সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক।

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক নিয়ে আজকের আয়োজন। একজন খলনায়ক অভিনেতা একজন নায়ক বা নায়িকাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। শুধু বাংলাদেশের সিনেমাতেই নয়, বিশ্বের সব ধরণের ভাষার চলচ্চিত্রের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে খলনায়কের অভিনয়। ঢালিউডের  সূচনালগ্ন থেকে বাংলা সিনেমায় খলনায়কদের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নির্মম সত্য যে- বর্তমানে সিনেমাতে আর তেমন ভালমানের খলনায়ক দেখা যায় না। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে কৌতুকের মত বড় চরিত্রগুলো। এক কথায় চরম সংকটে পড়েছে ঢালিউড সিনেমার খলনায়ক ও কৌতুক অভিনেতা। আজ আলোচনা করবো স্বর্ণালি যুগের সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল, । আজ তাদের নিয়েই আপনাদের মাঝে কিছু তথ্য তুলে ধরবো।  
সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক।
  • ১। হুমায়ুন ফরিদী   
  • ২। রাজীব
  • ৩। নাসির খান
  • ৪। মিজু আহমেদ
  • ৫। খলিল
  • ৬। এটিএম শামসুজ্জামান
  • ৭। আহমেদ শরীফ
  • ৮। সাদেক বাচ্চু
  • ৯। মিশা সওদাগর
  • ১০। ডিপজল
  • সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক।

   হুমায়ুন ফরিদী

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় প্রথম যাকে নিয়ে আলোচনা করবো তিনি হলেন হুমায়ুন ফরিদী। হুমায়ুন ফরিদী ১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। হুমায়ুন ফরিদী ছিলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি ১৯৬৫ সালে পিতার চাকুরীর সুবাদে মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ সময় মাদারীপুর থেকেই নাট্য জগতে প্রবেশ করে। তার নাট্যঙ্গনের গুরু বাশার মাহমুদ। তখন নাট্যকার বাশার মাহমুদের শিল্পী নাট্যগোষ্ঠী নামের একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে কল্যাণ মিত্রের 'ত্রিরত্ন' নাটকে 'রত্ন' চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয় তিনি সর্বপ্রথম দর্শকদের সামনে অভিনয় করেন। এরপর এই সংগঠনের সদস্য হয় 'টাকা আনা পাই', 'দায়ী কে', 'সমাপ্তি', 'অবিচার'সহ ৬টি মঞ্চ নাটকে অংশ নেয়। তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। অভিনয়ের জন্য ২০১৮ সালের একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।



অবশেষে ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর পিতার চাকুরীর সুবাদে চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আল-বেরুনী হলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল-দীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলতঃ এ উৎসবের মাধ্যমেই তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন।এরপর তিনি গণমাধ্যমে অনেক নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯০-এর দশকে হুমায়ুন ফরীদি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। সেখানেও তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বাংলাদেশের নাট্য ও সিনেমা জগতে তিনি অসাধারণ ও অবিসংবাদিত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে হুমায়ুন ফরিদী দুবার বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮০'র দশকে। 'দেবযানী' নামের তার এক মেয়ে রয়েছে এ সংসারে। পরবর্তীতে অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফাকে বিয়ে করলেও ২০০৮ সালে তাদের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন হুমায়ুন ফরিদী।
নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে সম্মাননা প্রদান করেন।নৃত্যকলা ও অভিনয় শিল্পের জন্য ২০১৮ সালের একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ। তিনি ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

 2   রাজীব



 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,


সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন রাজীব। ওয়াসীমুল বারী রাজীব ১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যিনি রাজিব নামেই বেশি পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা। তিনি প্রায় চার শতাধিক বাংলা চলচিত্রে অভিনয় করেছেন। খলনায়ক হিসেবে সফল হলেও অনেক চলচ্চিত্রে ভিন্ন চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্য রয়েছে তিনি দাঙ্গা (১৯৯২), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), ভাত দে (১৯৮৪) প্রভৃতি। ১৯৮২ সালে কাজী হায়াৎ-এর ‘খোকন সোনা’ নামের একটি সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রাজীবের। 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে তার অবদানের জন্য তিনি চার বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পেয়েছেন।
তার স্ত্রীর নাম ইসমত আরা এই দম্পতির পাঁচ সন্তান। তিন ছেলে, প্রথম দুই ছেলে সন্তান জমজ ছিলেন-এরা ১৯৯৬ সালে দুর্ঘটনায় নৌকা ডুবে মৃত্যুবরণ করেন। তৃতীয় ছেলের নাম সায়নুল বারী দ্বীপ। দুই মেয়ে- নাম রানিসা রাজীব ও রাইসা রাজীব।রাজিব ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর ক্যান্সারে আক্রান্ত্র হয়ে ৫২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

    নাসির খান

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন  নাসির খান। নাসির খান ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা। তিনি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করতেন। নাসির খান পাঁচশতাধিক বাংলা চলচিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্য রয়েছে বেদের মেয়ে জোৎস্না, অন্তরে অন্তরে, বিক্ষোভ, এই ঘর এই সংসার, পাগল মন প্রভৃতি। নাসির খান পাঁচশতাধিক বাংলা চলচিত্রে অভিনয় করেছিলেন।নাসির খান খলনায়ক হিসেবে বেশি পরিচিত। তার দেওয়া বিভিন্ন সংলাপ দর্শকদের মুখে মুখে এখনো শুনা যায়। " মামা বলতো ভাগ্নে বেশী লোভ করিসনে ", " আমার দয়া আছে কিন্তু মায়া নাই " ," কথা কম কাজ বেশী মানুষকে আমি বড় ভালোবাসি ", " আমার দুঃখ আছে কিন্তু কষ্ট নাই " মুরব্বি যা বলে বুদ্ধিমানরা সে মত চলে`` এই সংলাপগুলো অন্যতম। 
নাসির খান অভিনীত চলচিত্রের মধ্যে বেদের মেয়ে জোস্ন্যা, অন্তরে অন্তরে, বিক্ষোভ, এইঘার এই সংসার, ভন্ড উল্লেখযোগ্য । আলিফ লায়লা, সুপারম্যান, রবিনহুড ইত্যাদি বেশ কিছু শিশুতোষ চলচিত্রে অভিনয় করে তিনি শিশুদের কাছেও জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে কোন রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় সম্মান দেওয়া হয়নি। নাসির খান ছাত্র জীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ চলচিত্র শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ চলচিত্র শিল্পী সমিতির সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত কার্যকারী সদস্য ছিলেন। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত নাসির খান ভক্তদের মাঝে বেচেঁ আছেন, যার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি যে এলাকায় বসবাস করতেন তা আজ নাসির খানের গলি নামে পরিচিত।২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারীতে তিনি মা, তিন কন্যা, স্ত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে ৪৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

   মিজু আহমেদ 

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন মিজু আহমেদ। অভিনেতা মিজু আহমেদের প্রকৃত নাম মিজানুর রহমান। জন্ম ১৯৫০ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায়। ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার 'তৃষ্ণা' ছবির মাধ্যমে খল অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আগমন তার। এরপর গাংচিল, মাসুম, জনতা এঙ্প্রেসসহ তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতিও নির্বাচিত হন মিজু আহমেদ।তিনি মিজু আহমেদ নামে সর্বাধিক পরিচিত। 

আশির দশকে তিনি নাট্যধর্মী মহানগর (১৯৮১), সঙ্গীত-নাট্যধর্মী নয়নের আলো (১৯৮৪), অপরাধ-নাট্যধর্মী সারেন্ডার (১৯৮৭), ও নাট্যধর্মী সত্য মিথ্যা (১৯৮৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নব্বইয়ের দশকে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ হল অপরাধধর্মী দাঙ্গা (১৯৯১), ত্রাস (১৯৯২), ত্যাগ (১৯৯৩), দেশপ্রেমিক (১৯৯৪), খলনায়ক (১৯৯৬), মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), অপরাধধর্মী আম্মাজান (১৯৯৯)। ১৯৯২ সালে ত্রাস চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ২০১০ সালে ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ খলচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। আহমেদ ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম নাম হচ্ছে মিজানুর রহমান। শৈশবকাল থেকে তিনি থিয়েটারের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তী তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলের সাথে অন্তর্ভূক্ত হন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে থেকে তিনি বিএসসি বিভাগ নিয়ে উত্তীর্ণ হন।১৯৭৮ সালে তৃষ্ণা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।কয়েক বছর পরে তিনি ঢালিউড চলচ্চিত্র শিল্পে অন্যতম সেরা একজন খলনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়াও তিনি তার নিজের চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস মুভিজ এর ব্যানারে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ছিলেন। মিজু আহমেদ পারভীন আহমেদকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির তিন সন্তান। দুই মেয়ে তাসনিম আহমেদ ও আফিয়া আহমেদ এবং ছেলে হারসাত আহমেদ। তিনি ২৭ মার্চ ২০১৭ তারিখ ঢাকা থেকে ট্রেনে করে মানুষ কেন অমানুষ চলচ্চিত্রের শুটিং করতে দিনাজপুর যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।

 ৫   খলিল   

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন খলিল। খল অভিনেতা খলিলের প্রকৃত নাম খলিলউল্লাহ খান। ১৯৩৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে তার জন্ম। ছাত্র জীবন থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। প্রথমে মঞ্চে কাজ করেন। ১৯৬০ সালে 'প্রীত না জানে রীত' ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় আসেন তিনি। পরে 'সোনার কাজল' ছবিতেও নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। 'জংলী ফুল' ছবি দিয়ে খলনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু তার। ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয়শ' ছবিতে অভিনয় করেন। পাশাপাশি টিভি নাটকেও অভিনয় করেন।

 চলচ্চিত্রে দক্ষ খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিকবার জাতীয়, বাচসাসসহ বিভিন্ন সংগঠনের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০১২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাও ছিলেন খলিল।খলিল ১৯৫৪ সালে মানিকগঞ্জের রাবেয়া খানমকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। খলিল ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন। 


   এটিএম শামসুজ্জামান

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন এটিএম শামসুজ্জামান। অভিনেতা, গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, নির্মাতা এটিএম শামসুজ্জামানের জন্ম ১৯৪১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায়। স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু তার। কবি ফেরদৌসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুল ম্যাগাজিনে প্রথমবার 'অবহেলা' নামে গল্প লিখেন। সত্তরের দশকের শুরুতে নারায়ণ ঘোষ মিতা, খান আতাউর রহমান, কাজী জহির ও সুভাষ দত্তের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। একই সঙ্গে চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭২ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার 'নীল আকাশের নীচে' ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে ১৯৭৭ সালে আমজাদ হোসেনের 'নয়নমনি' ছবিতে খলনায়ক হয়ে আসেন তিনি। এতে মোড়ল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে চলচ্চিত্রে মন্দ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। এরপর খলনায়ক হিসেবে 'গোলাপী এখন ট্রেনে', সূর্য দীঘল বাড়ী', অশিক্ষিতসহ অনেক ছবিতে অভিনয় করেন ও পুরস্কৃত হন। একসময় অবশ্য মন্দ মানুষের চরিত্র থেকে বেরিয়ে এসে কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। একাধারে তিনি টিভি, মঞ্চ ও বেতারে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে 'এবাদত' নামে একটি ছবি পরিচালনা করেন তিনি। এখনো অভিনয়ে সক্রিয় রয়েছেন জনপ্রিয় এই খল ও কৌতুক অভিনেতা।

   আহমেদ শরীফ 

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন আহমেদ শরীফ। অভিনেতা আহমেদ শরীফের প্রকৃত নাম শরীফউদ্দীন আহমেদ। ১৯৪৩ সালের ১২ আগস্ট কুষ্টিয়ায় তার জন্ম। ১৯৭২ সালে খোকন মাসুদ নামে নজরুল ইসলামের 'স্বরলিপি' ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। পরে খল অভিনেতা হিসেবে ডাকু মনসুর, রাজদুলারী, মহেশখালীর বাঁকে, রুপালী সৈকতে, রাজমহলসহ প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এবং জাতীয়, বাচসাসসহ নানা সংগঠনের অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। টিভি নাটক পরিচালনায় করেন এই অভিনেতা। বর্তমানেও অভিনয়ে সক্রিয় রয়েছেন আহমেদ শরীফ।আহমেদ শরীফ বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। তার অভিনীত প্রথম ছবির নাম ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’। সুভাষ দত্ত পরিচালিত এ ছবিতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন আহমেদ শরীফ। তবে খলনায়ক হিসেবে ১৯৭৬ সালে তিনি প্রথম অভিনয় করেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় ‘বন্দুক’ ছবিতে। এ ছবিটি সুপারডুপার হিট হয়। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি আহমেদ শরীফ টেলিভিশনের জন্য কিছু নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। ২০০১ সালে প্রথম নির্মাণ করেন টেলিফিল্ম ‘ক্ষণিক বসন্ত’। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য তিনি নির্মাণ করেন নাটক ‘ফুল ফুটে ফুল ঝরে’। দীর্ঘ আট বছর পর নাদের খানের প্রযোজনা ও রচনায় হাস্যরসাত্মক গল্পের এ নাটকের নাম ‘মাইরের ওপর ওষুধ নাই’। পারিবারিক জীবনে তার একটি মেয়ে আছে। আহমেদ শরীফ বর্তমানে উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে থাকেন।



 ৮  সাদেক বাচ্চু

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন সাদেক বাচ্চু। সাদেক বাচ্চু ১ জানুয়ারি ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে খল অভিনেতা। তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন ১৯৮৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রামের সুমতি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। সাদেক বাচ্চু বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তার স্ত্রীর নাম শাহনাজ জাহান।

তার অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা হলো মাটির পরী (২০১৬),মিয়া বিবি রাজি (২০১৬),রাজা ৪২০ (২০১৬), পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী টু (২০১৬),বুলেট বাবু (২০১৬),  ভালোবাসাপুর ( ২০১৬ ), ব্ল্যাক মানি (২০১৫), আরো ভালোবাসবো তোমায় (২০১৫), লাভ ম্যারেজ (২০১৫), কমিশনার (২০১৫), লাভার নাম্বার ওয়ান (২০১৫), ভালোবাসা সীমাহীন (২০১৫), দুই পৃথিবী (২০১৫), মহুয়া সুন্দরী (২০১৫), রাজা বাবু (২০১৫), স্বপ্ন যে তুই (২০১৪), লোভে পাপ পাপে মৃত্যু (২০১৪), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩),তোমার মাঝে আমি (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), দুর্ধর্ষ প্রেমিক (২০১২), জিদ্দি মামা (২০১২), ১০০% লাভ (বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না) (২০১২), মায়ের চোখ (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), এক জবান (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮),ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), কোটি টাকার কাবিন (২০০৬),মরণ কামড় (১৯৯৯), কে আমার বাবা (১৯৯৯), লাল বাদশা (১৯৯৯), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), ডিসকো ড্যান্সার (১৯৯৪),সুজন সখি (১৯৯৪), এক পৃথিবী প্রেম, চলো পালাই বসগিরি, পলকে পলকে তোমাকে চাই, ডনগিরি(২০১৯), পদ্মার প্রেম(২০১৯)।



 ৯    মিশা সওদাগর

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন মিশা সওদাগর। মিশা সওদাগরের জন্ম ১৯৬৬ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায়। ১৯৮৬ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানে আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আসেন তিনি। প্রথম অভিনয় করেন ১৯৯০ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদের 'চেতনা' ছবিতে। এতে নায়ক ছিলেন তিনি। একই বছর নায়ক হিসেবে 'অমরসঙ্গী' নামের আরেকটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে 'আশা আমার ভালোবাসা' ছবিতে প্রথম খলনায়ক হয়ে আসেন এবং সাফল্যের সঙ্গে এ পর্যন্ত আট শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এবং এখনো অভিনয়ে যুক্ত আছেন। ২০১১ সালে 'বস নাম্বার ওয়ান' ছবিতে অভিনয়ের জন্য খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন তিনি। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকও তিনি।

 ১০   ডিপজল

 সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়ক, বাংলাদেশি খলনায়কের তালিকা, ভিলেন, বাংলাদেশি ভিলেন, সেরা খলনায়কদের জীবনী, হুমায়ুন ফরিদী, রাজীব,নাসির খান,মিজু আহমেদ, খলিল, এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর,  ডিপজল,

সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কের তালিকায় এবার আছেন ডিপজল। খল অভিনেতা ডিপজলের প্রকৃত নাম মনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় তার জন্ম। ১৯৯২ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের 'টাকার পাহাড়' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে খলনায়ক হিসেবে চিত্রজগতে আসেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্রের মন্দলোক হিসেবে চরম খ্যাতি পান তিনি। তার মুখের প্রতিটি সংলাপই দর্শকের মুখে মুখে ফিরত। তাকে 'কেরাবেরা কিং', 'বাসু'সহ নানা উপাধিতে ভূষিত করে দর্শকরা। খলনায়ক চরিত্রে দুই ডজনেরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ২০০৬ সালে নিজের প্রযোজিত 'কোটি টাকার কাবিন' ছবির মাধ্যমে খলনায়কের পরিবর্তে অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু তার। তিনি প্রযোজকও।
সর্বকালের সেরা ১০ জন খলনায়কদের দেখতে হলে নিচের ভিডিওতে ক্লিক করুনঃ 


No comments

Powered by Blogger.