বিখ্যাত ৭ জন গণিতবিদের জীবনীঃ
পৃথিবী সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে অনেক পন্ডিত, গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী,দার্শনিকের জন্ম হয়েছে। তবে আজকে পৃথিবীর বিখ্যাত ৭ জন গনিতবিদের জীবনী সংক্ষিপ্ত আকারে মূল বিষয়বস্তু গুলো তুলে ধরব।
১.আল খারিজমিঃ
আল খারিজমিকে বীজগণিতের জনক বলা হয়। ৭৮০ থেকে৮৫০ মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তার পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খারিজমি। তার জন্ম সোভিয়েত রাশিয়ার আরব সাগরে পতিত আমু দরিয়া নদীর একটি দ্বীপের নিকটে অবস্থিত খোয়ারিজম নামক শহরে। এই শহরটি প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র ছিল যার তত্কালীন নাম ছিল উরগেঞ্চ। তার জন্ম তারিখ বা শৈশব ও কৈশোর সম্বন্ধে কিছু জানা যায়নি। তবে আনুমানিক ৭৮০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।আল খারিজমি খলিফা আল মামুনের বায়তুল হিকমাহ সংলগ্ন গ্রন্থাগারে গ্রন্থাগারিকের চাকুরি করতেন। খলিফা মামুনের মৃত্যুর পরও তিনি জীবিত ছিলেন এবং পরবর্তী খলিফা আল ওয়াতহিকের শাসনকালের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পাটিগণিত, বীজগণিত, ভূগোল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্রভূত অবদান রাখেন। তবে মূলত বীজগণিতের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশী আলোচিত হন।এজন্যই তাকে বীজগণিতের জনক বলা হয়। খলিফা আল মামুনের মৃত্যুর ১৪ বছর পর (আনুমানিক ৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে) আল খারিজমির মৃত্যু হয়।
২.আর্যভট্টঃ
৩.ইউক্লিডঃ
প্রাচীন গ্রিক গণিতবিদ ইউক্লিড। তিনি জ্যামিতি শাস্ত্রের জনক হিসেবে পরিচিত। তাঁর জন্ম ও জীবন সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৩৬৫ সালের কাছাকাছি সময়ে তাঁর জন্ম হয়। বেঁচে ছিলেন প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সাল পর্যন্ত। তিনি প্লেটোর ছাত্র ছিলেন। প্লেটোর স্কুলে পড়াশোনা করেছেন বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা। গণিতের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর লেখা গ্রন্থগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটির সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে বিখ্যাত বই এলিমেন্টস। বইটি প্রকাশিত হয় মোট ১৩ খণ্ডে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সালে রচিত বইটিতে রয়েছে সংজ্ঞা, স্বতঃসিদ্ধ, সূত্র ও অনুসিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন প্রস্তাবনার গাণিতিক প্রমাণ। ১৩টি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইউক্লিডীয় জ্যামিতি এবং প্রাথমিক সংখ্যাতত্ত্ব। ছাপাখানা আবিষ্কারের (১৪৮২) পর সর্বপ্রথম মূদ্রিত বইগুলোর মধ্যে এলিমেন্টস অন্যতম। এক হাজারেরও বেশিসংখ্যকবার মুদ্রিত হওয়ার জন্য মুদ্রণ সংখ্যার দিক থেকে বাইবেলের পরেই এর অবস্থান। বইটি প্রভাবিত করেছে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি, নিকোলাস কোপারনিকাস, জোহানেস কেপলার ও বিশেষভাবে আইজাক নিউটনকে।





