জের প্রবাল প্রাচীরের নিকটে বাস করে এবং ধীর গতি সত্ত্বেও, এই মাছটিকে প্রকৃতিতে সনাক্ত করা কঠিন কারণ এটি প্রায়শই সমুদ্রের তলদেশের নীচে বসবাস করে থাকে।

৪।  ক্লাউন ফিশ

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

অসাধারণ সুন্দর এই মাছের নামটি বড়ই অদ্ভুত, ক্লাউন ফিশ বা "জোকার মাছ"। ক্লাউন ফিশকে বিশ্বের সব থেকে সুন্দর মাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সৌন্দর্যের জন্য একে অনেকে একুরিয়ামে পালন করে থাকে। ক্লাউন ফিশের সারা দেহ কমলা, হলুদ এবং লালচে ও কালচে রঙের হয়। এছাড়াও এদের দেহে অনেক সাদা সাদা রেখা দেখা যায়। এরা লম্বায় ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এরা ভারত মহাসাগর ও প্যাসিফিক মহাসাগরে বাস করে।  কোন কারণে যদি একটি দল থেকে স্ত্রী মাছ মারা যায় বা হারিয়ে যায় বা অন্যত্র চলে যায় তাহলে তাঁর স্থানে চলে আসে লিঙ্গ পরিবর্তনকারী একটি পুরুষ মাছ।  এক বারে একটি ক্লাউন ফিশ একশত থেকে একহাজারটি পর্যন্ত ডিম দেয়। পুরুষ ক্লাউন ফিশ ডিমগুলো পাহারা দেয়। ৬ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ক্লাউন ফিসের বংশগতির ধারা বজায় থাকে।

৩।  বাংগাই কার্ডিনাল ফিশ 

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

অ্যাকুরিয়ামে ব্যবসায়ের জন্য ব্যাঙ্গাই কার্ডিনালফিশকে সর্বাধিক বিখ্যাত বলে মনে করা হয়। দীর্ঘ, কোঁকড়ানো ডানা দিয়ে সজ্জিত এই ক্ষুদ্র ও অনন্য মাছটি কেবলমাত্র বিশ্বের এক জায়গায় তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল,শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়ার বাংগাই দ্বীপপুঞ্জে পাওয়া যায়। এই মাছগুলি খুব সুন্দর এবং বিরল, বাণিজ্যিক মাছের বাজারে এগুলির অত্যান্ত চাহিদা।  কিন্তু এদের বংশবিস্তার কম হওয়ায়  এবং নানাবিধ কারনে এই মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। 

২। ফাইটিং ফিশ

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

এশিয়া মহাদেশের মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এদের স্বদেশ বলে মনে করা হয়। লম্বা, দুই পার্শ্বদেশ চ্যাপটা, পায়ুর পাখনা বেশ প্রশস্ত। পিঠের পাখনা বেশ লম্বা ও উঁচু। লেজের পাখনা গোলাকৃতি। এরা নানা রঙের হয়। পুরুষ মাছেরা বেশি রঙবাহারি হয়। পিঠের ও লেজের পাখনা পুরুষদের বড় হয়। এরা দৈর্ঘ্যে ৬ সেমি মতো হয়। ২৫ – ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তাপে সাধারণ জল এদের বসবাসের পক্ষে উপযোগী। জলাশয়ের নীচের দিকে শ্যাওলার মধ্যে থাকতে এরা বেশি পছন্দ করে। এরা মুখ্যত জুপ্ল্যাঙ্কটনই খায়। এদের একটা পুরুষ অন্য পুরুষ মাছের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। স্ত্রী মাছেরা শান্ত, তারা অন্য জাতীয় বা সমগোত্রীয় মাছের প্রতি অশান্ত ভাবাপন্ন হয় না।
 

১।  সিংহমাছ

অপূর্ব অসম্ভব সুন্দর ১০ টি চমৎকার মাছ

সিংহমাছ মূলত বিষাক্ত সামুদ্রিক মাছ। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত মাছদের মধ্যে অন্যতম এটি। কিন্তু বিষাক্ত হলে কী হবে, এর সৌন্দর্য দেখার মতো। এ যেন গোলাপের মতোই, সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কাঁটার বিষ। এর পাখনায় রয়েছে সুচের মতো তীক্ষ কাঁটা। এ কাঁটা দিয়ে এরা শত্রুর দেহে শক্তিশালী বিষ ছড়িয়ে দেয়। এ বিষের প্রভাবে এদের সাধারণ শত্রু প্রাণী মারা যায়। তবে এদের বিষের প্রভাবে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বিরল। এরা স্করপিয়ন, ড্রাগন ও টার্কি ফিশ নামেও পরিচিত। সিংহমাছের দেহে রয়েছে বিচিত্র ডোরা দাগ। এদের পাখনাগুলো পাখির পালকের মতো নরম। যখন এরা বিচিত্র রঙের পাখনাগুলো মেলে ধরে তখনই এদের আসল সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।  এদের দেহের গড় দৈর্ঘ্য এক ফুট। তবে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। গড় ওজন এক দশমিক দুই কেজি।  অ্যাকুইরিয়ামে এ মাছ পালন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এর বিষ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী না হলেও প্রচণ্ড ব্যথাদায়ক। এর বিষের প্রভাবে মানুষের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টসহ বিতৃষ্ণাভাব দেখা যায়। সিংহমাছ সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও টি দেখুনঃ 

Friday, November 27, 2020

কিভাবে বুঝবেন আপনার বাড়িতে দুষ্ট বা শয়তান জিনের বসবাস।

কিভাবে বুঝবেন আপনার বাড়িতে দুষ্ট বা শয়তান জিনের বসবাস।

কিভাবে বুঝবেন আপনার বাড়িতে জিনের বসবাসঃ  

কিভাবে বুঝবেন আপনার বাড়িতে জিনের বসবাস

কিভাবে বুঝবেন আপনার ঘরে দুষ্ট জিন অথবা আপনার বাড়িতে খারাপ জ্বিনের বসবাস রয়েছে কিনা? 
জ্বিন এক অদৃশ্য জাতি মানব চোখে এদের দেখা কখনো সম্ভব না। যদি কেউ সরাসরি জিনের আকার আকৃতি দেখে তাহলে সাথে সাথে সে অজ্ঞান হয়ে যাবে। সশরীরে তাদেরকে দেখা খুবি দুস্কর ব্যপার।  মতভেদ হিসেবে জ্বিন জাতি চার জায়গায় বসবাস করে। 

১। মানুষের বসতবাড়ি ও টয়লেটে বসবাস করে।    
২। পরিত্যক্ত জায়গায় বা নির্জন জায়গায় বসবাস করে।      
৩। খাল, বিল ও পানিতে বসবাস করে।  
৪। বড় বড় গাছ যেমন বটগাছ, শিমুলগাছ, তালগাছ, আমগাছ, ও শেওড়া গাছ ইত্যাদিতে বসবাস করে। 

 
বেশিরভাগ জ্বিন সাপ এবং কুকুরের বেশে চলাফেরা করে। স্থান ভেদে এরা অন্য আকৃতি ও ধারণ করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এরা সাপ ও কুকুরের বেশ ধারণ করে থাকে বেশি। এজন্য সাপ দেখলে তিন বার বলা উচিৎ জ্বিন হলে চলে যাও যদি না যায় তখন বুঝতে হবে আসলেই সাপ। আর কুকুর হিসেবে এরা কাল কুকুরের বেশ ধারণ করে থাকে বেশি। আর হাদিসে কাল কুকুর কে শয়তান বলেই আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

আপনার ঘরে বা বাড়িতে  জ্বিনের বসবাস আছে কিনা যেভাবে বুঝবেনঃ 

 ১। ঘরে রক্তের ছিটা পাওয়া।
২। ঘরে পানির ছিটা পাওয়া। অর্থাৎ কোন কারণ ছাড়া রক্ত এবং পানির ছিটা পাওয়া। 
৩। লম্বা বা গোল আকারে কাপড় কাটা পাওয়া, অনেক সময় পরিধানের কাপড় চোখের সামনে ছিড়ে যাচ্ছে দেখতে পাওয়া।
৪। গোশতের টুকরা পাওয়া। 
৫। আচমকা ভাবে ঘরের জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া।  
৬। ঘরের ভিতরে অজানা আওয়াজ শুনতে পাওয়া।
৭। ঘরের ভিতরে জিনিসপত্র ঘুছিয়ে রাখার পরেও উলট পালট দেখতে পাওয়া।
৮। ঘরের ছাদে বা টিনের উপর ঢিলের শব্দ হলে।
৯। যদি শিশু বাচ্চা রাত্রে কিছুক্ষন পর পর কান্নাকাটি করলে। তবে খেয়াল করবেন অসুস্থার জন্য কাঁদছে কিনা। 
১০। বাড়িতে কোন সদস্য অস্বাভাবিক আচরণ করলে। যেমন মাথার চুল ছিড়া, মাটিতে শুয়ে লাফালাফি করা অথবা গুংরানোর আওয়াজ করা। 

ঘরের বাহিরে যে লক্ষণগুলি পাবেনঃ

১। চলাফেরার ক্ষেত্রে ঝড় বৃষ্টি নেই পানির ছিটা নিজের উপরে পড়ছে এমন দেখা।
২। পিচ্ছিল খেয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই অথচ আপনি পড়ে গেছেন।
৩। বাসার ছাদে মানুষ নেই অথচ মানুষের আওয়াজ পাওয়া ইত্যাদি। 

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও টি দেখুনঃ 

Sunday, November 8, 2020

বিদেশ কিংবা দূর থেকে স্ত্রী বা প্রেমিকাকে বশে রাখুন।

বিদেশ কিংবা দূর থেকে স্ত্রী বা প্রেমিকাকে বশে রাখুন।

বিদেশ কিংবা দূর থেকে স্ত্রী বা প্রেমিকাকে বশে রাখুন।

স্বামী বিদেশ যাওয়ার আগে স্ত্রীকে বলে গেলো আমি বাড়ি না আসা পর্যন্ত আমার বাড়ি তুমি থেকে কখনই বের হবে না।কয়েকদিন পর স্ত্রীর কাছে খবর আসলো তার বাবা অনেক অসুস্থ্য, কিন্তু তিনি দেখতে যাননি। আবার খবর আসলো তার বাবা মারা গেলো, তার পরও তিনি বাবাকে শেষ দেখা দেখতে যাননি। বাবা মারা যাওয়ার কিছু দিন পর স্বামী বাড়ি আসলো। তখন স্ত্রী স্বামীকে সব খুলে বললো। এবং স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি গেলো। একদিন রাতে স্ত্রী স্বপ্নে দেখেন, তার বাবা এসে বলতেছেন, মা তোমার জন্য আজ আমি বেহেস্তের অনাবিল সুখে আছি। তুমি যদি তোমার স্বামীর নিষেধ অমান্য করে আমাকে দেখতে আসতে তাহলে আমিও সেই পাপের অংশিদ্বার হতাম। ইসলামে এমন ও বিধান আছে যে স্বামীর অনুমিত ছাড়া ফকির কে ১টাকা ভিক্ষা দিতে পারবে না। অথচ বর্তমানে স্ত্রীরা স্বামীকে না জানিয়ে স্বামী সম্পদ ভোগ বিলাসীতায় নষ্ট করেন।

আবার স্বামীর অবাধ্য হয়ে যখন যা ইচ্ছে তাই করে বেড়ায়, যখন যেখানে ইচ্ছে সেখানেই ঘুরে বেড়ায়। বিশেষ করে যাদের স্বামী বিদেশ থাকে তাদের স্ত্রীগণ বাজারে ঘুরে বেড়ায় শুধু তাই নয় পরকীয়া প্রেমে তারাই বেশি জড়ায়। আপনি যার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সারাদিন কষ্ট করে টাকা পাঠাচ্ছেন। বাড়িতে এসে দেখলেন আপনার স্ত্রী অন্যের হাত ধরে চলে গেছেন। নতুবা পরকিয়া করে তিল কে তাল করেছে আর খাল কে সাগর করে ফেলেছে। আপনারা মনে কিছু নিয়েন না। কারণ এমনটাই বেশি হচ্ছে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসছে আমি তো বিদেশ কিংবা দূরে থাকি তাহলে আমি কি করব।  আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে আগে নিজে সৎ থাকুন বিদেশে গিয়ে আবার কাজের বুয়ার সাথে আকাম করবেন না। কারণ পবিত্র কোরআনে বলছে সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্য সচ্চরিত্র নারীকুল। আপনি অসৎ হয়ে আপনার স্ত্রীর সৎ থাকার চিন্তা করা মানে বোকার স্বর্গে বাস করা। 

এখন আপনাকে জানাবো ছোট একটি আমলের মাধ্যমে বিদেশ কিংবা দূরে থেকেও আপনার স্ত্রীকে বশে রাখতে পারবেন। আপনার এই ছোট আমলই আপনার স্ত্রীকে সচ্চরিত্র রাখতে বাধ্য করবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকেউ সচ্চরিত্রবান হতে হবে। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি এ গুণবাচক নামগুলোর জিকির করবে; সে জান্নাতে যাবে।’এ গুণবাচক নামগুলোর আলাদা আলাদা আমল এবং অনেক উপকার ও ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْوَلِيُّ) ‘আল-ওয়ালিয়্যূ’ একটি। এ পবিত্র নামের আমলের মাধ্যমে অবাধ্য স্ত্রীকে সংশোধন করা যায়।
 
*যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْوَلِيُّ) ‘আল-ওয়ালিয়্যূ’-এর জিকির অধিক পরিমাণে করে; সে ব্যক্তি সৃষ্টি জগতের অন্তরের খবরাখবর অবহিত হতে পারে।

*যদি কোনো ব্যক্তির স্ত্রী বা বাদি এমন বদ চরিত্রের অধিকারী হয় যে, তারা ওই ব্যক্তির কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সে যেন ওই স্ত্রী বা বাদির নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বা তার কাছে অবস্থান করে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْوَلِيُّ) ‘আল-ওয়ালিয়্যূ’-এর জিকির অধিক পরিমাণে আদায় করে। এ নামের অধিক জিকিরের ফলে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় বদ স্বভাবের স্ত্রী বা বাদি সংশোধন হয়ে যাবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর অবাধ্য স্ত্রীর স্বামীদেরকে বা অধিনস্থ অবাধ্য নারীদেরকে উক্ত আমলের মাধ্যমে সংশোধন করার তথা দ্বীনের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Saturday, November 7, 2020

 মোটা নারীদের নিয়ে আপনাদের যতসব ভুল ধারণা।

মোটা নারীদের নিয়ে আপনাদের যতসব ভুল ধারণা।

মোটা নারীদের নিয়ে আপনাদের যতসব ভুল ধারণাঃ

মোটা নারীদের নিয়ে আপনাদের যতসব ভুল ধারণা।

কথায় আছে, আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারি! খুব সম্ভবত এ প্রবচনটি আমাদের মাথায় এমনভাবে গেঁথে গিয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে আমরা শুধু দেখেই অনেক কিছু ভেবে ফেলি। এর রেশ ধরে জন্ম নেয় অনেক ভুল ধারণাও। যেমন মোটা নারীদের নিয়ে আমাদের সমাজে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। হ্যাঁ, এমনকি সেসব ভুল ধারণা আছে আপনার মনেও! মোটা নারীরা আমাদের সমাজে এমনিতেই উপেক্ষিত, তার ওপরে এসব ভুল ধারণা তাঁদের জীবনকে করে তোলে আরো দুর্বিষহ। আসুন আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক মোটা নারীদের সম্পর্কে আমরা কি কি ভুল ধারণা পোষণ করে থাকি। তো দেরি না করে শুরু করা যাকঃ 

