বাবা কত প্রকার কি কি? ভন্ড বাবাদের মুখোশ উন্মোচন।

হ্যালো বন্ধুরা, আপনারা কি বলতে পারেন পৃথিবীতে বাবা কতজন হয়। আমার জানা মতে বাবা তো একজনই হয়। এছাড়াও কোন নারী ও পুরুষ বিয়ে করলে শশুর মশাই কে বাবা হিসেবে সম্বোধন করা হয়।  এর বাইরেও বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছ হরেক রকমের বাবা।  রীতিমত অনেক মানুষই এই সকল বাবাদের ব্যাপক ভক্ত।  আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারবেন বাবা কত প্রকার কি কি? ভন্ড বাবাদের মুখোশ উন্মোচন। তাই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইল।

১। বিড়ি বাবাঃ

 বাবা কত প্রকার কি কি? ভন্ড বাবাদের মুখোশ উন্মোচন।

 কুমিল্লার বড়ুয়া থানার খোশবাস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক যিনি বিড়ি বাবা নামে অধিক পরিচিত। তিনি এমন এক আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী যার চিকিৎসা ব্যবস্থায় সকল ধরনের রোগ ভালো হয়ে যায়। তবে তার চিকিৎসা ব্যবস্থা অন্যদের চেয়ে আলাদা ও অভিনব পদ্ধতি। তার চিকিৎসা ব্যবস্থার একমাত্র ঔষধ হল বিড়ি। তার হাতের ১০ টা বিড়ি খেলে সকল ধরণের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সর্দি,জর,যক্ষা,ডায়বেটিস এমনকি ক্যান্সার হলেও তার দেওয়া বিড়ি খেলে সব রোগ নিমিষেই পালিয়ে যায়। এছাড়াও পারিবারিক ঝগড়া,বিবাদ ঝুট ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে বিড়ি বাবার দরবারে এসে বিড়ি ফোকালে সেই পরিবারে শান্তি চলে আসে।

এই বিড়ি বাবার কারিশমায় ছোট ছোট বাচ্চাদের ও রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিড়ি টানতে হয়। আর যারা বিড়ি টানতে না পারে তাদেরকে তামাক পানিতে গুলিয়ে খাওয়ায় দেওয়া হয়। বাবার সমস্ত রোগের ঔষধ একমাত্র বিড়ি। এটা নাকি বাবার তাবারক। ভক্তকুলের সাথে বাবাকেও বিড়ি ফোঁকাতে দেখা যায়। কিন্তু একটু লক্ষ্য করে দেখুন তিনি বিড়ি না ফুকিয়ে সমান তালে অভিনয় করে যাচ্ছে। যেখানে বিড়ি খেলে মানুষের মৃত্যুর ঝুকি বহুগুন বেড়ে যায় সেখানে বিড়ি বাবার বিড়ি খেলে সব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর এসব ভন্ড বাবার গাঁজাখুরি ব্যবসায় তাল দিয়ে যাচ্ছে বাঙালি ভক্তকুল। হায়রে অশিক্ষিত সমাজ।

২। হজ বাবাঃ

 বাবা কত প্রকার কি কি? ভন্ড বাবাদের মুখোশ উন্মোচন।

মুসলিম উম্মাহদের হজ্জ পালনের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যেতে হয় মক্কা মদিনায়। অথচ মাত্র কয়েকশ টাকা খরচ করেই বাংলাদেশেই হজ পালন করা যায়। আপনার হয়তো বিশ্বাস হচ্ছে না।  ঢাকার অদূরে দোহারে হজ বাবার আয়োজনে প্রতিবছর ৯ সেপ্টেম্বর কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে হজ পালন করা হয়। এ সকল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বারোটা বাজাচ্ছে তথাকথিত হজ বাবা ও তার ভক্তকুল। হজ বাবার প্রধান সাঙ্গপাঙ্গ হল নারী। সারা বছর জুড়ে হজ বাবার কাবা ঘরে থাকে নারীদের আনাগোনা। এছাড়াও তার অনেক নারী ভক্তকুল তার খেদমতে সমস্ত শরীর সারাক্ষণ টিপে দেন। এই হজ বাবা নামের ভন্ড প্রতারকের কারণে আমাদের পবিত্র কাবা শরীফকে অবমাননা করা হচ্ছে। জানিনা এর ভক্তকুল কারা তারা কি গাঁজা খেয়ে হজ পালন করে আর প্রশাসন কি তাদের তামাশা দেখে আপনাদের কাছে প্রশ্ন রইল।


৩। নাচ বাবাঃ 

 বাবা কত প্রকার কি কি? ভন্ড বাবাদের মুখোশ উন্মোচন।

আরেক ভন্ড বাবার সাম্রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্থপুর থানার পারবর্তীপুর গ্রামে। যেখানে বড় বড় এম বি বি এস ডাক্তার রোগীদের চিকিৎসা করতে ব্যর্থ সেখানে নাকি নাচ বাবার চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায় সমস্ত রোগ। তাই তার ভিজিট ও অনেক গুন বেশি এক একজন রোগীর জন্য ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন তিনি। নাচ বাবার অভিনব চিকিৎসা পদ্ধতি দেখতে তাই জড়ো হয়েছে গ্রামের সকল নারী ও পুরুষ। তার চিকিৎসা পদ্ধতি হল রোগীকে একটি আসরে বসিয়ে রোগীর চারপাশে নাচ গান করা। আর এই নাচ গানের ফলে রোগী নাকি সুস্থ হয়ে যায়। এই নাচ বাবার ভন্ডামি গ্রামের মানুষ খুব যত্ন সহকারে দেখছে আর মজা লুটছে। কিন্তু বাস্তবে কতটা বাশ যাচ্ছে যে রোগী সেই ভাল জানে। আমার মনে হয় নাচ বাবা গাঁজা তো খাইছেই সেই সাথে সাথে গ্রামের মানুষ জনও গাঁজা খেয়ে তামাশা দেখছে। এই মজমায় সবগুলোরে কি বাশ দেওয়া যায় কমেন্ট করে জানাবেন।

৪। আগুন বাবাঃ  

 বাবা কত প্রকার কি কি? ভন্ড বাবাদের মুখোশ উন্মোচন।

কুমিল্লায় বসবাসরত আরেকজন ভন্ড প্রতারকের নাম হল জয়নাল কবিরাজ ওরফে আগুন বাবা। তিনি একজন  বিখ্যাত ফকির,সাধক ও মন্ত্র বশীকরণ বাবা হিসেবে অধিক পরিচিত। তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতার মধ্যে অন্যতম হল তিনি যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকাতে পারেন। মাত্র ৫০০ টাকা দিলেই বন্যা, ঝড় ঠেকিয়ে দেন। এ যেন এক আধ্যাত্মিক খমতার মালিক। এছাড়াও বিভিন্ন রোগ ও জিন আছর থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পারেন। এই ভন্ড আগুন বাবার পানি পড়া খেলে আর কোন ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না। বাঙালি পাবলিক যেমন তেমনি ভন্ড বাবারাও খুলে বসেছেন ভন্ডামির আসর। এতে আর আগুন বাবার দোষ কি?এই আগুন বাবার কাছে যে সকল মানুষ চিকিৎসা করতে যায় তাদের মদ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। শালার মূর্খ পাবলিক।

৫। লাঠি বাবাঃ 

 বাবা কত প্রকার কি কি? ভন্ড বাবাদের মুখোশ উন্মোচন।

কুমিল্লার চান্দিনা বাস স্ট্যান্ডে বসে থাকেন লাঠি বাবা। তার নাম ধাম বেশ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দূর দুরন্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে তার কাছে চিকিৎসা নিতে। অনেকের মতে তার সুনজরে যানবাহন নিরাপদে চলাচল করতে পারে। কোন গাড়ি চালকের উপরে লাঠি বাবার কুনজর পড়লে তার  মেলে দুর্ঘটনা। তিনিও সব রোগের চিকিৎসক।   বিভিন্ন ধরণের তাবিজ ও ঝাড় ফুক দিয়ে সরল সহজ মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সর্বশেষ একটা কথায় বলবো এই ধরণের ভন্ড বাবারা আমাদের সমাজ ও দেশের ক্ষতি করছে।  এমনকি সরল সহজ মানুষদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাই  আপনারা এই সকল ভন্ড বাবাদের থেকে দূরে থাকুন। আর একটা কথা না বলেও পারছি না এই সকল ভন্ড বাবারা তাদের ভন্ডামির সাম্রাজ্য বাড়াচ্ছে আর প্রশাসন কি ঘোড়ার ঘাস কাটছে। নাকি এদের পেছনের অন্তরালে রয়েছে আরও বড় বড় ভন্ড বাবাদের দল। যাই হোক আমাদের সাধারণ মানুষের হতে হবে সচেতন।

আরও বিস্তারিত জানতে অবশ্যই নিচের ভিডিও টি দেখুনঃ 

No comments

Powered by Blogger.