মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

কিম জন উনের সাথে বাংলাদেশের যোগসূত্র কোথায়?

কিম জন উনের সাথে বাংলাদেশের যোগসূত্র কোথায়?

বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে কিম জন উনকে বাংলাদেশের জামাই বলে আখ্যায়িত করেছে৷ যদিও যারা এই কথা বলে,তাদেরও দাবী বাংলাদেশের সাথে কিম জন উনের মতো স্বৈরাচারী শাষকের কোনো যোগসূত্র নেই! কিম জন উন! উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর ও দুর্ধর্ষ স্বৈরাচারী শাষক! যেখানে স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা,সার্বোভৌমত্ত এইসকল শব্দগুলো অর্থহীন! অপরদিকে বাংলাদেশ, আর যাই হোক বিশ্ব দরবারে শান্তিপূর্ণ, স্বাধীন,সার্বোভৌম এবং গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র! সুতরাং দুটি দেশের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা! তবে, বিভিন্ন ঘটনার আঙ্গিকে বাংলাদেশ ও নর্থ কোরিয়া বিশ্ব দরবারে নানা ভাবে আলোচিত ও সমালোচিত! এবং দুটি সমালচিত দেশের ভেতরে কোনো যোগসূত্র থাকবে না তা কি করে হয়? তাহলে চলুন জেনে আশা যাক কষ্মিন কালে এই দুই দেশের ভেতরে আদোও কোনো সম্পর্ক বা যোগসূত্র ছিলো কিনা! যদি থেকেও থাকে তাহলে তা কি? আদোও এই দুই দেশের ভেতরে কখনো কুটনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি হবে কিনা ইত্যাদি বিষয়! চলুন শুরু করা যাক!  

বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকঃ 

কিম জন উনের সাথে বাংলাদেশের যোগসূত্র কোথায়?

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাক করে ১ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়ার পেছনে দেশ গভীর ষড়যন্ত্র এবং যোগসূত্র রয়েছে উত্তর কোরিয়ার একনায়কতন্ত্র শাসক কিম জং উনের। যদিও কিম জং উনকে বাংলাদেশ সম্পর্কে কখনো কোনো বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। তবে এটা ভাল করেই জানেন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার একটি দুর্লভ দৃষ্টান্ত সে কারণেই হয়তো ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাক করার জন্য উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার কমিউনিটিকে লেলিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করে চীনের আরেকবার কমিউনিটি এটা ২০১৬ সালের ঘটনা যখন বাংলাদেশে দিনকে দিন আর্থিকভাবে উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা শুরু করে। ঠিক সেই সময়টাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সেন্ট্রাল প্রিন্টিং মেশিন যেটির মাধ্যমে সমগ্র ব্যাংকের সকল ধরনের তথ্য-উপাত্ত নিয়ন্ত্রণ করা হয় সেটি হ্যাক হয়ে যায়। 

 অতঃপর বেশ মোটা অংকের একটি অর্থ আত্মসাৎ করে শ্রীলংকা ,সিঙ্গাপুর ,চীন-জাপান, সৌদি আরব সহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের বেসরকারি ব্যাংকের বিভিন্ন ব্রাঞ্চের পাঠানো হয়। অতঃপর সেখান থেকে কেবলমাত্র একটি ঠিকানায় টাকাগুলো পুঞ্জিভূত হয় এবং সেটি হল উত্তর কোরিয়ার কোষাগার। সুতরাং নিঃসন্দেহে এর পেছনে উত্তর কোরিয়ার একনায়কতন্ত্র শাসক কিম জং উনের হস্তক্ষেপ ছিল, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি হ্যাকারদের থেকে উদ্ধার করা ডিভাইসগুলোতে কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করার নজির মেলে। এমন ঘটনা শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে নয়, গেল দশকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাতের নজির পাওয়া যায়। তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সে টাকাগুলো উদ্ধার করা ছিল রীতিমতো অসম্ভব। যার ফলে 2016-17 অর্থবছরে বেশ বড় আর্থিক মন্দা পড়তে হয় বাংলাদেশকে। সম্প্রতি সময়ে পুনরায় বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাক হবার একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এবং এর পেছনে উত্তর কোরিয়ার হস্তক্ষেপ থাকতে পারে বলে ধারণা বেশকিছু ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়ার। 

বাংলাদেশের সিনেমা দেখেন কিম জং উনঃ 

কিম জন উনের সাথে বাংলাদেশের যোগসূত্র কোথায়?