আমরা সবাই মনে করি মোটা নারীদের যৌনজীবন সুখের হয় নাঃ

যৌনতা আমাদের সমাজে খুবই রাখঢাকের ব্যাপার হলেও এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। শেষ নেই এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনারও। এরই মাঝে একটা হলো মোটা নারীদের যৌনজীবন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা। কোনো এক বিচিত্র কারণে প্রায় বেশির ভাগ মানুষেরই এই ধারণা যে, মোটা নারীদের যৌনজীবন সুখের হয় না। অথচ এটা একটা ভুল ধারণা। আর দশটা সাধারণ নারীদের মতোই তাঁদের যৌনজীবনও স্বাভাবিক ও সুখের হয়। এমনকি তাঁদের দাম্পত্যজীবনেও কোনো সমস্যা হয় না। বরং এক গবেষণায় দেখা গেছে চিকন নারীর থেকে মোটা নারীর যৌন জীবন সুখের হয় বেশি।    
 

মোটা নারীদের বুদ্ধিও মোটা হয়ঃ

আমাদের সমাজে এই ধারণাটা একেবারেই বদ্ধমূল যে, মোটা নারীদের বুদ্ধি কম থাকে! অথচ বুদ্ধি মোটেও শারীরিক গঠনের উপর নির্ভরশীল নয়। একজন মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি তার মস্তিষ্কের গঠনের ওপর নির্ভরশীল। তাই মোটা নারীদের বুদ্ধিও মোটা হবে, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ধারণা।
  

মোটা নারীরা বেশি খায়ঃ

অতিরিক্ত খাবার মানুষের মোটা হবার অন্যতম কারণ এটা সত্য, তবে সব মোটা মানুষই বেশি খায় না। অনেকেই আছেন যাঁরা হরমোনজনিত কারণে বা বংশগতভাবেই মোটা। তাই সব মোটা নারীরাই যে বেশি খায়, এটা মোটেও সত্যি কথা নয়।

মোটা নারীরা অলস বেশি হয়ঃ  

ভারী শারীরিক গঠনের জন্য মোটা নারীদের নড়াচড়া করা একটু কষ্টকর বটে, তবে তার মানে এই নয় যে তাঁরা অলস হন। অনেকেই আছেন যাঁরা প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করে থাকেন। শারীরিক পরিশ্রম করলে ওজন কমে বটে তবে সব ক্ষেত্রে নয়। যাঁরা হরমোনের সমস্যার কারণে মোটা হয়ে যান তাঁদের কায়িক পরিশ্রম করেও ওজন কমানো বেশ কঠিন। ফলে তাঁরা কাজ করলেও শারীরিক গঠনের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। তাই মোটা মাত্রেই যে অলস, এ কথাটি একেবারেই ভুল ধারণা। 

মোটা নারীদের কেউ ভালোবাসে নাঃ

সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরদিনের। সুন্দর শারীরিক গঠনের নারী ও পুরুষরা সবাইকে আকৃষ্ট করে সহজেই। তাই এ ধারণাটা আমাদের সমাজে বহুলভাবে প্রচলিত যে মোটাদের কেউ ভালোবাসে না। অথচ এটিও ভুল ধারণা। মোটা মানুষদের জীবনেও প্রেম আসে, তাঁদেরকেও কেউ না কেউ ভালোবাসে। বরং পুরুষরা প্রেম করার চিকন নারী খোঁজে আর বিয়ে করে মোটা নারী। বিশ্বাস না হলে মিলিয়ে দেখুন। 

মোটা নারীরা সৃজনশীল হয় নাঃ 

প্রতিটি নারীই জন্মগত ভাবে সৃজনশীল ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে আসে, কেউ কম কেউ বেশি। এই সৃজনীশক্তি কারোটা বিকশিত হয়, কারোটা হয় না। মোটা নারীদের সৃজনশীল হয় না এ কথা মোটেও ঠিক না। শিল্পকলার অনেক ক্ষেত্রেই অনেক মোটা মানুষ অবদান রেখেছেন। যেমন  নায়িকা গায়িকা, চাকুরীজীবী সবখেত্রেই একটু লক্ষ্য করে দেখুন বেশিরভাগ নারীই কিন্তু মোটা।  কাজেই তাঁদের ভারী শরীর কখনোই তাঁদের সৃজনশীলতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। 

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও টি দেখুনঃ 
জিন কি নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে?

জিন কি নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে?

জিন কি নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে? 

জিন কি নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে


সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যারা জিন পরিকে বিশ্বাস করি না।  এই কন্টেন্ট টি পড়লে আমি বিশ্বাস করিয়েই ছাড়বো যে জিন পরি আছে এবং তারা নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে। কাজেই লেখাটি শেষ পর্যন্ত না দেখে বা না পড়ে কোনরকমই বাজে মন্তব্য করবেন না।  কারণ আপনি সম্পূর্ণ বিষয়টি না জেনে বাজে মন্তব্য করতে পারেন না। তাই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ দেখুন এবং মনোযোগ দিয়ে পড়ুন তারপর আপনার মুখের বুলি কমেন্টের মাধ্যমে ঝাড়ুন। 

জিন পরি নেই এই ধারনাটি একান্তই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং এসব অভিজ্ঞতার ধরন এমনই হয় যে, যাদের এ ধরনের অভিজ্ঞতা নেই তাদের কাছে পার্থিব পন্থায় অকাট্যভাবে প্রমাণ করানো সম্ভব হয় না। কারণ সাধারণত জিন দৃষ্টিগোচর হয় না।

