Sunday, September 1, 2019

গুগল এডসেন্সঃ গুগল এডসেন্স থেকে কিভাবে আয় করবেন সকল খুঁটিনাটি আলোচনা।

গুগল এডসেন্সঃ গুগল এডসেন্স থেকে কিভাবে আয় করবেন সকল খুঁটিনাটি আলোচনা। 

গুগল এডসেন্সঃ গুগল এডসেন্স থেকে কিভাবে আয় করবেন সকল খুঁটিনাটি আলোচনা,গুগল এডসেন্স কি?গুগল কেন আমাদেরকে টাকা দেয়?কিভাবে গুগল এডসেন্সের টাকা হাতে পাবো?কিভাবে এডসেন্সের পেমেন্ট পাবো,গুগল এডসেন্স ইউটিউব,ওয়েবসাইট বা ব্লগারদেরকে দুই ভাবে টাকা দেয়,গুগল এডসেন্স কিসে কিসে অর্থ প্রদান করে, গুগল এডসেন্স এর প্রকারভেদ,গুগল হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট,গুগল নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট, এডসেন্স অ্যাকাউন্ট আপগ্রেড,গুগল এডসেন্স পলিসি, গুগল এডসেন্সের নীতিমালা,গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করার উপায়,গুগল এডসেন্স ব্যান থেকে বাঁচার উপায়,গুগল এডসেন্স ইউটিউব,গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়,গুগল এডসেন্স এর নিয়ম, কিভাবে গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলব,গুগল এডসেন্স এর কাজ কি,গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়,গুগল এডসেন্স টিউটোরিয়াল,গুগল এডসেন্স শর্ত।

গুগল এডসেন্সঃ আপনি যদি সারাজীবনের জন্য আয় করতে চান এবং জীবনে সাফল্য পেতে চান । তাহলে গুগল এডসেন্স একটি নির্ভরযোগ্য উপায় যার মাধ্যমে আজীবন আয় করতে পারবেন। এমনকি আপনি মারা গেলেও গুগল এডসেন্স থেকে আপনার স্ত্রী সন্তান ও অর্থ পেতে পারে। কাজেই আজকের এই আলোচনায় গুগল এডসেন্সের খুঁটিনাটি,নাড়িভুঁড়ি ও আদ্যোপান্ত সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। কাজেই আপনারা কেউ ধৈর্য হারা হবেন না একটু মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আমি যদি কষ্ট করে এত লিখতে পারি তাহলে আপনারা পড়তে পারবেন না কেন? এতটুকু ধৈর্য না থাকলে কেউ সফল হতে পারে না। গুগল এডসেন্স নিয়ে সমস্ত আর্টিকেলটি যদি আপনারা একবার মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন তাহলে গুগল এডসেন্স সম্পর্কে আর কিছুই অজানা থাকবে না। তাই বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ছোটাছুটি না করে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি এই একটিমাত্র আর্টিকেলের মাধ্যমে সমস্ত বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আর কোথাও আপনাকে যেতে হবে না। এবং আপনিও খুব সহজেই গুগল এডসেন্স থেকে খুব ভালমানের অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স কি?

গুগল এডসেন্স হলো গুগল এর মালিকানাধীন বিশ্বের সবচেয়ে বহুল জনপ্রিয় একটি এডভারটাইজিং প্রক্রিয়া।যার মাধ্যমে একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটে অথবা ইউটিউবে গুগলের বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা উপার্জন করা যায়। চাইলে আপনিও খুব সহজে আপনার ইউটিউব বা ব্লগ সাইটে এভাবে গুগলের বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা উপার্জন করতে পারেন।

বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা ও পণ্যের প্রচার এবং বিক্রয়ের জন্য  গুগল এডসেন্সের  নিকট চুক্তিবদ্ধ করে। যে কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি তাদের পণ্য বা সেবা বিক্রয় ও প্রচারের জন্য গুগল এডসেন্সকে অর্থ প্রদান করে থাকে। আর গুগল এডসেন্স সেই পণ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইউটিউবের মাধ্যমে প্রচার করে থাকে, এই প্রচার বাবদ গুগল এডসেন্স কর্তৃপক্ষ সেই অর্থের একটি অংশ  সেই ইউটিউব ও ওয়েবসাইটের মালিক কে প্রদান করেন। গুগল এডসেন্স বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ভিডিও, মোবাইল অ্যাপ এবং ইউটিউব এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। মূলত তার মাধ্যমেই যাদের ইউটিউব বা ব্লগ ওয়েবসাইট আছে তারা গুগল এডসেন্স থেকে আয় করতে পারে।

একবার যদি গুগল এডসেন্স এপ্রুভ হয় তার মানে লাইফটাইম উপার্জন শুরু হওয়া । যতদিন গুগল থাকবে ততদিন আপনার ইনকাম হতে থাকবে। অনেকেই গুগল এডসেন্সকে সোনার হরিণ বলে মনে করেন। কারণ সবাই মনে করে এটা পাওয়া খুবই কঠিন। আসলে এমন টা নয়, গুগল এডসেন্স এর সকল নিয়ম সঠিকভাবে মেনে আবেদন করলে অবশ্যই এপ্রুভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কাজেই কিভাবে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করবেন তার বিস্তারিত আলোচনা নিচে করা হবে।


গুগল কেন আমাদেরকে টাকা দেয়? 

আমাদের মনে একটা প্রশ্ন আসতেই পারে সেটি হল গুগল কেন আমাদেরকে টাকা দেই? গুগলের আরেকটা সেবা আছে, যার নাম গুগল এডওয়ার্ড। গুগল এডওয়ার্ড এর মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের ওয়েবসাইট বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারনার চুক্তিতে টাকা নেয়। তারপর গুগল এডসেন্স সেবার মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন ওয়েবসাইট , ব্লগে ও ইউটিউবে টাকা প্রদানকৃত সেই ওয়েবসাইট বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করায়। এখন গুগল যত টাকা আয় করে তার থেকে ওয়েবসাইট, ব্লগ ও ইউটিউব মালিকদেরকে ৬৮% পরিমান অর্থ প্রদান করে এবং বাকি ৩২% অর্থ সেবা পরিচালনা ব্যয় হিসেবে গুগল রেখে দেয়।

কিভাবে গুগল এডসেন্সের টাকা হাতে পাবো? 

এখন সবার মাথায় একটা কথায় ঘুরপাক খাচ্ছে সেটি হলো গুগল এডসেন্সের টাকা হাতে পাবো কিভাবে? এই চিন্তাটা হওয়াটাই স্বাভাবিক কেননা এত পরিশ্রম করে যদি টাকা হাতেই না পায় তাহলে সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে।যখন আপনার ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউব থেকে গুগল এডসেন্সের মধ্যে ১০ ডলার জমা হবে। তখন অটোমেটিক আপনার ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউবের ইমেইলের ঠিকানা অনুযায়ী গুগল এডসেন্স থেকে ৪ ডিজিটের একটি পিন কোড পোস্ট অফিসে প্রেরণ করবে।  সেই পিন কোডটি নিয়ে আপনার গুগল এডসেন্স ভেরিফাইড করতে হবে।তারপর থেকে আর কোন চিন্তা নেই। আপনারা বুঝতে না পারলে ইউটিউবে সার্চ করে ভিডিও দেখে নিবেন। আপনারা ইউটিউবে এই লিখে সার্চ করবেন কিভাবে গুগল এডসেন্স একাউন্ট পিন ভেরিফিকেশন করব।

গুগল এডসেন্স ইউটিউব,ওয়েবসাইট বা ব্লগারদেরকে দুই ভাবে টাকা দেয়। ১. ব্যাংক ট্রান্সফার এবং ২. ব্যাঙ্ক চেক এর মাধ্যমে। আমাদের দেশে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা নেওয়া সবচেয়ে বেশি সুবিধা। আর ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা আসতে দেরি হয়। তাই আপনারা গুগল এডসেন্সের মধ্যে লোকাল ব্যাংক এড করে নিবেন। আমার মতে ইসলামি ব্যাংক অথবা ডাজ বাংলা ব্যাংক সবচেয়ে উত্তম। আপনারা চাইলে অন্যকোন ব্যাংক এড করে নিতে পারেন। আপনারা কিভাবে লোকাল ব্যাংক এড করবেন তা ইউটিউবে ভিডিও সার্চ করলে হাজার হাজার ভিডিও পেয়ে যাবেন। আপনার একাউন্টে $100 বা তার বেশি জমা হলে প্রত্যেক মাসের ২৩-২৫ তারিখের মধ্যে আপনার লোকাল ব্যাংককে টাকা প্রেরণ করা হবে। তখন ইচ্ছা করলেই আপনারা ব্যাংককে গিয়ে টাকা তুলে নিয়ে আসতে পারেন।


গুগল এডসেন্স কিসে কিসে অর্থ প্রদান করেঃ 

আপনারা ইতোমধ্যে জেনে গেছেন গুগল এডসেন্স কিসের উপর অর্থ প্রদান করে। বলেন তো আপনারা  মনে মনে সেগুলো কি কি? সেগুলো হলো যথাঃ

  1. ব্লগ বা ওয়েবসাইটের উপর বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ফলে।
  2. এবং ইউটিউবের উপর বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ফলে। 

ব্লগ এবং ইউটিউব থেকে কিভাবে আয় করবেন তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে আলোচনা করা হবে। তাই কেউ পোস্টটি না পড়ে যাবেন না।



গুগল এডসেন্স কত প্র্রকার ও কি কি খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনাঃ  

গুগল এডসেন্স আসলে কত প্রকার কি কি? এবং কিভাবে কাজ করে?  সাধারনত গুগল এডসেন্স দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে যথাঃ

  1. গুগল হোস্টেড এডসেন্স 
  2. এবং নন হোস্টেড এডসেন্স 

এখানে গুগল হোস্টেড এডসেন্স এবং নন হোস্টেড এডসেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

গুগল হোস্টেড এডসেন্স একাউন্টঃ 

হোস্টেড এডসেন্স হলো গুগলের এডসেন্স একাউন্টের একটি অন্যতম প্লাটফর্ম যেখানে ইউটিউব ও ব্লগের কন্টেন্ট বা আর্টিকেল সংরক্ষণ করা হয়।  এটি সাধারনত যারা গুগলের  হোস্ট করা জায়গায ব্যবহার করে থাকে তাদের জন্য। এখন কথা হচ্ছে গুগলের হোস্ট টা কি? “ ব্লগস্পট” এবং  ”ইউটিউব” হলো গুগলের পাটনার আপনি ইউটিউবে লক্ষাধিক ভিডিও যদি আপলোড করেন সেখানে ভিডিওগুলো রাখতে পারেন তার জন্য আলাদা করে আপনাকে কোন হোস্টিং কিনতে হয় না। যত হোস্টিং প্রয়োজন হবে সম্পূর্ণ গুগোল সংরক্ষণ করে থাকবে । আর ইউটিউব ব্যবহার করে যে অ্যাডসেন্স আপনি ব্যবহার করবেন সেটা হলো হোস্টেড একাউন্ট। অন্যদিকে যারা গুগলের ব্লগার প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ব্লগিং করেন সেখানে আপনাদেরকে কোন টাকা দিতে হয় না। আপনার সকল পোস্ট ফটো এমনকি ভিডিও সবকিছুর জন্য যে জায়গা প্রয়োজন হয় অর্থাৎ যে হোস্টিং প্রয়োজন হয় সেটা সম্পূর্ণ গুগল ফ্রিতে প্রোভাইড করে থাকে। এবং সেই  ক্ষেত্রে আপনাকে উপার্জন করার জন্য গুগল এডসেন্স এর  যে অ্যাকাউন্ট দিয়ে থাকে সেটা হলো হোস্টেড অ্যাকাউন্ট । আশাকরি হোস্টেড অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এখন হোস্টের অ্যাকাউন্টের পাওয়ার সম্পর্কে আপনাদের সাথে কিছু আলোচনা করব।

হোস্টের অ্যাকাউন্ট কোথায় কোথায় ব্যবহার করতে পারব?

যেহেতু হোস্টেড একাউন্টে গুগলে  হোস্ট করা জায়গার উপর বেসিস করে গুগোল প্রোভাইড করে থাকে, তাই গুগল এটা যে প্ল্যাটফর্মের ওপর আপনাকে দিয়েছে কেবলমাত্র সেখানেই ব্যবহার করতে পারবেন। যদি আপনাকে ইউটিউবের ওপর এডসেন্স একাউন্ট দিয়ে থাকে তাহলে সেই একাউন্টে শুধুমাত্র ইউটিউবে ব্যবহার করতে পারবেন। আর যদি ব্লগারের কোন ব্লগ পোস্টের  জন্য দিয়ে থাকে তখন সেই এডসেন্স টি শুধুমাত্র সেই ব্লগেই ব্যবহার করতে পারবেন। ইউটিউব এবং ব্লগার থেকে যে এডসেন্স একাউন্ট আপনাকে দেওয়া হয়েছে সেটা সেই প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার করতে পারবেন না। এখন কথা হল আমার কয়েকটা ওয়েব সাইট রয়েছে, আমি একই একাউন্ট কিভাবে প্রত্যেকটা ওয়েবসাইটের  সাথে একই এডসেন্সে ব্যবহার করতে পারব? পারবেন সেটার জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টটি আপগ্রেড করে নিতে হবে। কিভাবে আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্টে আপগ্রেড করবেন সেটা একটু নিচেই আলোচনা করব। তার আগেই জেনে নেওয়া যাক গুগল নন হোস্টেড একাউন্ট কি?

গুগল নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্টঃ

নন হোস্টেড এডসেন্স হলো যে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে আপনার নিজস্ব হোস্টিং এর ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ আপনি যদি ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন আর হোস্টিং কিনে গুগল এডসেন্সের কাছে আবেদন করেন তখন যদি গুগল যাচাই বাচাই করে এপ্রুভ করে সেটি হল  নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট।একটি  নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্টে ৫০০ টি ওয়েবসাইট কানেক্ট করা যায়। এবং সবগুলো ওয়েবসাইটের টাকা একটি মাত্র  নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্টের মধ্যে জমা হবে। আপনারা বিভিন্ন অনলাইন ওয়েবসাইট থেকে ডোমেইন হোস্টিং কিনতে পারবেন। কিভাবে ডোমেইন ও  হোস্টিং কিনতে হয় ইউটিউবে ভিডিও সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন।

নন হোস্টেড একাউন্ট কোথায় কোথায় ব্যবহার করতে পারব?

আপনার যদি একটি গুগল নন হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট থাকে সে অ্যাডসেন্স দিয়ে আপনি ব্লগারের যেকোনো সাবডোমেইনে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনার যদি আরো অনেকগুলো ওয়েবসাইট থেকে সেখানে এড কোড ব্যবহার করে এই এডসেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি এই এডসেন্স একাউন্ট ইউটিউবে ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার সেলফ হোস্টেড ওয়েবসাইট ব্লগস্পট এমনকি ইউটিউব এর সকল আর্নিং একই জায়গায় একসাথে যোগ হবে। এমনকি সকল আর্নিং একসাথে আপনাকে পেমেন্ট করবে।  এখন কথা হল কিভাবে একটি পোষ্টের একাউন্ট ক্যানন হোস্টের একাউন্টে আপগ্রেড করবেন। পূর্বেই বলেছিলাম কিভাবে এডসেন্স একাউন্ট আপগ্রেড করবেন। এখন সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।



এডসেন্স অ্যাকাউন্ট আপগ্রেডঃ 

মনে করুন আপনার একটি ইউটিউবের এডসেন্স রয়েছে এটা হল হোস্টেড একাউন্ট। এ একাউন্ট দিয়ে আপনি আপনার ওয়েব সাইট থেকে ইনকাম করতে পারবেন না অথবা মনে করুন আপনার  ব্লগস্পটের সাবডোমেইনে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে এবং সেখানেও গুগল এডসেন্স রয়েছে সেটাও হোস্টের একাউন্ট। হোস্টেড অ্যাকাউন্ট  যে প্লাটফর্মে আপনাকে দিয়েছে শুধু মাত্র সেখানেই ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু কথা হল আপনার আরো অনেকগুলো ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানে কিভাবে সেই এডসেন্সকে ব্যবহার করবেন এবং একই এডসেন্সে কিভাবে কানেক্ট করবেন। খুবই সহজ ব্যাপার।

আপনার জন্য সেলফ হোস্টেড  ওয়েবসাইট রয়েছে সেই ওয়েবসাইট দিয়ে আপনি হোস্টেড একাউন্টকে নন হোস্টেড একাউন্ট এর জন্য আবেদন করবেন। তখন গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে রিভিউ করে যদি এডসেন্স এর টার্ম এবং কন্ডিশন ঠিক থাকে তাহলে এডসেন্সে অনুমোদন  দিবে। তখন আপনার গুগল এডসেন্স টি হোস্টেল থেকে নন হোস্টেড একাউন্টে রূপান্তর হয়ে যাবে।


কিভাবে ব্লগারে কাস্টম ডোমেইন দিয়ে নন হোস্টেড একাউন্ট করবেনঃ 

অনেকেই এ ব্যাপারটি নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকে সেটা হল। আমি ব্লগারের হোস্টিং ব্যবহার করি কিন্তু আমার ডোমেইনটি (ডট কম, ডট নেট, বাজে কোন এক্সটেনশন লাগানো) কাস্টম ডোমেইন তখন সেই ক্ষেত্রে আমার গুগল এডসেন্স টি হোস্টেল হবে নাকি নন হোস্টেড হবে? এটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মাঝে মাঝে রয়েছে । এটা অবশ্যই গুগল নন হোস্টেড একাউন্ট কেননা যখনই গুগলের হোস্টিং ব্যবহার করে আপনি আপনার কাস্টম ডোমেইন দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন, তখন ডোমেইন এর উপর ডিপেন্ড করে ওয়েবসাইট নির্মিত আর ডোমেইনটা আপনার  নামে রেজিস্টার করা। তাই এটি আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট আর এই ওয়েবসাইটের ওপর যখন গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল দেবে সেটা অবশ্যই নন হোস্টেড একাউন্ট হবে।



কিভাবে ব্লগ থেকে আয় করবেন খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনাঃ 

  কিভাবে ব্লগ থেকে আয় করবেন খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা,ব্লগে গুগল এডসেন্স, ব্লগ বা ওয়েবসাইট কি?কিভাবে ব্লগ থেকে আয় করবেন, ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কি কি ধরনের কন্টেন্ট লিখবেন,ব্লগে এডসেন্স এপ্রুভ করার সহজ উপায়,গুগল এডসেন্স একাউন্ট এপ্রুভ হওয়ার প্রধান শর্ত সমুহ,ব্লগের পোস্ট কমপক্ষে কতো শব্দের হতে হবে? কন্টেন্টের মান কেমন হতে হবে? ব্লগে Privacy policy, Contact information,টপ লেভেল ডোমেইন কেন প্রয়োজন?কিভাবে ব্লগে কাস্টমাইজ করব,সাইটে কতগুলো কন্টেন্ট থাকতে হবে? ব্লগ সাইট,কিভাবে ব্লগ তৈরি করব, সকল বাংলা ব্লগ,বাংলা ব্লগ সাইট,ব্লগ থেকে আয় করার সহজ উপায়,ব্লগ তৈরি করার নিয়ম,ব্লগিং করে আয়,লেখলেখি করে আয় করার উপায়।

লেখালেখি করে আয় করার একটা  চমৎকার সহজ মাধ্যম হচ্ছে গুগল এডসেন্স। যারা এর আগে বাংলায় লেখালেখি করতেন তাদের ইনকাম করার উপায় ছিল না। কারণ বাংলা আর্টিকেল গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করত না। কিন্তু বর্তমানে বাংলা কন্টেন্ট গুগলে বৈধ করা হয়েছে। এখন অনায়াসে বাংলা কন্টেন্ট লিখে গুগল এডসেন্স পেতে পারেন। এখন থেকে গুগল এডসেন্সে অফিশিয়াল ভাবে বাংলা সাপোর্ট করবে। এখন যে কেউ বাংলা কন্টেন্টে এডসেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। যেহেতু আমরা বাঙালি সেহেতু বাংলা কন্টেন্ট লিখতে সহজ হয়। তাছাড়াও অনেকেই আছে ইংরেজিতে খুবই দুর্বল। আমি কিন্তু মোটেই দুর্বল না আমার আরেকটি জনপ্রিয় ইংলিশ ওয়েবসাইট আছে।

যদিও ইংরেজী কন্টেন্টে আগে থেকে বাংলাদেশ থেকে এডসেন্স সাপোর্ট ছিল। বাংলাদেশে অনেকেই অনেক ভালোমানের আয় করত এবং এখনো করছে। ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে অনেক ভালো আয় করা যায়। এছাড়া এডসেন্স ছাড়াও আরো অনেক ভাবে ব্লগ বা ওয়েব সাইট থেকে আয় করা যায়, যেমন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা নিজের প্রডাক্ট প্রমোট করেও সেই মানের উপার্জন করা যায়। শুধুমাত্র মাথায় একটু পুষ্টি থাকতে হবে।

আমরা অনেকেই ফেসবুকে অনেক স্ট্যাটাস লিখে অযথা সময় নষ্ট করে থাকি। স্ট্যাটাস আকারে না লিখে  আপনি যদি নিয়মিত ব্লগ একাউন্ট খুলে লেখা শুরু করেন তাহলে এখন থেকে নিজের লেখা গুলো থেকেই আয় করার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে। যেহেতু বাংলায় এডসেন্স সাপোর্ট রয়েছে, ইংরেজী দক্ষতা ছাড়াও সুন্দর কন্টেন্ট লিখে ভালমানের ইনকাম করতে পারবেন। এই ধরুন আমি বাংলা কন্টেন্ট লিখে ইনকাম করতেছি।

ব্লগ সম্পর্কে আরও দুটি আর্টিকেলের লিংক নিচে দেওয়া হলো অবশ্যই পড়ে নিবেন। 

  1. কিভাবে ব্লগ বা ওয়েবসাইটে সময়,তারিখ ও শিরোনাম বা ব্রেকিং নিউজ সেটিং করবেন।
  2. কিভাবে ব্লগার সাইটে মেটা ট্যাগ ও মেটা বিবরণ বসাবেন।

ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কি কি ধরনের কন্টেন্ট লিখবেনঃ

ব্লগ লেখার জন্য আপনাকে খুব একটা এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ হতে হবে এমনটা কিন্তু নয়। আপনি পড়ালেখা করেন যে বিষয়ে, ঐ বিষয় নিজে জানার পাশাপাশি লিখে রাখতে পারেন যেন নতুনরা উপকৃত হয়। লিখতে পারেন আপনার
পছন্দের বিষয়ে, যেমন ক্রিকেট, ফুটবল বা যে কোন খেলাধুলা,রান্নাবান্না,গল্প,কৌতুক,ছড়া,গান,কবিতা,উপন্যাস,নাটক,
বই নিয়ে রিভিউ, কোন গ্যাজেট নিয়ে রিভিউ, খাবার দাবার, লাইফস্টাইল সহ আরো কত কিছু পৃথিবীতে নানান বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন।

মনে রাখতে হবে যেন অন্যের কন্টেন্ট নিজের ব্লগে সরাসরি কপি পেস্ট না করা হয়। যে কোন কিছু নিজের মত করে লিখতে হবে কোনপ্রকার অন্যের আর্টিকেল চুরি করা যাবে না। আর যদি অন্যের কন্টেন্ট চুরি করে কপি পেস্ট করা হয়, গুগল পেনাল্টি হিসেবে এডসেন্স একাউন্ট ব্যান করে দিতে পারে। একই কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু হোক সেটা সমস্যা না কিন্তু আপনার নিজের মত করে লিখতে চেষ্টা করবেন।

লেখালেখি প্রকাশ করার জন্য একটা ওয়েব সাইট লাগে। তার জন্য প্রতিবছর টাকা গুনতে হয় যেমন ডোমেইন হোস্টিং কিনতে হয়। যারা ফ্রিতে শুরু করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ হতে পারে blogspot.com এ একটা ব্লগ খুলে লেখালেখি শুরু করে দেন। এখানে ফ্রিতে একটা সাবডোমেইন পাওয়া যাবে। এছাড়া লেখালেখি করার জন্য প্রয়োজনীয় টুলস যুক্ত রয়েছে। এছাড়া এখানে এডসেন্স এপ্রুভ করিয়ে এডও দেখানো যাবে। এটা দিয়ে শুরু করলে অনলাইনে কিভাবে নিজের লেখা প্রকাশ করা যায়, কিভাবে ব্লগ বা ওয়েব সাইট গুলো কাজ করে, এসব সম্পর্কে আইডিয়া হয়ে যাবে। এরপর ভালো আইডিয়া হলে নিজস্ব ওয়েব সাইট খুলতে পারবেন। কারণ ভালো রেভিনিউর এর জন্য দরকার নিজস্ব ওয়েবসাইট। তখন না হয় ডোমেইন হোস্টিং  কিনে এড করে দিবেন। এই যে ধরুন আমার এই ওয়েবসাইট প্রথমে ব্লগে খোলা ছিল কিন্তু পরে আমি ডোমেইন কিনে নিয়েছি।

লেখালেখি যাদের ভালো লাগে, তাদের জন্য এটা দারুণ একটা দারুণ সুযোগ। যারা পড়ালেখা করে, এ সুযোগকে কাজে লাগালে নিজের পকেট খরচ নিজেই উঠাতে পারবেন। এছাড়া ভালো লিখতে পারলে এখানেই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। একজন ভালো লেখক প্রতি ঘন্টায় ১০০ ডলার বা তারো বেশি উপার্জন করতে পারবেন।
ব্লগিং এত সুবিধা দেখে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যে ব্লগিংকে পেশা হিসেবে নিতে চায় । আর তার জন্য অনেকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি ও করে ফেলে এবং সেখানে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ ও করতে থাকে।



ব্লগে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ হলেই কি টাকা আসা শুরু হবে?

ব্লগে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ হলেই  টাকা আসা শুরু হবে এটা আরেকটা ভুল ধারণা। অনেকেই মনে করেন ব্লগে এড বসালেই টাকা আসা শুরু বাস্তবে তেমনটা নয়। আপনি ভেবে দেখুন গুগল কেন আপনাকে টাকা দিবে?বিনা কারণে গুগল কখনই আপনাকে টাকা দিবে না। যখন মানুষ আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে এবং এডসেন্স এর এড এ ক্লিক করবে তখন আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। এইজন্য এডসেন্স থেকে টাকা আয় করতে হলে আপনার প্রয়োজন হবে প্রচুর ট্রাফিক বা ভিজিটর। যখন আপানার ব্লগ পোস্ট পড়ে মানুষের উপকার আসবে অথবা সে আনন্দ পাবে তখন আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে অনেকক্ষণ থাকবে। এর ফলে সে কোন না কোন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে। তাছাড়াও ওয়েবসাইটে ভিজিটর অনেকক্ষণ থাকলে এড ইম্প্রেশন বাড়ে যার ফলেও উপার্জন হয়। তাহলে এখন বলুন গুগলের এড ব্লগে বসালেই কি টাকা আসা শুরু হবে?

কিভাবে বুঝবো আমার সাইট এডসেন্স উপযোগী কিনা? 

কিভাবে বুঝব আমার সাইট এডসেন্স উপযোগী কিনা? এইটার জন্য আমি আপনাকে একটা সহজ সল্যুশন দিচ্ছি।  নিজের ব্লগটিকে আপনি মালিক না ভেবে বরং নিজেকে ভিজিটর হিসেবে দেখুন। আমি নিশ্চিত আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। তারপরেও যদি বুঝতে না পারেন যে, আমার সাইটে কোন সমস্যা আছে কিনা। তাহলে সোজা গিয়ে এডসেন্স এ এপ্লাই করুন। আপনার সাইট ভালো হলে গুগল আপনাকে এডসেন্স দিয়ে দিবে অথবা কি সমস্যা আছে সেটা তারা আপনার ই-মেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়ে দেবে।  আপনি সেই সমস্যা গুলো সমাধান করে আবার পুনরায় এপ্লাই করবেন। আপনি একবার নয় হাজার বার এপ্লাই করতে পারবেন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এডসেন্স এপ্রুভ করাতে না পাচ্ছেন। তাতে আপনার ব্লগের কোন ক্ষতি হবে না। যেমন আমি ১৪ বারের মাথাই এপ্রুভ করাতে পেরেছিলাম। তার মানে ১৩ বার আমার এডসেন্স এপ্রুভ করে নাই গুগল এডসেন্স টিম। আমি ১৪ বারে গিয়ে সফল হয়। আপনিও ইনশাল্লাহ সফল হবেন।



গুগল এডসেন্স একাউন্ট এপ্রুভ হওয়ার প্রধান শর্ত সমুহঃ

গুগল এডসেন্স এপরুভ না হওয়ার কিছু বেসিক কারণ থাকে।তাই আপনারা যারা নতুন আছেন তারা যেন প্রথমবার এপ্লাই করেই গুগল এডসেন্স এপরুপ করাতে পারেন সেই সর্ম্পকেই আমরার আজকের এই পোষ্ট।গুগল এডসেন্স এপরুপ করানোর জন্য যা যা থাকতে হবে আপনার ব্লগে বা ওয়েবসাইটে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ

  • অবশ্যই আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ৩০-৪০ ভালোমানের আর্টিকেল থাকতে হবে। 
  • অন্য কোন কোম্পানির এড ব্লগে সেটিং না করলেই ভালো হয় বরং করবেন না। 
  • পপ-আপ উইন্ডো যেমনঃ ফেসবুক লাইক বক্স থাকা যাবে না।
  •  অন্যের আর্টিকেল চুরি করে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন না। 
  • গুগল এডসেন্সের কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে এমন কিছু পোস্ট করা যাবে না। 
  • এডাল্ট, হ্যাকিং,অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোন জাতি বা গোষ্ঠীকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করা হয়েছে এমন কোন কন্টেন্ট থাকা যাবে না। 
  • সেক্সুয়াল বা দুঃখজনক ঘটনা পরিহার করুন এমন কোন কন্টেন্ট লিখবেন না যার ফলে মানুষ খারাপের দিকে প্রভাবিত হয়। 
  • টপ লেভেল ডোমেইন হতে হবে। অর্থাৎ সাব-ডোমেইন হলে একাউন্ট এপ্রুভ হবে না। (তবে ব্লগস্পট এর বিষয়টা আলাদা)
  • পোষ্টগুলোর সাইজ কমপক্ষে ৫০০ ওয়ার্ডের বেশি হলে ভাল হয়। তবে ১০০০ এর বেশি করতে পারলে আরো ভালো।সবসময় চেষ্টা করবেন অনেক বড় আর্টিকেল পোস্ট করতে।
  • আপনার সাইটের ডোমেন এর বয়স এক মাসের বেশি হতে হবে।
  • কমপক্ষে ৬টি পেজ থাকতে হবে। (তা হলো: About Us,Contact Us,Privacy Policy,sitemap,Disclaimer,Terms & Conditions) এই পেজগুলো ছাড়া আপনার ব্লগে এডসেন্স এপরুপ না করার সম্ভাবনা বেশি। 
  • একটি ভালো ও সুন্দর প্রিমিয়ার থিম হলে ভালো হয় । ফ্রি থিম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ভালো মানের আর্টিকেল পাবলিশ করে  গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করবেন ।
  • একটি মাস্টার ডোমেইন (যেমন: .com, .net, .in, .bd, .info, .org )কিনলে সবচেয়ে ভালো হয়।
  • কখনেই অন্যের ইমেজ কপি করবেন না। তবে হ্যা ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে অনেক সুন্দর সুন্দর ইমেজ ফ্রিতে পাওয়া যায় সেগুলো ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারেন অথবা ফটোশপ দিয়ে ভালো করে এডিটিং করে নিবেন। 
  • উল্টা পাল্টা অশালীন  অথবা সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এমন কন্টেন্ট আপনার ব্লগে পাবলিশ করবেন না।

ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য গুগল এডসেন্স সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রশ্নঃ  

এই পর্বে আমি আলোচনা করব গুগলের কাছে ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য গুগল এডসেন্স সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ১০ টি কমন প্রশ্ন। যেগুলো প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ হরহামেশায় জানতে চায়। তো চলুন সেই ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্পর্কে আলোচনা করি। 

প্রশ্ন : ব্লগের পোস্ট কমপক্ষে কতো শব্দের হতে হবে?
উত্তর : কেউ  কেউ বলে ৫০০ আবার কেউ বলে ১০০০ শব্দের হতে হবে আসলে তেমন কোন কথা নয়!  আমার অনেক পোস্ট আছে ২০০-২৫০ শব্দের মধ্যে তারপরও আমি এডসেন্স এপ্রুভ করাতে পেরেছি। আসল কথা হলো কন্টেন্টের মান ভাল থাকতে হবে যেগুলো পড়ে মানুষের উপকারে আসে। আবোল তাবোল লিখে ২০০০-৪০০০ শব্দের কন্টেন্ট লিখে কাজ নেই। বরং মানুষে সেগুলো পড়ে বিরক্ত হবে।

প্রশ্ন : কন্টেন্টের মান কেমন হতে হবে?অন্যের কন্টেন্ট নেওয়া যাবে কিনা? 
উত্তর : কপি পেস্ট যে করা যাবেনা সেটা গুগল তার শর্তাবলিতে বলে দিয়েছে! আমিও কোন রকম কপি পেস্ট করি না এই যে এত বড় পোস্ট লিখেছি কিন্তু কারো কাছ থেকে কপি পেস্ট করিনি। যা লেখা হয়েছে সব নিজ থেকেই লেখা। শুধুমাত্র কিছু আইডিয়া নেওয়া হয়েছে। তবে তারমানে এই নয় যে নেট থেকে কোনো তথ্য নেয়া যাবেনা। প্রয়োজনীয় তথ্য নেট থেকে সংগ্রহ করে নিজের ভাষায় লেখা যাবে। যাতে করে অন্যের সাথে মিলে না যায়।

প্রশ্ন : শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই লিখতে হবে?নাকি একাধিক বিষয় নিয়েও ব্লগে লেখা যাবে?
উত্তর : আমার ব্লগে দেখতেই পাচ্ছেন একাধিক বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে। অবশ্যই একাধিক বিষয় নিয়ে আপনি লেখালেখি করতে পারবেন। তবে কিছু বিষয় আছে সেগুলো লেখা যাবে না যা আমি পূর্বেই বলে দিয়েছি।

প্রশ্ন : কি ধরণের টেমপ্লেট ব্যবহার করলে ভালো হয়?
উত্তর : আপনি শুরুতেই ব্লগের ফ্রী টেমপ্লেট ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু ভালমানের রেসপন্সিভ টেমপ্লেট  হলে ব্লগ বা ওয়েবসাইটি দেখতে সুন্দর হয়। যার ফলে ব্লগে ভিজিটর বেশি আসে।

প্রশ্ন : ব্লগে Privacy policy, Contact information ইত্যাদি দেয়া কি জরুরি?
উত্তর :এগুলো স্পষ্টভাবেই ব্যবহার করা অত্যান্ত জরুরী।আমি পূর্বেই বলেছি ৬ টি পেজ আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে রাখতে হবে তাহলে গুগলে এডসেন্স এপ্রুভ হতে আপনাকে সাহায্য করবে।

প্রশ্নঃ টপ লেভেল ডোমেইন কেন প্রয়োজন? 
সাব ডোমেইন বা ফ্রী ডোমেই (যেমন: .tk .ga ইত্যাদি) দিয়ে আপনি কখনোই এডসেন্স পাবেন না।অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে ভালো মানের ডোমেইন সিলেক্ট করতে হবে। যেমন .com .net .org হলে ভালো হয়। অবশ্য আগে গুগোল Blogger এর সাব ডোমেইন হলেই অ্যাডসেন্স দিয়ে দিত। কিন্তু বর্তমানে অনলাইনে অনেকেই কাজ করছে। বর্তমানে অনেকেই কাজের জন্য উৎসাহ হচ্ছেন। কাজেই গুগল  তাই যেকোনো ধরনের সাইট হোক না কেন সবার আগে ভালো ডোমেইন কেই এপ্রুভ করবেন।

প্রশ্নঃ সাইটে কতগুলো কন্টেন্ট থাকতে হবে? 
অনেকেই ৮-১০ টা কনটেন্ট দিয়েই এডসেন্সে আবেদন করে থাকেন আর ভাবেন আগে এডসেন্স পাই তারপর বেশি কনটেন্ট দিব। এটা একটা বড় ধরনের ভুল। কেননা পর্যাপ্ত কনটেন্ট না থাকলে গুগল কখনোই আপনার এডসেন্স একাউন্ট এপ্রুভ করবে না। কাজেই আপনাকে মিনিমাম ৩০-৪০ টা ভালো কনটেন্ট দিয়ে গুগল এডসেন্সে আবেদন করতে হবে। প্রত্যেকটি কনটেন্ট মিনিমাম ৩০০ থেকে ১০০০ ওয়ার্ডের হতে হবে এবং চেষ্টা করবেন ১৫০০,২০০০,২৫০০,যত বেশি লিখতে পারেন।

প্রশ্নঃ  সাইটে লোকাল কোন অ্যাড বসানো যাবে কিনা? 
গুগল এডসেন্স কখনোই একাধিক ঝামেলা পছন্দ করে না। তাই আপনার সাইটে অন্য কোন এড নেটওয়ার্ক কোম্পানির এড থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। তারপর ফ্রেশ ভাবে এডসেন্সে এপ্লাই করুন। এডসেন্স পাওয়ার পর আপনি আবার অন্য কম্পানির অ্যাড ব্যবহার করতে পারেন।তবে একটা পেজে একধিক এড থাকলে মানুষ বিরক্ত হয় ফলে আপনার সাইটের ভিজিটর কমে যাবে।

প্রশ্নঃ সাইটে কি ইউনিক ভিজিটর জরুরী? 
আপনার সাইটে অ্যাডসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা তখনই বেড়ে যায় যখন আপনার সাইটে প্রতিদিন নতুন বা ইউনিক ভিজিটর আসতে থাকবে। তাই আপনার সাইটের SEO করার মাধ্যমে সাইটে প্রতিদিন নতুন নতুন ভিজিটর নিয়ে আসুন।কেননা ভিজিটর ছাড়া একটি সাইট মেরুদণ্ডহীন।

প্রশ্নঃ সাইটে  ডোমেইনের বয়স কত মাস হতে হবে?
অনেকেই বলে থাকেন এডসেন্স পাওয়ার জন্য সাইটের বয়স ৬ মাস হতে হবে,আবার অনেকেই বলে থাকেন মিনিমাম ৩ মাস বয়স হতে হবে। আসলে অনেক সাইটে ২-১ মাসের মধ্যেই এডসেন্স এপ্রুভ হয়ে যায়। অর্থাৎ একটি সাইটে পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলে এবং সব কিছু  ঠিকঠাক থাকলে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ হয়ে যাবে।



কিভাবে ইউটিউব থেকে  আয় করবেন খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনাঃ

কিভাবে ইউটিউব থেকে  আয় করবেন খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা,ইউটিউব কি?ইউটিউব থেকে আয়,কিভাবে ইউটিউবে চ্যানেল খুলবেন,ইউটিউব থেকে আয়ের প্রধান প্রধান উৎস,গুগল ইউটিউব এডসেন্স,এফিলিয়েট মার্কেটিং,বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ,স্পন্সরড ভিডিও,কিভাবে ইউটিউবে সফল হবেন,কিভাবে ইউটিউবে এডসেন্স এপ্রুভ করাবেন,ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার ১০ টি সেরা আইডিয়া,ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা যায়,ইউটিউব এডসেন্সের গাইডলাইন,ইউটিউব এডসেন্স পাওয়ার শর্তাবলী, ইউটিউব কপিরাইট আইন,ইউটিউব কমুনিটি গাইডলাইন,

 আজ আপানাদের ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার জন্য কিভাবে ভেরিফাইড চ্যানেল খুলতে হবে সেটি বিস্তারিত আলোচনা করব। প্রথমেই বলে নেই ইউটিউব এডেসেন্স পাওয়া তেমন কঠিন কিছু না।আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আর সেই অনুযায়ী কাজ করলে পেয়ে যাবেন। তো চলুন দেরি না করে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যাক।

ইউটিউব কি?

ইউটিউব হলো বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে বৃহৎ ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট । যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ নতুন নতুন ভিডিও পাবলিশ হয় । এবং প্রতিদিন সারা পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ এইসব ভিডিও দেখার জন্য ইউটিউবে ভিজিট করে থাকে। এই ভিডিও গুলো ইউটিউবের নিজস্ব পণ্য না। বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগতভাবে ভিডিও আপলোড করে। যার ফলে ইউটিউব থেকে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ঐ সকল প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত ইউটিউবার রা অর্থ উপার্জন করে থাকে।

ইউটিউব থেকে আয়ঃ

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে শুধুমাত্র আপনার থাকতে হবে একটি ইউটিউব চ্যানেল । যেকেউ সেটি সর্ম্পূণ ফ্রিতে খুলে নিতে পারে। তাই দেরি না করে আপনিও একটা ইউটিউব একাউন্ট এখনই খুলে ফেলুন।


কিভাবে ইউটিউবে চ্যানেল খুলবেনঃ

ইউটিউব চ্যানেল খোলার জন্য আপনার লাগবে একটি জিমেইল একাউন্ট । এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে শুধু মাত্র জিমেইল একাউন্ট দিয়েই চ্যানেল খুলতে হয়। তবে আপনার অবশ্যই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স হতে হবে। ১৮ বছরের নিচে বয়স হলে ইউটিউব এডসেন্স পাবেন না। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বাবা অথবা মায়ের ভোটার আইডি দিয়ে জিমেইল খুলতে পারেন। আপনার যদি ১৮ বছর বয়স হয় তাহলে তো কথায় নেই।  তবে সঠিক নাম বয়স তারিখ ঠিক রেখে জিমেইল একাউন্ট খুলতে হবে। এবং যেই মোবাইল নাম্বারটি আপনি সারা জীবন ব্যবহার করবেন সেটি দিয়েই জিমেইল একাউন্ট ভেরিফিকেশন করুন। এই জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে ইউটিউবে লগইন করো। সেখানে ‘Create Channel’ পাবে। তার মাধ্যমে নিজের চ্যানেল তৈরি করো। এবার একটি ভালো প্রোফাইল পিকচার এবং কভার ফটো অ্যাড করো । এবং তোমার নিজের ক্যামেরায় তৈরি যে কোনো ফুটেজ আপলোড করো। এইতো আপনার অর্ধেক কাজ শেষ।



গুগল ইউটিউব এডসেন্সের গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলীঃ  

ইউটিউব থেকে আয়ের অন্যতম উৎস হলো গুগল এডসেন্স। তবে ইউটিউব থেকে এডসেন্স পেতে হলে কিছু শর্ত পুরন করতে হয়। তার আগে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ হয় না। শর্তগুলো হলোঃ

  1. ১ বছরের মধ্যে ৪০০০ হাজার ওয়াচ টাইম হতে হবে।
  2. ১বছরের মধ্যে ১ হাজার সাবস্ক্রাইব হতে হবে।
  3. অন্যের ভিডিও আপলোড করা যাবে না।
  4. বর্তমানে স্লাইড শো ভিডিও এর গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে।
  5. ইউটিউবের সকল গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। ইউটিউব গাইডলাইন লিঙ্ক Community Guidelines here

ইউটিউব থেকে আয়ের প্রধান প্রধান উৎসঃ 

ইউটিউব থেকে আয়ের বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে। সেগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করব।

এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ 

ইউটিউবের ভিডিও এর মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অনলাইনে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের পণ্য আপনার ভিডিও এর মাধ্যমে সেল করে দিলে পারসেনটেজ অনুযায়ী টাকা প্রদান করে থাকবে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জনপ্রিয় হলো আমাজন,আলি এক্সপ্রেস,ডারাজ,পিকাবু,আরও অনেক হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিভিন্ন পণ্যের রিভিউঃ 

 বর্তমানে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এই সুবিধাটি দিয়ে থাকে। ধরো তুমি তোমার কোনো একটি ভিডিওতে তাদের পণ্য সম্পর্কে আলোচনা করলে । এক্ষেত্রে তাদের পণ্যের প্রচারণা হয়ে যাবে, আর তারা তোমাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। তবে এই ধরনের অফার শুধুমাত্র মানসম্মত এবং অধিক ভিউ সম্পন্ন ভিডিও মালিকগণ পেয়ে থাকেন।


স্পন্সরড ভিডিওঃ

ইউটিউব অ্যাড অথবা অ্যাফিলিয়েট লিংক  হতে যে পরিমাণ আয় করা সম্ভব তার থেকেও বেশি আয় করা সম্ভব শুধু স্পন্সরড ভিডিও পাবলিশ করে।এক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট বা সেবার বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য তোমার চ্যানেলে প্রোডাক্ট বা সেবাটির স্পন্সরড ভিডিও করার জন্য যোগাযোগ করবে এবং তোমাকে ঐ প্রোডাক্ট বা সেবার বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা তুলে ধরে একটি ভিডিও তৈরি করে তা ইউটিউবে পাবলিশ করতে হবে। এক্ষেত্রে তোমার ফ্যান ফলোয়ার যারা আছেন তারা ওই প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে। এর বিনিময়ে কোম্পানি প্রতি মাসে তোমাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।তবে এই ধরনের সুযোগ সুবিধা অধিক জনপ্রিয় চ্যানেলগুলোই পেয়ে থাকে।



ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার ১০ টি সেরা কন্টেন্ট আইডিয়াঃ 

কিভাবে ইউটিউবে সফল হবেনঃ 
অনেকেই ইউটিউবে অনেক দিন ধরে লেগে থেকেও অনেক ভিডিও আপলোড করা সত্ত্বেও সফলতার দেখা পাচ্ছে না । ইউটিউবে এরকম অনেক মানুষেরই হয়ে থাকে যে আপনি অনেক দিন যাবত ইউটিউবে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত ভালো ভালো ভিডিও আাপলোড করছেন তবুও ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারটা বুজতে হলে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

সঠিক টপিক বাছাই করার উপায়ঃ 
ইউটিউবে সফল হতে হলে আপনাকে সবার প্রথমে একটি টপিকের উপর ভিডিও বানাতে হবে। এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনি যখন একটি নির্দিষ্ট টপিকরে উপর ভিডিও করতে থাকবেন। তখন আপনার চ্যানেলটি দর্শকদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে ,কারণ তখন কোনো দর্শক যখন আপনার চ্যানেলে একবার প্রবেশ করবে তখন সে যদি দেখে আপনার চ্যানেলে একই  বিষয়ের উপর বিস্তারিত সব ভালো তথ্য দেওয়া আছে তখন সে আবশ্যই সেই বিষয়টা জানার জন্য আপনার চ্যানেলটিকেই সবচেয়ে  বেশি বেশি প্রধান্য দেবে তাই একটি টপিকের উপর ভিডিও তৈরি করা সবচেয়ে উত্তম। তবে আপনি বিভিন্ন টপিকের উপরে পার্ট বাই পার্ট ভিডিও বানাতে পারেন যাতে পাবলিক আপনার ভিডিও দেখে বিরক্ত না হয়। ইউটিউব কন্টেন্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনাদেরকে ১০ টি ধারনা নিচে প্রদান করব।

১.ফানি ভিডিও:আপনি মজার মজার বিভিন্ন ফানি ভিডিও তৈরি করতে পারেন। যা অতি জনপ্রিয় একটি টপিক।

২.রিভিউ ভিডিও: আপনি বিভিন্ন ইলেক্টিকেল যন্ত্রপাতির রিভিউ দিতে পারেন । যেগুলো কেমন হবে কোনটা ভালো কোনটার কাজ কেমন ইত্যাদি । এই টপিকটা ও বেশ জনপ্রিয়।ইচ্ছা করলে প্রসাধনী টপিকের উপর রিভিউ করতে পারেন

৩. খাবার রেসিপি: আপনি বিভিন্ন ধরণের খাবার রেসিপ বানিয়ে সেটা ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন যা দেখে অনেকে রান্না শিখতে পারবে। এটাও বেশ জনপ্রিয় একটি টপিক। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য এটা বেশ ভালো একটি টপিক। এবং এই বিষয়ের উপরে অনেক ইউটিউবার ব্যাপক সফলতা পেয়েছে।

৪.টেকনোলজি:  আপনি বিভিন্ন নতুন নতুন এন্ড্রইড মোবাইল বা ল্যাপটপ টেকনোলজি আপডেট নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন।

৫.টিউটেরিয়াল: প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এর টিউটোরিয়াল নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন। এতে আপনি নিজে যেমন শিখতে পারবেন সাথে আপনার ভিডিও দেখে অনেক মানুষ উপকৃত হবে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় ইউটিউবার রা টিউটোরিয়াল বানিয়ে জনপ্রিয় হয়েছে এমনকি প্রচুর ইনকাম করছে। আমি তো অনেকের নাম জানি।

৬.মটিভেশনাল বক্তব্য: আপনি বিভিন্ন  মোটিভেশনমূলক বা শিক্ষামূলক ভিডিও  করে মানুষদেরকে উৎসাহিত করতে পারেন।

৭.জীবন কাহিনী: আপনি বিভিন্ন  মানুষের জীবন কাহিনী নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন বিশেষ করে জনপ্রিয় মানুষের জীবন কাহিনী।

৮.ইতিহাস ঐতিহ্য: আপনি বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা বা ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

৯.মানুষের অভিজ্ঞতা: মানুষের উপর বিভিন্ন  অভিজ্ঞতামূলক ভিডিও আপলোড করতে পারেন।সেখান থেকে আপনিও কিছু শিখতে পারলেন সেই সাথে ভিজিটর রা অনেক কিছু শিখতে পারবে।

১০.ভ্রমণ বিষয়ক ভিডিও: আপনি যদি বিভিন্ন  জায়গায় ভ্রমন করতে পছন্দ করেন তাহলে সেই সকল জায়গার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বা বিষয়গুলি ভিডিও ধারণ করতে পারেন। তারপর ভিডিও এর সাথে কিছু আলোচনাও করতে পারেন। আর কত আইডিয়া দেব আপনাদের মাথা থেকে কিছু বের করেন। হা হা হা


ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা যায়ঃ
বেশিরভাগ মানুষই ইউটিউবিং শুরু করার আগে এ কথাটা চিন্তা করে থাকে যে ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা যায়। এই চিন্তা মাথায় থাকলে আপনার ইউটিউবে আসার দরকার নেই। বাড়ি গিয়ে মুড়ি খাও আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চিন্তা কর। এই চিন্তা না করে কাজে লেগে যাও ভালো কাজ কর ইনকাম আপনার হবেই। সবাই করতে পারছে আর আপনি পারবেন না কেন? তবে এতটুকু বলতে পারি খুব ভালমানের ইনকাম করা যায়। কারণ আমারও ইউটিউব চ্যানেল আছে আমিও সেখান থেকে যা ইনকাম করি তাই দিয়ে রাজার হালে চলছি। আমার ইউটিউব চ্যানেলের নাম HiddenFolksWorld লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলেই সাথে সাথে পেয়ে যাবে। তবে সঠিক বানান লিখে সার্চ করবেন।

এতোক্ষণ  আমরা ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করার উপায়গুলো  জানলাম। এবার জেনে নিই কিছু কৌশল যা ব্যবহার করে আমরা পেতে পারি অধিক আয়।
  • নিয়মিত নিত্য নতুন ভালো মানের ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে চ্যানেলের ভিউয়ার  বাড়তে থাকবে।
  • নতুন ভিডিও আপলোড করার পর সাথে সাথে ভিডিওটি সম্পর্কে তার নিচে বর্ণনা দিয়ে দিতে হবে। তাহলে ইউটিউব সহজেই সেই ভিডিওটি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবে।
  • ভিডিও টাইটেলটি যাতে আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে যেন টাইটেলের সাথে ভিডিও মিল থাকে। 
  • ভিডিও পাবলিশ করার পর বিভিন্ন  সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম যেমন-ফেইসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি সাইটগুলোতে ভিডিওটি শেয়ার করা যেতে পারে।
  • তুমি যে বিষয়ে  ভিডিও তৈরি করেছো এরকম অন্য জনপ্রিয় সাইটগুলোতে তোমার ভিডিওটির লিংক দিয়ে দিতে পারো । এতে করে সেখান থেকেও তোমার ভিডিওতে প্রচুর ভিজিটর পেয়ে যাবে।
  • আরেকটি উপায় হচ্ছে SEO টেকনিক ব্যবহার করা। SEO মানে হচ্ছে Search Engine Optimization. প্রত্যেকটি ভিডিও তে ৩-৪ টি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবে  এমন কিছু কমন শব্দ ব্যবহার করা যা সকল শ্রেণীর মানুষ সার্চ করে। 
সবশেষে আমি আপনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই। সেটি হলো ইউটিউব চ্যানেল বানানোর পরপরই কিন্তু হাতে টাকা টাকা ইনকাম হবে না। খুব ধৈর্য ধরে এবং আপনভাবে ভক্তির সাথে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।আর সবসময় গুগল এডসেন্সের শর্তাবলি মেনে চলতে হবে।  আর কখনও  ভুলেও ইউটিউবের পলিসি টার্মস এন্ড কন্ডিশনে আঘাত করে এরকম কোনো প্রকার ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা যাবে না।



গুগল এডসেন্স নিষিদ্ধ  এড়াতে কি কি উপায় অবলম্বন করবেনঃ  

বর্তমানে বাংলাদেশ সহ অনেক পৃথিবীর অনেক দেশেই গুগল এডসেন্স ভালো মানের ইউটিউব,ওয়েবসাইট বা ব্লগ না হলে এপ্রুভ করছেনা।বর্তমানে ইউটিউবের ক্ষেত্রে ১ বছরে ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ টাইম এবং ১০০০ হাজার সাবস্ক্রাইব লাগবে। অন্যদিকে ব্লগ বা ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়স হতে হবে। এখন আপনার যদি একটা গুগল এডসেন্স একাউন্ট নামক সোনার হরিণ থাকে আর হঠাত করে যদি সেই একাউন্ট ব্যান হয়ে যায় তাহলে কেমন লাগবে?
 কিছু ব্যাপার না জানার কারনে এডসেন্স ব্যান হয়… তখন মন মানুষিকতা ই নষ্ট হয়ে যায়। এডসেন্স খুব ই সংবেদনশীল একটা ব্যাপার। আর এ ব্যাপারে যদি সঠিক নিয়ম কানুন  অনুসরণ করতে হয়। আজ আমার এই পোষ্টটি এডসেন্স ব্যান ঠেকানোর বিস্তারিত ব্যাপার নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে। কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।


  • নিজের এড এ নিজে কখনই ক্লিক করবেন না এতে অতিমাত্রায় Invalid Clicks ও Impressions বাড়ে যা এডসেন্স ব্যান হওয়ার অন্যতম কারণ।
  • বন্ধু বা পরিচিতদের ও আপনার সাইটের এড এ ক্লিক করতে অনুপ্রাণিত করবেন না।
  • সাইবার ক্যাফে বা বন্ধুর পিসি’তে আপনার এডসেন্স একাউন্টে লগিন করা থেকে বিরত থাকুন যার ফলে আপনার সাইট নিয়ে গুগল সংশয়ে পড়বে। 
  • নোংরা বা পর্নগ্রাফি টাইপের সাইটে এবং হ্যাকিং ও ক্রেকিং বিষয়ক সাইটে এডসেন্সের এড বসাবেন না (অন্যের ডাউনলোড লিংক ব্যাবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক হোন)।
  • কোন  সহিংস, হত্যা, ক্রাইম, অস্ত্র বিক্রি রিলেটেড কনটেন্ট নিয়ে লেখা সাইটে এড বসানো যাবেনা যা কিনা গুগলের কাছে ইলিগেল বলে বিবেচিত। 
  • কপিরাইট আইনে পড়ে এমন সাইটে এড বসানো যাবেনা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
  • গুগল চায় কন্টেন্ট আর অবশ্যই ভালো মানের ইউনিক কন্টেন্ট, সুতরাংঅন্যের কন্টেন্ট কপি পেস্ট এডসেন্স ব্যান হওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে। কনটেন্ট হীন পাতায় এ্যাড বসাবেন না এবং পেজে হিডেন টেক্সট ও লিংক ব্যবহার করবেন না। 
  • ভিজিটরকে কখনই এড এ ক্লিক করার জন্য উৎসাহিত করবেন না। বিভিন্ন লেখার (Click here,Click this) মাধ্যমে এড এ ক্লিক করতে অনুপ্রাণিত করবেন না। 
  • সাইটে র বাজে  ডিজাইন, অপ্রয়োজনীয় Widgets ব্যবহার করা ঠিক হবে না। যা এডসেন্স ব্যান হওয়ার কারন হতে পারে। 
  • পোস্টে অতি মাত্রায় H2 Tag এর ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন
  • নিয়মিত আপনার এডসেন্স একাউন্ট ভালভাবে চেক করবেন। 
  • হঠাৎ করে কেন আপনার ব্লগে ক্লিক বেড়ে গেল তা চেক করবেন। চেক করে সেটি এডসেন্সকে মেইল করে জানান।মেইল করার ঠিকানা Invalid Activity Appeal মেইল করলে এডসেন্স সেই আইপিটি ব্লক করে দিবে। আর তখন আপনার একাউন্টটি নিরাপদ থাকবে। 

এডসেন্স ব্যান এড়াতে উপরের বিষয়গুলো খুব মনোযোগ সহকারে দৃষ্টি দিন ইনশাআল্লাহ্‌ আপনার এডসেন্স সুরক্ষিত থাকবে।এতক্ষণ আমার এই পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ সবাই ভালো থাকবেন।আর আমার জন্য দোয়া করবেন । আর অবশ্যই এই আর্টিকেলটি শেয়ার করে আপনার বন্ধু বান্ধুবিদের পড়ার সুযোগ করে দিবেন।  আর কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। "আল্লাহ হাফেজ"  


Rea es:
শেয়ার করুন

Author:

আমি একজন অতি সামান্য মানুষ। পেশায় একজন লেখক,ব্লগার এবং ইউটিউবার। লেখালেখি করতে খুব ভালো লাগে। আমার এই সামান্য প্রয়াসের মাধ্যমে মানুষের কিছু শেখাতে পারা ও বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে আনন্দ খুঁজে পায়।

4 comments:

  1. Sir আমাকে একটু সাহাজ‍্যো করবেন আমি একদম নোতুন দয়াকোরে আমাকে সাহাজ‍্যো কোরুন আমার ফোন নামবার টা হলো 7908490918 আমি খুব সমস‍্যার মদ্ধে আছি

    ReplyDelete
  2. আমার ওয়েবসাইটের একদম উপরে ডান কর্নারে ফেসবুক পেজ লিঙ্ক করা আছে ওখান থেকে লাইক করে আমার ফেসবুক পেজে মেসেজ পাঠান। অথবা আমার ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রবেশ করলে মেসেঞ্জার বাটন দেখতে পারবেন সেখান থেকে আপনার সমস্যার কথা মেসেঞ্জারে লিখে পাঠিয়ে দিন।

    ReplyDelete
  3. একটা ব্লগের প্রাণ শক্তি হল এর ট্র্যাফিক। ভালো ট্র্যাফিক মানে ঐ ব্লগের জনপ্রিয়তা অনেক,ফলে এডসেন্স থেকে ইনকামের পরিমাণ ও বেশি। তবে ব্লগে ভিজিটর বৃদ্ধির একমাত্র উপায় হল, তথ্যপূর্ণ কন্টেন্ট দেয়া যা আপনার রিডারের সমস্যার সমাধান করে।
    ভালো লাগলো লেখাটি পড়ে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমাদের সাথেই থাকুন।

      Delete