শুনে হয়তো কিছুটা অবাক হচ্ছেন! হ্যা! অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। যে যাই বলুক না কেন, কিম জং-উন কিন্তু খুব সৌখিন মানুষ। যিনি কিনা দিনের অর্ধেক সময় কাটান সিনেমা দেখে। তিনি এতটাই সৌখিন যে নিজ বাসস্থানে ১৮০০ বিশিষ্ট একটি সিনেমা প্রেক্ষগৃহ নির্মাণ করেছেন। এবং তার কালেকশন রয়েছে । ১০ হাজারেরও বেশি সিনেমা। এবং এই ১০ হাজার সিনেমা কিম জং উন নির্বাচন করেছেন আইএমডিবি এর রেংক লিস্ট এর উপর ভিত্তি করে। সুতরাং আদৌ যদি কিম জং উন আইএমডিবি রেংক লিস্ট এর ওপর ভিত্তি করে সিনেমা নির্বাচন করেন তাহলে নিঃসন্দেহে সেখানে ১০ টির অধিক সিনেমা জায়গা করে নেবে । যার ভেতরে উল্লেখযোগ্য মাটির ময়না, আয়নাবাজি, একুশে গান, জীবন থেকে নেওয়া , নয় নম্বর বিপদ সংকেত ইত্যাদি ! 


উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে এক কোটি ডলার টাকা পায় বাংলাদেশঃ 

 এটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? বাংলাদেশের মতো উদীয়মান একটি সাবলম্বী রাষ্ট্র কিনা প্রথম শ্রেণীর দেশ উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ১০০ কোটির ডলারের বেশি অর্থ পায়? তাও আবার পাওনা হিসেবে! মূল ঘটনাটি জানার জন্য আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে ১৯৯৪ সালে! ১৯৯৪ সালে দ্রব্য পণ্য রপ্তানি বাবদ উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের পাওনা ছিল আনুমানিক ১০০ কোটি ডলার ।মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে যেটির বর্তমান সময়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১২০ কোটি ডলার। সে সময় ও অর্থের বদলে ,পন্য এর বদলে পন্য রপ্তানি করার ব্যবস্থা চালু ছিল। এই যেমন বাংলাদেশ যদি উত্তর কোরিয়াকে পাট, পোশাক, চা, তামাক ইত্যাদি রপ্তানি করে তাহলে ফলস্বরূপ উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে বাংলাদেশের পাওনা হবে পনির, অ্যালকোহল সহ অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যাদি। পরবর্তীতে এই নীতি বাতিল করা হয়। যার ফলে একটি দেশ অপর একটি দেশের কাছে খাদ্য আমদানি রপ্তানি করার বদলে নগদ অর্থ পেতে শুরু করে। তবে হুট করে সরকার বদলের ক্ষনে কর্পুরের মতো উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে পাওনার হিসেব বাতাসে মিলিয়ে যায়। 

অবশ্য পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে বারবার উত্তর কোরিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক গুলোতে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যেখানে পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে বলা হয়। তবে এখন অব্দি কোন ধরনের প্রতুত্তর পায়নি বাংলাদেশ। কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার ফলে অর্থ ফিরিয়ে আনতে বেশ বেগ পেতে হবে বাংলাদেশকে । যদিও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের নজরদারী নেই। সুতরাং অর্থ একরকম আত্মসাৎ করে বসে আছে উত্তর কোরিয়া সে কথা বলাই চলে। এখন এ অর্থ ফেরত আনার একটাই পথ ! কিম জন উনের মতো জানোয়ার ন্যায় শাসকের মুখোমোখি হওয়া । তবে বিড়ালের গলায় ঘন্টা টা পড়াবে কেন ?

শেয়ার করুন

Author:

আমি একজন অতি সামান্য মানুষ। পেশায় একজন লেখক,ব্লগার এবং ইউটিউবার। লেখালেখি করতে খুব ভালো লাগে। আমার এই সামান্য প্রয়াসের মাধ্যমে মানুষের কিছু শেখাতে পারা ও বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পায়।

1 টি মন্তব্য:

  1. 1xbet 2bet 1xbet 3bet Bonus Code - €/£200 Bonus
    1xbet 2bet 벳 365 3bet 우리 카지노 Bonus Code. 1xbet app Get the best offers from one of the 카지노 사이트 leading online betting sites. Enjoy 코인카지노 쿠폰 great promotions and promotions with 1xbet.

    উত্তরমুছুন