Saturday, November 7, 2020

জিন কি নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে?

জিন কি নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে? 

জিন কি নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে


সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যারা জিন পরিকে বিশ্বাস করি না।  এই কন্টেন্ট টি পড়লে আমি বিশ্বাস করিয়েই ছাড়বো যে জিন পরি আছে এবং তারা নারী ও পুরুষের সাথে সহবাস করে। কাজেই লেখাটি শেষ পর্যন্ত না দেখে বা না পড়ে কোনরকমই বাজে মন্তব্য করবেন না।  কারণ আপনি সম্পূর্ণ বিষয়টি না জেনে বাজে মন্তব্য করতে পারেন না। তাই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ দেখুন এবং মনোযোগ দিয়ে পড়ুন তারপর আপনার মুখের বুলি কমেন্টের মাধ্যমে ঝাড়ুন। 

জিন পরি নেই এই ধারনাটি একান্তই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং এসব অভিজ্ঞতার ধরন এমনই হয় যে, যাদের এ ধরনের অভিজ্ঞতা নেই তাদের কাছে পার্থিব পন্থায় অকাট্যভাবে প্রমাণ করানো সম্ভব হয় না। কারণ সাধারণত জিন দৃষ্টিগোচর হয় না।

কিন্তু এ ধরনের অভিমত সীমিত জ্ঞানের মানুষেরাই চিন্তা-ভাবনাবিহীন দায়িত্বজ্ঞান বর্জিত অভিমত ছাড়া আর কিছুই না। কারণ, এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতার মধ্যে যা কিছু নেই তা-ই সে অস্বীকার করবে এ ধরনের আচরণ অজ্ঞতার পরিচায়ক। তাই প্রথমে আমরা জিন-পরীর অস্তিত্ব আছে কিনা তার ওপরে আলোকপাত করবো; এরপর জিন-পরী ও মানুষের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বা সহবাস করে কিনা সেটা নিয়ে আলোচনা করবো। 

এ প্রসঙ্গে শুরুতেই উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি যে, কোনো কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে এরূপ ধারণা প্রচলিত আছে যে, মানুষ মারা গেলে তার আত্মা বা ব্যক্তিসত্তা ভুত-পেত্নীতে পরিণত হয় এটা একটা পুরোপুরি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধারণা। কারণ, এর সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, বা কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে না। তবে জিন জাতি আছে এবং তারা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং মানুষের সাথে সহবাস করে এটা প্রমাণ করবো। 

কোরআন মজীদে সুস্পষ্ট ভাষায় জিন্ প্রজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে - মানুষকে মাটির উপাদানে সৃষ্টি করার মোকাবিলায় যাদেরকে আগুনের উপাদানে সৃষ্টি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (সূরাহ্ আর্-রাহমান্ : ১৪-১৫)।

অনেকে মনে করেন যে, কোরআন মজীদে জিনকে আগুনের তৈরী বলতে এনার্জির তৈরী বুঝানো হয়েছে, কারণ, কোরআন নাযিলকালীন সময়ে এ ছাড়া আলাদাভাবে এনার্জির কথা বুঝানো সম্ভব ছিলো না। তাছাড়া আগুন ও এনার্জিতে তেমন একটা পার্থক্য নেই, কারণ, আগুন থেকে এনার্জি তৈরী হয় এবং এনার্জি আগুনে রূপান্তরিত হয়।

কোরআন মজীদে শয়তানকে - যার আসল নাম ইবলীস্ বা আযাযীল - জিনদের একজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরাহ্ আল্-কাহ্ফ্ : ৫০), আর সে কাফের জিনদের অন্যতম ছিলো (সূরাহ্ আল্-বাক্বারাহ্ : ৩৪) বিধায় আল্লাহ্ তা‘আলার হুকুম অমান্য করে হযরত আদম (‘আঃ)কে সিজদাহ্ করতে অস্বীকার করে।

এছাড়া একদল জিন কোরআন শোনার পর ইসলাম গ্রহণ করে - কোরআন মজীদে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (সূরাহ্ আল্-জিন্ : ১-২)। তেমনি হযরত সুলাইমান (‘আঃ) একদল জিনকে বায়তুল্ মুক্বাদ্দাস্ শহরকে সুন্দর করে গড়ে তোলার কাজে নিয়োগ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর সৈন্যদের মধ্যে একদল জিনও অন্তর্ভুক্ত ছিলো (সূরাহ্ আন্-নামল্ : ১৭)। জিন্ প্রজাতি যে আগুন বা এনার্জির উপাদানে তৈরী হবার কারণে দ্রুত চলাচলক্ষম স্থিতিস্থাপক হাল্কা শরীরের অধিকারী তা-ও কোরআন মজীদ থেকে প্রমাণিত হয়। কারণ, ‘ইফ্রীত্ নামক জনৈক জিন্ হযরত সুলাইমানকে (‘আঃ) তাঁর আসন থেকে উঠে দাঁড়াবার আগেই সাবা’ থেকে রাণী বিলকীসের সিংহাসন তাঁর সামনে হাযির করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলো (সূরাহ্ আন্-নামল্ : ৩৯), যদিও সে এটা করার আগেই চোখের পলকের মধ্যে আরেক জন তা এনে হাযির করে। সুতরাং সামগ্রিকভাবে কোনো মুসলমানের পক্ষে জিন্ প্রজাতির অস্তিত্ব অস্বীকার করা সম্ভব নয়। কোরআন দ্বারা জিন জাতির অস্তিত্ত প্রমাণিত। এবার আপনার কমেন্টের পালা।

এবার আসুন জানবো জিন কি নারী বা পুরুসের উপর আছর করে এবং তাদের সাথে কি সহবাস করেঃ 

আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বলে থাকি ঐ নারীর জিনে ধরেছে আবার পুরুষের ক্ষেত্রে বলে থাকি ঐ পুরুষের পরি লেগেছে। ব্যাপারটা কিন্তু একই কথা। এখন একটু ভেঙে বলি। নারী দের ক্ষেত্রে জিন বলতে আমরা পুরুষ জিন কে বুঝি । তবে নারীদের মেয়ে জিন ও লাগতে পারে। কিন্তু নারীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ জিন আছর করে।  

আবার পুরুষের ক্ষেত্রে বলি পরি লেগেছে। এখানে পরি বলতে মেয়ে জিন কে বোঝানো হয়।  আমরা অনেকেই পরি বলতে মনে করি অসম্ভব সুন্দরী নারী যার দুইটা ডানা থাকবে এবং হাটে যাদুর কাঠি থাকবে। সেই যাদুর কাঠি দারা যা ইচ্ছা তাই সামনে হাজির করতে পারবে। এটা আপনাদের ভুল ধারণা। কারণ ছেলেদের পরী নয় বরং নারী জিনে আছর করে। তবে পুরুষ জিন ও আছর করতে পারে।  

এক কোথায় নারীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ পুরুষ জিন আছর করে। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নারী জিন আছর করে। আর এটা করার মূল কারণই হল ভালো লাগা বা ভালোবাসা। তারা শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আছর করে। তবে সব জিন শারীরিক সম্পর্ক করে না। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, “জিন যৌন ইচ্ছা পূরণ করার জন্য, খারাপ ইচ্ছা অথবা ভালোবাসা থেকে মানুষকে দখল করার চেষ্টা করে। এটা ফাহেশা (অশ্লীল) এবং নিষিদ্ধ আচরণ।  ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, “আনন্দ হাসিলের অর্থ হচ্ছে, নিজের ইচ্ছামত কারো কাছ থেকে কোনকিছু নিয়ে নেয়া বা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তাকে ব্যবহার করা। কিন্তু কোন জুলুমই শেষ অবধি শাস্তিবিহীন থাকবে না, তা ইহকালে হোক কিংবা পরকাল।

এক প্রকার আশিক জ্বিন হলো- যারা ব্যক্তির দেহকে ভালোবাসে এবং দেহের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে এবং এই দেহে তাদের সবরকম অধিকার আছে বলে মনে করে। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহকে শুধুই একটা ভোগের বস্তু মনে করে। কেউ কেউ মনে করে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বিবাহিত হলে জিন তাদের বিবাহিত জীবনে অনেক জটিলতা তৈরি করে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে নানান জটিলতা সৃষ্টি করে শেষ অবধি তালাক পর্যন্ত নিয়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি অবিবাহিত হলে তার বিবাহ নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করে বিয়েকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

এক প্রকারের আশিক জিন অনেক বেশি ক্ষতিকর এবং এরা ফাহশা বা অশ্লীল কাজে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ব্যবহার করে। পার্ভার্ট / বিকৃত রুচির জিন বলতে পারেন। মানসিক এবং শারীরিকভাবে অনেক টর্চার করে, কখনো তাদের পরিচিত অথবা অপরিচিত মানুষের রূপে এসে ধর্ষণ করে। এটা স্বপ্নের মত অথবা জাগ্রত অবস্থায়ও হতে পারে। কখনো আক্রান্ত ব্যক্তির বন্ধু বা তার সাথে যে থাকে তাকেও পজেস করে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোতে উদ্বুদ্ধ করে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমকামীতায় অথবা কোন প্রানীর সাথে শারীরিক সম্পর্কেও জড়াতে চায় অনেকসময়।

অন্য কিছু আশিক জিন আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেনা কিন্তু ব্যক্তির প্রতি একধরনের আকর্ষণ অনুভব করে। মানুষের মধ্যে যেমন উত্ত্যক্তকারী থাকে তেমনি এই জিনও আক্রান্ত ব্যক্তিকে দূর থেকে দেখে দেখে উপভোগ করার চেষ্টা করে। এভাবে থাকতে থাকতে একসময় কখনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যক্তিকে পজেস করারও চেষ্টা করতে পারে। এখন আপনি হয়তো এই কথাগুলো  বিশ্বাস করছেন না। কারণ আপনি হয়তো কখনই জিন দেখেন নি বা জিন দারা ভুক্তভুগি নয়।  কারণ আগেই বলেছি ভুক্তভুগীরা ছাড়া এটা কেউ জানতে পারে না। তবে আপনি যদি কোন রোগীকে কাছ থেকে দেখেন তাহলে বিশ্বাস না করে পারবেন না। 

আমি নিজেই অনেকবার দেখেছি। আমাদের এক প্রতিবেশি চাচির মাগরিবের আজানের পর  জিন শূন্যে ভাসিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাঠের দিকে। আর আমি সন্ধার সময় মাঠ থেকে বাড়িতে ফিরছিলাম ঐ সময় দেখি একটা মহিলা উড়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন পরে দেখলাম চাচির ছেলেরা ও চাচা এবং গ্রামের কিছু লোক মাঠের দিকে দৌড়িয়ে আসছে। আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা তোর চাচির দেখেছিস মাঠের দিকে আসতে। তখন আমি বললাম আকজন মহিলা শূন্যে ভেসে যাচ্ছিলেন।  

তখন ওরা বলল কোন দিকে নিয়ে গিয়েছে? আমি তখন ওদের নিয়ে চাচির খুজতে গেলাম। তারপর খুজতে খুজতে বিশাল এক মেহগনি বাগানে একটি গাছের নিচে উলঙ্গ হয়ে পড়ে আছে। পরবর্তীতে তাকে বাড়ি নিয়ে এসে কবিরাজ নিয়ে আসা হল। তখন কবিরাজ জিন সাধন করে এক কলস পানি  দাতে নিয়ে একটু ডাল ভেঙে জিন কে চলে যেতে বললেন। তারপর জিন কবিরাজের কথা মত তাই করলেন। পরে চাচি সুস্থ হয়ে গেলেন। এছাড়াও আমি আরও অনেক দেখেছি। কথাগুলো মিথ্যা নয়। আমি একজন মুসলমান হয়ে যদি মিথ্যা বলি তাহলে এই মিত্থার জন্য সাজা হক। আশা করি এর চেয়ে আমার ব্যাখ্যা দেওয়ার কিছুই নেই। এরপর ও যদি বিশ্বাস না করেন তাহলে ভালো ইমাম সাহেবের কাছ থেকে শুনে নিন। অথবা ইউটিউব এ অনেক বক্তার ভিডিও আছে। এছাড়াও ভুক্তভুগীদের অনেক ভিডিও পাবেন। 

 এবার আপনার কমেন্টের পালা। এখন আপনার যা খুশি তাই কমেন্ট করতে পারেন। তবে সত্যতা না জেনে বাজে মন্তব্য করবেন না। এই ব্যাপারে সত্যতা জানতে আরও খোঁজ খবর নিতে পারেন। 


Rea es:
শেয়ার করুন

Author:

আমি একজন অতি সামান্য মানুষ। পেশায় একজন লেখক,ব্লগার এবং ইউটিউবার। লেখালেখি করতে খুব ভালো লাগে। আমার এই সামান্য প্রয়াসের মাধ্যমে মানুষের কিছু শেখাতে পারা ও বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পায়।

0 coment rios: