সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

আজব খেলা থাপ্পড় কাবাডি।

 পৃথিবীতে নানান ধরনের খেলা রয়েছে, কিন্তু থাপ্পড় মারার খেলা যেন একটু অদ্ভুত ধরণের। যিনি চড় থাপ্পড় খেয়ে টিকে থাকতে পারবেন, তিনি পেয়ে যাবেন প্রচুর টাকা। আজ আজব খেলা থাপ্পড় কাবাডি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
আজব খেলা থাপ্পড় কাবাডি। ভিডিও টি দেখে নিতে পারেনঃ

পাকিস্তানের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা হল স্ল্যাপ বক্সিং বা স্ল্যাপিং গেম। মানে থাপ্পড় মারামারি খেলা। এটিকে আবার থাপ্পড় কাবাডিও বলা হয়ে থাকে। ২০১৯ সাল থেকে এই খেলাটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খেলার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তারপর থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনগণ এই খেলার ব্যাপারে জানতে পারে। পাকিস্তানের অনেকেই আছেন, যারা এই খেলায় পুরস্কার জেতার জন্য উদগ্রীব থাকেন।

দুজন প্রতিযোগী মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকবেন। থাপ্পড় খেতে হবে এবং থাপ্পড় দিতে হবে খালি হাতে। মাথায় থাকবে না কোন সুরক্ষা বা হেলমেট জাতীয় কিছু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই খেলায় প্রত্যেক প্রতিযোগী চোয়ালে এবং বুকে থাপ্পড় মারামারি করে।  জন্য পাঁচবার করে সুযোগ পান। দুই প্রতিযোগীর মধ্যে থাপ্পড় মারার প্রচেষ্টা শেষ হলে বিচারকরা ঠিক করেন কে ভালো ফল করেছেন। তারপর বিজয়ী চলে যান পরবর্তী রাউন্ডে। 
আজব খেলা থাপ্পড় কাবাডি।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়, থাপ্পড় মারার পর নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রতিযোগি আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের পায়ের উপরে ভরসা করতে হয়। থাপ্পড় খেয়ে পড়ে গেলেই অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
 
এছাড়াও যিনি থাপ্পড় মারবেন তাকে প্রতিপক্ষকে শুধুমাত্র হাতের তালুর উপরের অংশ দিয়েই মারতে হবে। একেবারেই কানে মারা চলবে না। তবে অনেক জায়গায় কানের নিচে অর্থাৎ গলার অংশে মারতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ প্রতিযোগী প্রথম থাপ্পড়েই ছিটকে যান।

এই খেলাটি বিনোদনের হলেও জীবনের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি প্রতি পদক্ষেপে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেকে আছেন থাপ্পড় খেয়ে পড়ে গিয়ে তৎক্ষণাৎ অজ্ঞান হয়ে যান। অনেকে আবার মঞ্চে দাঁড়িয়েই খুশি হয়ে ওঠেন যখন থাপ্পড় খেয়েও নিজেকে শক্ত ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখতে পারেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর পরিবারের সদস্যরাও পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান দেখতে ভয় পান।
সাধারণত ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই প্রথমেই প্রতিযোগীদের নিয়ম-কানুন ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কারণ প্রতিপক্ষ ইচ্ছা করে ভুল জায়গায় থাপ্পড় মারলে মানুষ মারাও যেতে পারে। তাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককেই সই করতে হয় একটি চুক্তি পত্রে।

খেলার মঞ্চের আশেপাশেই ব্যবস্থা করা থাকে চিকিৎসক থেকে শুরু করে নানান ব্যান্ডেজ, তুলার প্যাড, অ্যান্টিসেপটিক, যা যা প্রয়োজন লাগে একজন জখম ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য। অনেকে খেলায় নামার আগে নিজেদের হাতের আঙুল কনুই এবং গাল ভালো ভাবে গরম করে নেন।

এই থাপ্পড় মারার খেলা শুধুমাত্র পুরুষরা ছাড়াও নারীরাও অংশগ্রহণ করেন। এখানে মূলত হাতের তালুর জোরটাই আসল। তবে এখানে খেলায় অংশগ্রহণ করেন সবাই মজা করে। কারোর উপর রাগ মেটানোর জন্য নয়।

এই খেলায় জিতলে প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করা যায়। 

শেয়ার করুন

Author:

আমি একজন অতি সামান্য মানুষ। পেশায় একজন লেখক,ব্লগার এবং ইউটিউবার। লেখালেখি করতে খুব ভালো লাগে। আমার এই সামান্য প্রয়াসের মাধ্যমে মানুষের কিছু শেখাতে পারা ও বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পায়।

0 coment rios: