মন্দির ও গির্জায় অমুসলিমদের দান করা যাবে কিনা?

মন্দির ও গির্জায় অমুসলিমদের দান করা যাবে কিনা?

মন্দির ও গির্জায় অমুসলিমদের দান করা যাবে কিনা। 
অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে বা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা যাবে কিনা?অমুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সহোযোগিতা চাইলে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করা যাবে কিনা? আজকের এই সকল বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করা হবে। কাজেই আমাদের সাথেই থাকুন।

পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হল, সাহায্য-সহযোগিতা হতে হবে শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। (সূরা মায়েদা ২)

উক্ত মূলনীতির আলোকে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে বা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা জায়েয হবে না।

আল্লামা ইবন নুজাইম মিসরি রহ. বলেন,

( والإعطاء باسم النيروز والمهرجان لا يجوز ) أي الهدايا باسم هذين اليومين حرام بل كفر , وقال أبو حفص الكبير رحمه الله لو أن رجلا عبد الله خمسين سنة ثم جاء يوم النيروز , وأهدى لبعض المشركين بيضة ، يريد به تعظيم ذلك اليوم ، فقد كفر , وحبط عمله

নওরোজ ও মেলার নামে কিছু দেয়া নাজায়েয। অর্থাৎ এ দুই দিনের নামে প্রদত্ত হাদিয়া হারাম; বরং কুফর। আবুল আহওয়াছ আল-কাবির রহ. বলেন, যদি কোন ব্যক্তি পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদত করার পর নওরোজের দিন এসে কতিপয় মুশরিককে কিছু উপহার দেয় এবং এ উপহারের মাধ্যমে এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে এবং তার সব আমল বরবাদ হয়ে যাবে। (তাবইনুল হাকায়েক ৬/২২৮)

ফাতাওয়া শাবাকাতুল ইসলামিয়াতে (ফতওয়া নং ৪৭০১৬) এসেছে,

حكم مشاركة المسلم في بناء كنيسة يعمل أوتبرع غيرجائِزلأنه على الباطل

গির্জা বানানোর সময় কাজের মাধ্যমে কিংবা দানের মাধ্যমে শরিক হওয়া মুসলিমের জন্য জায়েয নয়। কেননা, এতে বাতিলের সহযোগিতা হয়।

 অনেক সময় মুসলিমরা বিভিন্ন কারণে মন্দির ইত্যাদিতে সাহায্য করতে বাধ্য হয়। এরুপ পরিপ্রেক্ষিতে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে কিংবা তার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে মর্মে ফতওয়া দেয়া যাবে না। তবে কাজটি নিঃসন্দেহে অন্যায় ও ঈমানের দুর্বলতার আলামত। তাই কেউ করে ফেললে তাওবা করতে হবে। (ফাতাওয়া রাহিমিয়া ১/৬৮)

মুসলমানের উচিত তার ধর্ম নিয়ে গর্ববোধ করা। ধর্মীয় বিধানগুলো বাস্তবায়ন করা। লজ্জাবোধ করে অথবা সৌজন্য দেখাতে গিয়ে এক্ষেত্রে কোন শৈথিল্য না দেখানো। বরং আল্লাহকে লজ্জাবোধ করা অধিক যুক্তিযুক্ত।

          এই বিষয়ে নিচের ভিডিও ফুটেজ টি দেখতে পারেন 

No comments

Powered by Blogger.