কিন্তু এ ধরনের অভিমত সীমিত জ্ঞানের মানুষেরাই চিন্তা-ভাবনাবিহীন দায়িত্বজ্ঞান বর্জিত অভিমত ছাড়া আর কিছুই না। কারণ, এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতার মধ্যে যা কিছু নেই তা-ই সে অস্বীকার করবে এ ধরনের আচরণ অজ্ঞতার পরিচায়ক। তাই প্রথমে আমরা জিন-পরীর অস্তিত্ব আছে কিনা তার ওপরে আলোকপাত করবো; এরপর জিন-পরী ও মানুষের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বা সহবাস করে কিনা সেটা নিয়ে আলোচনা করবো। 

এ প্রসঙ্গে শুরুতেই উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি যে, কোনো কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে এরূপ ধারণা প্রচলিত আছে যে, মানুষ মারা গেলে তার আত্মা বা ব্যক্তিসত্তা ভুত-পেত্নীতে পরিণত হয় এটা একটা পুরোপুরি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধারণা। কারণ, এর সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, বা কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে না। তবে জিন জাতি আছে এবং তারা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং মানুষের সাথে সহবাস করে এটা প্রমাণ করবো। 

কোরআন মজীদে সুস্পষ্ট ভাষায় জিন্ প্রজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে - মানুষকে মাটির উপাদানে সৃষ্টি করার মোকাবিলায় যাদেরকে আগুনের উপাদানে সৃষ্টি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (সূরাহ্ আর্-রাহমান্ : ১৪-১৫)।

অনেকে মনে করেন যে, কোরআন মজীদে জিনকে আগুনের তৈরী বলতে এনার্জির তৈরী বুঝানো হয়েছে, কারণ, কোরআন নাযিলকালীন সময়ে এ ছাড়া আলাদাভাবে এনার্জির কথা বুঝানো সম্ভব ছিলো না। তাছাড়া আগুন ও এনার্জিতে তেমন একটা পার্থক্য নেই, কারণ, আগুন থেকে এনার্জি তৈরী হয় এবং এনার্জি আগুনে রূপান্তরিত হয়।

কোরআন মজীদে শয়তানকে - যার আসল নাম ইবলীস্ বা আযাযীল - জিনদের একজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরাহ্ আল্-কাহ্ফ্ : ৫০), আর সে কাফের জিনদের অন্যতম ছিলো (সূরাহ্ আল্-বাক্বারাহ্ : ৩৪) বিধায় আল্লাহ্ তা‘আলার হুকুম অমান্য করে হযরত আদম (‘আঃ)কে সিজদাহ্ করতে অস্বীকার করে।

এছাড়া একদল জিন কোরআন শোনার পর ইসলাম গ্রহণ করে - কোরআন মজীদে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (সূরাহ্ আল্-জিন্ : ১-২)। তেমনি হযরত সুলাইমান (‘আঃ) একদল জিনকে বায়তুল্ মুক্বাদ্দাস্ শহরকে সুন্দর করে গড়ে তোলার কাজে নিয়োগ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর সৈন্যদের মধ্যে একদল জিনও অন্তর্ভুক্ত ছিলো (সূরাহ্ আন্-নামল্ : ১৭)। জিন্ প্রজাতি যে আগুন বা এনার্জির উপাদানে তৈরী হবার কারণে দ্রুত চলাচলক্ষম স্থিতিস্থাপক হাল্কা শরীরের অধিকারী তা-ও কোরআন মজীদ থেকে প্রমাণিত হয়। কারণ, ‘ইফ্রীত্ নামক জনৈক জিন্ হযরত সুলাইমানকে (‘আঃ) তাঁর আসন থেকে উঠে দাঁড়াবার আগেই সাবা’ থেকে রাণী বিলকীসের সিংহাসন তাঁর সামনে হাযির করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলো (সূরাহ্ আন্-নামল্ : ৩৯), যদিও সে এটা করার আগেই চোখের পলকের মধ্যে আরেক জন তা এনে হাযির করে। সুতরাং সামগ্রিকভাবে কোনো মুসলমানের পক্ষে জিন্ প্রজাতির অস্তিত্ব অস্বীকার করা সম্ভব নয়। কোরআন দ্বারা জিন জাতির অস্তিত্ত প্রমাণিত। এবার আপনার কমেন্টের পালা।

এবার আসুন জানবো জিন কি নারী বা পুরুসের উপর আছর করে এবং তাদের সাথে কি সহবাস করেঃ 

আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বলে থাকি ঐ নারীর জিনে ধরেছে আবার পুরুষের ক্ষেত্রে বলে থাকি ঐ পুরুষের পরি লেগেছে। ব্যাপারটা কিন্তু একই কথা। এখন একটু ভেঙে বলি। নারী দের ক্ষেত্রে জিন বলতে আমরা পুরুষ জিন কে বুঝি । তবে নারীদের মেয়ে জিন ও লাগতে পারে। কিন্তু নারীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ জিন আছর করে।  

আবার পুরুষের ক্ষেত্রে বলি পরি লেগেছে। এখানে পরি বলতে মেয়ে জিন কে বোঝানো হয়।  আমরা অনেকেই পরি বলতে মনে করি অসম্ভব সুন্দরী নারী যার দুইটা ডানা থাকবে এবং হাটে যাদুর কাঠি থাকবে। সেই যাদুর কাঠি দারা যা ইচ্ছা তাই সামনে হাজির করতে পারবে। এটা আপনাদের ভুল ধারণা। কারণ ছেলেদের পরী নয় বরং নারী জিনে আছর করে। তবে পুরুষ জিন ও আছর করতে পারে।  

এক কোথায় নারীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ পুরুষ জিন আছর করে। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নারী জিন আছর করে। আর এটা করার মূল কারণই হল ভালো লাগা বা ভালোবাসা। তারা শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আছর করে। তবে সব জিন শারীরিক সম্পর্ক করে না। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, “জিন যৌন ইচ্ছা পূরণ করার জন্য, খারাপ ইচ্ছা অথবা ভালোবাসা থেকে মানুষকে দখল করার চেষ্টা করে। এটা ফাহেশা (অশ্লীল) এবং নিষিদ্ধ আচরণ।  ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, “আনন্দ হাসিলের অর্থ হচ্ছে, নিজের ইচ্ছামত কারো কাছ থেকে কোনকিছু নিয়ে নেয়া বা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তাকে ব্যবহার করা। কিন্তু কোন জুলুমই শেষ অবধি শাস্তিবিহীন থাকবে না, তা ইহকালে হোক কিংবা পরকাল।

এক প্রকার আশিক জ্বিন হলো- যারা ব্যক্তির দেহকে ভালোবাসে এবং দেহের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে এবং এই দেহে তাদের সবরকম অধিকার আছে বলে মনে করে। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহকে শুধুই একটা ভোগের বস্তু মনে করে। কেউ কেউ মনে করে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বিবাহিত হলে জিন তাদের বিবাহিত জীবনে অনেক জটিলতা তৈরি করে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে নানান জটিলতা সৃষ্টি করে শেষ অবধি তালাক পর্যন্ত নিয়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি অবিবাহিত হলে তার বিবাহ নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করে বিয়েকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

এক প্রকারের আশিক জিন অনেক বেশি ক্ষতিকর এবং এরা ফাহশা বা অশ্লীল কাজে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ব্যবহার করে। পার্ভার্ট / বিকৃত রুচির জিন বলতে পারেন। মানসিক এবং শারীরিকভাবে অনেক টর্চার করে, কখনো তাদের পরিচিত অথবা অপরিচিত মানুষের রূপে এসে ধর্ষণ করে। এটা স্বপ্নের মত অথবা জাগ্রত অবস্থায়ও হতে পারে। কখনো আক্রান্ত ব্যক্তির বন্ধু বা তার সাথে যে থাকে তাকেও পজেস করে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোতে উদ্বুদ্ধ করে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমকামীতায় অথবা কোন প্রানীর সাথে শারীরিক সম্পর্কেও জড়াতে চায় অনেকসময়।

অন্য কিছু আশিক জিন আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেনা কিন্তু ব্যক্তির প্রতি একধরনের আকর্ষণ অনুভব করে। মানুষের মধ্যে যেমন উত্ত্যক্তকারী থাকে তেমনি এই জিনও আক্রান্ত ব্যক্তিকে দূর থেকে দেখে দেখে উপভোগ করার চেষ্টা করে। এভাবে থাকতে থাকতে একসময় কখনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যক্তিকে পজেস করারও চেষ্টা করতে পারে। এখন আপনি হয়তো এই কথাগুলো  বিশ্বাস করছেন না। কারণ আপনি হয়তো কখনই জিন দেখেন নি বা জিন দারা ভুক্তভুগি নয়।  কারণ আগেই বলেছি ভুক্তভুগীরা ছাড়া এটা কেউ জানতে পারে না। তবে আপনি যদি কোন রোগীকে কাছ থেকে দেখেন তাহলে বিশ্বাস না করে পারবেন না। 

আমি নিজেই অনেকবার দেখেছি। আমাদের এক প্রতিবেশি চাচির মাগরিবের আজানের পর  জিন শূন্যে ভাসিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাঠের দিকে। আর আমি সন্ধার সময় মাঠ থেকে বাড়িতে ফিরছিলাম ঐ সময় দেখি একটা মহিলা উড়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন পরে দেখলাম চাচির ছেলেরা ও চাচা এবং গ্রামের কিছু লোক মাঠের দিকে দৌড়িয়ে আসছে। আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা তোর চাচির দেখেছিস মাঠের দিকে আসতে। তখন আমি বললাম আকজন মহিলা শূন্যে ভেসে যাচ্ছিলেন।  

তখন ওরা বলল কোন দিকে নিয়ে গিয়েছে? আমি তখন ওদের নিয়ে চাচির খুজতে গেলাম। তারপর খুজতে খুজতে বিশাল এক মেহগনি বাগানে একটি গাছের নিচে উলঙ্গ হয়ে পড়ে আছে। পরবর্তীতে তাকে বাড়ি নিয়ে এসে কবিরাজ নিয়ে আসা হল। তখন কবিরাজ জিন সাধন করে এক কলস পানি  দাতে নিয়ে একটু ডাল ভেঙে জিন কে চলে যেতে বললেন। তারপর জিন কবিরাজের কথা মত তাই করলেন। পরে চাচি সুস্থ হয়ে গেলেন। এছাড়াও আমি আরও অনেক দেখেছি। কথাগুলো মিথ্যা নয়। আমি একজন মুসলমান হয়ে যদি মিথ্যা বলি তাহলে এই মিত্থার জন্য সাজা হক। আশা করি এর চেয়ে আমার ব্যাখ্যা দেওয়ার কিছুই নেই। এরপর ও যদি বিশ্বাস না করেন তাহলে ভালো ইমাম সাহেবের কাছ থেকে শুনে নিন। অথবা ইউটিউব এ অনেক বক্তার ভিডিও আছে। এছাড়াও ভুক্তভুগীদের অনেক ভিডিও পাবেন। 

 এবার আপনার কমেন্টের পালা। এখন আপনার যা খুশি তাই কমেন্ট করতে পারেন। তবে সত্যতা না জেনে বাজে মন্তব্য করবেন না। এই ব্যাপারে সত্যতা জানতে আরও খোঁজ খবর নিতে পারেন। 

Sunday, October 25, 2020

সাবধান!! পিতামাতার যেসব ভুলে হিজড়া সন্তান হয়।

সম্মানিত সুপ্রিয় পাঠক হিজড়াদের সাথে আমরা কম বেশী সবাই পরিচিত। কিছু মানুষ হিজড়াদের সাথে মজা করতে পছন্দ করে, কেউ আবার এড়িয়ে চলে। নারীদের ক্ষেত্রে তারা হিজড়াদের রীতিমত ভয় পায় বিশেষ করে তাদের অশোভন আচরণ এর কারণে। হিজড়ারা মূলত সমাজে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে না পেরে নিজেরা আলাদা সমাজ গড়ে তোলে। পরে সমাজ তাদেরকে বঞ্ছিত করেছে স্বাভাবিক জীবন থেকে এই ধারণা থেকে এসব অশোভন আচরণ করে থাকে। হিজড়াদের সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। অনেকে আবার ভুল ধারণা পোষন করি। আসুন আজ জেনে নেব হিজরা হওয়ার কারণ সম্পর্কে। হিজড়া কি? কেন হিজড়া হয়? হিজড়া কত প্রকার? হিজড়ার কি চিকিৎসা সম্ভব? বিশেষকরে আরও জানতে পারবেন পিতামাতার কোন কোন ভুলের কারনে হিজড়া সন্তান জন্ম হয়। এছাড়াও আরও জানতে পারবেন হিজড়া সন্তান গর্ভে আসলে সেই সন্তান কি স্বাভাবিক বাচ্চায় রুপান্তরিত করা সম্ভব। প্রথমে আমরা হিজড়া সন্তান জন্ম নেওয়ার ব্যাপারে পবিত্র কোরআন কি বলে সেটা জানব। তারপর জানব হিজড়া সন্তান জন্মানোর ব্যাপারে বিজ্ঞান কি কি ব্যাখ্যা দিচ্ছে?? আশা করি আর্টিকেলটি টি আপনার জন্য দেখা উচিত। তো চলুন শুরু করা যাক।   

হিজড়া সন্তান জন্ম হওয়ার ব্যাপারে হাদিস ও কোরআনের ব্যাখাঃ 

হিজড়া শব্দটি এসেছে আরবী হিজরত বা হিজরী শব্দ থেকে যার আভিধানিক অর্থ পরিবর্তন বা Migrate বা Transfer।  হিজড়া’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ উভয় লিঙ্গ (Common Gender), ইংরেজীতে একে ট্রান্সজেন্ডার (Transgender) বলা হয়।যদি সহজে বুঝতে চান হিজড়া কি তাহলে এতটুকু বুঝুন যে, একজন মানুষ যার শরীরটা পুরষের আর মনটা নারীর অথবা মনটা পুরুষের আর শরীরটা নারীর। 

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হিজড়ারা জীনদের সন্তান। কোন এক বাক্তি আব্বাস (রাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কেমন করে হতে পারে।

জবাবে তিনি বলেছিলেন “আল্লাহ্ ও রাসুল (সাঃ) নিষেধ করেছেন যে মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সংগম না করে”, সুতরাং কোন মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব হলে শয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দারা ঐ মহিলা গর্ববতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে।

(মানুষ ও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় “খুন্নাস”)। প্রমানসুত্রঃ সূরা বানী ইস্রাইল- আর রাহমান -৫৪, ইবনে আবি হাতিম, হাকিম তিরমিজি।

এখন জানবো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ 

মানুষ যেমন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়, শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয় তেমনি যৌন প্রতিবন্ধিও হতে পারে। হিজড়া’রা হচ্ছে যৌন প্রতিবন্ধী। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা হয় মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম তার আকৃতি প্রকৃতি ঠিক করে। এর মধ্যে ২২ জোড়া ঠিক করে একটি শিশুর তাবৎ বৈশিস্ঠ্য আর একজোড়া বা ২টি ক্রোমোজোম ঠিক করে শিশু ছেলে না মেয়ে হবে। সে একজোড়া ক্রোমোজোম বাবার কাছ থেকে আসে XY আর মায়ের কাছ থেকে আসে XX। এই এক্স ও ওয়াই এর কম্বিনেশান জটিলতার কারণে শিশু হিজড়া হয়।

XX প্যাটার্ন ক্রোমোজমে কন্যা শিশু আর XY প্যাটার্ন ক্রোমোজমে সৃষ্ট হয় ছেলে শিশু। অর্থাৎ, X এর সঙ্গে X এর মিলনে মেয়ে বা xx এবং X এর সঙ্গে Y এর মিলনে ছেলে সন্তান বা XY জন্ম নেয়। এবং  ভ্রুনের পূর্ণতার স্তরগুলোতে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে ছেলে শিশুর মধ্যে অন্ডকোষ আর কন্যা শিশুর মধ্য ডিম্ব কোষ জন্ম ।

এক্ষেত্রে ভ্রুনের বিকাশকালে নিষিক্তকরণ ও বিভাজনের ফলে বেশকিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সৃষ্টি হতে পারে যখনি এমনটা হয় তখনি শিশুর লিঙ্গ জনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। সে হয়তো সঠিক লিঙ্গ পায়না, অথবা পুরুষ লিঙ্গ পেয়েও পুরুষত্ব পায়না আবার নারী লিঙ্গ পেয়েও নারীত্ব পায়না।

তখন এক্স ও ওয়াই এর কম্বিনেশান স্বাভাবিক হয়না, যেমন XXY অথবা XYY। বা XYX বা YXY এর ফলে বিভিন্ন গঠনের হিজড়া শিশুর জন্ম হয়। 

হিজড়াদের প্রকারভেদঃ 

আধুনিক জেনেটিক্স বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে হিজড়া হলো সেক্র ক্রোমোজমের ত্রুটিপূর্ণ বিন্যাস (Chromosomal Aberration) বা জিন জনিত জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধি ব্যাক্তি যাদের জন্ম পরবর্তী সঠিক লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়।

হিজড়াদের শারীরিক গঠন মূলত ৪ প্রকার। কিছু হিজড়া হলো যাদের মধ্যে নারী নারী জননাঙ্গ থাকে না। আবার কিছু হিজড়া হলো যাদের পুরুষের সকল বৈশিষ্ট্য থাকা সত্বেও পুরুষ জননাঙ্গ থাকে না। এছাড়া কিছু হিজড়ার উভয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। কারো কোনোটাই থাকেনা। আর শারীরিক ও মানসিক গঠনের উপর নির্ভর করে এদেরকে ৬ ভাগে ভাগ করা যায়।

শারীরিক ভাবে পুরুষ কিন্তু মানষিক ভাবে নারী বৈশীষ্ট্য এর অধীকারী হিজড়াদের বলা হয় অকুয়া, ঠিক বিপরীত হিজড়াদের বলা হয় জেনানা, আর মানুষের হাতে সৃষ্ট বা ক্যাসট্রেড পুরুষদের বলা হয় চিন্নি।

হিজড়াদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনঃ 

হিজড়া বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মানো কোন শিশুর যদি পরিনত বয়সে যাওয়ার আগে চিকিৎসা করা হয় তাহলে বেশীভাগ ক্ষেত্রেই তাকে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু যখন আসলে বোঝা যায় সে সাধারন আর দশজনের থেকে আলাদা তখন আসলে অনেক দেরী হয়ে যায়। এছাড়াও জ‌ন্মের পর বাড়ন্ত সম‌য়ে শিশুর যখন অস্বাভা‌বিকতা বা হিজড়ার বৈ‌শিষ্ট্য প্রকাশ পায়; তাহ‌লে তৎক্ষণাৎ পরিণত বয়সে যাওয়ার আগে যদি স‌ঠিক মেডিকেল ট্রিটমেন্ট করা হয় তাহলে বেশীভাগ ক্ষেত্রেই তাকে সুস্থ করা সম্ভব।

স‌ঠিক অপারেশনের মাধ্যমে হিজড়া‌দের লিঙ্গ সমস্যার সমাধান সম্ভব। মুস‌লিম রাষ্ট্র ইরা‌নে সরকা‌রি উ‌দ্যো‌গে, অপা‌রেশ‌নের মাধ্য‌মে হিজড়া‌দের পূনর্বাস‌নের ব্যবস্থা করা হয়। হিজড়া সম্প্রদায় সৃ‌ষ্টির সেরা জীব বা আশরাফুল মাখলুকাতের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মানু‌ষের পর্যায়ভুক্ত, তারাও সৃষ্টির সেরা। তাদের অবজ্ঞা করা মানে আল্লাহর সৃষ্টিকেই অবজ্ঞা করা।

হিজড়াদের নিয়ে রাসুল (স) এর হাদীস রয়েছে। একজন হিজড়া পবিত্র ক্বাবাঘরের খাদেম এর দায়িত্ব পালন করেছেন বলে শোনা যায়। ভারতে হিজড়ারা ভাতাসহ নানা সুবিধা পায়। পায় একটি সংসদ সদস্যপদ। বাংলাদেশে হিজড়ারা দীর্ঘদিনে আন্দোলন করে ভোটাধিকার এবং তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সরকার তাদেরকে চাকরী বাকরী দেয়ার কথা ভাবছে। তবে তাদের জন্য সবচেয়ে বেশী যেটা প্রয়োজন সেটা হলো শিক্ষা। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে তারা নিজেরাই তাদের অধিকার এবং কাজ খুঁজে নেবে। কিন্তু দু:খের বিষয় হলেও সত্য যে, এদের মধ্যে কিছু লোক হিজড়াদের দিয়ে চাঁদাবাজী করানোর জন্য তাদেরকে বাইরের লোকদের সাথে মিশতে এবং শিক্ষা গ্রহণ করতে দিতে চায়না।